{{ news.section.title }}
জবি শিবিরের তিনদিন ব্যাপী আয়োজনের দ্বিতীয় দিনের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের তিনদিন ব্যাপী আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে ব্যবসায় শিক্ষা ও চারুকলা ইনস্টিটিউট বিভাগের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।
সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে দুপুর ১টায় তিন দিনব্যাপী নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, তিন দিনব্যাপী নবীনবরণ অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে (২৮ জুন) কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণের মাধ্যমে এটি শুরু হয়। দ্বিতীয় দিনে ব্যবসায় শিক্ষা, চারুকলা ও ইনস্টিটিউট এবং তৃতীয় দিনে বিজ্ঞান ও লাইফ সায়েন্স অনুষদের নবীনবরণের মাধ্যমে এটি শেষ হবে।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের লক্ষ্য, আত্মগঠন, দক্ষতা উন্নয়ন ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, "তোমরা আমাদের আশার আলো, তোমাদের মাধ্যমে আমরা আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলব সে প্রত্যাশা রাখি। তোমরা হলে এমন একটি প্রজন্ম যারা জুলাই বিপ্লবের পরে ক্যাম্পাসে এসেছ। এবং আমরা একটা ক্যাম্পাস রেখে গেলাম। জুলাই বিপ্লব হয়েছে, এরপরে বিপ্লবের পরবর্তী তোমরা ক্যাম্পাসে এসেছ। তোমাদের অ্যাক্টিভিটিসের উপরে অনেক কিছু নির্ভর করছে। তোমরা কি আগের মতোই এ ক্যাম্পাসগুলোকে চালাবে নাকি তোমরা এখানে নতুন কিছু দিবা? আগামী ৫টা বছর তোমাদের জন্য এটা অপেক্ষা করছে। আমি বিশ্বাস করি যে তোমাদের কাছ থেকে আমাদের দেশ এবং জাতি অনেক কিছু পাবে ইনশাআল্লাহ।"
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, "সম্মানিত শিক্ষার্থী ভাই-বোনেরা, আমরা এখানে এসেছি একটি সুন্দর স্বপ্ন নিয়ে, একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে। আল্লাহ তাআলা আমাদের মেধা, যোগ্যতা ও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দিয়েছেন। তাই এই নেয়ামতের যথাযথ শুকরিয়া আদায় করতে হবে আমাদের মেধা, মননশীলতা ও নৈতিকতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে। আমাদের শুধু নিজের জন্য নয়, যেসব মানুষ ও শিক্ষার্থী এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদের জন্যও কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় থাকতে হবে। মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে আগামী বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, "সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে দক্ষতার গুরুত্বও বদলে যায়। একসময় মানুষ চীনা ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা বুঝত না, কিন্তু আজ চীনের উত্থান প্রমাণ করেছে যে ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখা কতটা জরুরি। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং ব্যক্তিগত জীবনে সততা, নৈতিকতা ও নিজ নিজ ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুসরণ করার পরামর্শ দেন।"
তিনি আরও বলেন, "সৃষ্টিকর্তা মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য যে নিয়ম-নীতি দিয়েছেন, তা মেনে চললে মানুষ সঠিক পথে থাকতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের চার-পাঁচ বছরকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগাতে পারলে ভবিষ্যতে সমাজে সম্মান ও সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। মানুষের জীবন ও সময় আল্লাহর দেওয়া একটি আমানত। এই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো প্রত্যেকের দায়িত্ব। সময়ের অপব্যবহার বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা এক ধরনের খেয়ানত।"
শাখা শিবির সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিলের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। এছাড়াও প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শামীম উদ্দিন খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের