{{ news.section.title }}
ত্বকের দাগ আত্মবিশ্বাস কমাচ্ছে?হাইপারপিগমেন্টেশনের কারণ, প্রতিকার ও সতর্কতা!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
ত্বকের নির্দিষ্ট কিছু অংশ বা নখ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কালো হয়ে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হাইপারপিগমেন্টেশন বলা হয়ে থাকে। এটি কোনো সাধারণ সমস্যা নয়, বরং ত্বকের রঞ্জক পদার্থ 'মেলানিন'-এর অতিরিক্ত উৎপাদনের ফলাফল। এটি ত্বকের স্বাস্থ্য ও কোষ নবায়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সম্প্রতি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যার বিভিন্ন কারণ ও প্রতিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন।
হাইপারপিগমেন্টেশন কেন হয়?
ত্বকের এপিডার্মিস স্তরে থাকা মেলানোসাইট কোষগুলো যখন অতিরিক্ত মেলানিন তৈরি করে, তখনই ত্বক কালো হয়ে যায়। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
☞ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি মেলানোসাইটকে উদ্দীপিত করে, যা ত্বকে কালো ছোপ তৈরি করে।
☞ ব্রণ সেরে যাওয়ার পর যে কালো দাগ থাকে (Post-inflammatory Hyperpigmentation), তা এই প্রক্রিয়ারই অংশ।
☞ হরমোনের পরিবর্তন, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে 'মেলাসমা' বা মেছতা দেখা দেয়, যা ৯০% ক্ষেত্রে নারীদের মধ্যে দেখা যায়।
☞ অন্তর্নিহিত বিভিন্ন রোগ, যেমন- অ্যাডিসন রোগ, কুশিং ডিজিজ, বি১২-এর অভাব এবং লিভারের কিছু সমস্যার কারণেও ত্বক কালো হতে পারে।
বিভিন্ন প্রকারের হাইপারপিগমেন্টেশন রয়েছে।যেমন-
১. মেলাসমা: মুখমণ্ডল এবং হাতের ওপর প্যাচের মতো দাগ দেখা যায়।
২. লেন্টিজিন: সূর্যের আলোতে দীর্ঘক্ষণ থাকার ফলে তৈরি হওয়া দাগ।
৩. লিনিয়া নিগ্রা: গর্ভাবস্থায় পেটে দেখা যাওয়া কালো রেখা।
৪. অ্যাক্যানথোসিস নিগ্রিকানস: ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কারণে ঘাড় বা বগলের ত্বক কালো ও খসখসে হয়ে যাওয়া।
চিকিৎসা:
হাইপারপিগমেন্টেশন দূর করতে বর্তমানে বেশ কিছু আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে।যেমন -
১. টপিক্যাল বা ক্রিম জাতীয় চিকিৎসা: অনেক ক্ষেত্রে টাইরোসিন নামক এনজাইমকে বাধা দিয়ে মেলানিন উৎপাদন কমানো হয়। চিকিৎসকরা হাইড্রোকুইনোন, অ্যাজেলেইক অ্যাসিড, কোজিক অ্যাসিড বা রেটিনয়েড ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এছাড়া নিয়াসিনামাইড এবং ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ সিরামও বেশ কার্যকর।
২. লেজার ও ডার্মাব্রেশন: ক্রিম কাজ না করলে উন্নত প্রযুক্তির Q-switched YAG Laser বা তীব্র স্পন্দিত আলো (IPL) ব্যবহার করে মেছতা বা গভীর দাগ দূর করা সম্ভব।
৩. গবেষণায় দেখা গেছে, প্রোসায়ানিডিন এবং ভিটামিন-এ ও ই যুক্ত ঔষধ এপিডার্মাল মেলাসমা কমাতে সাহায্য করে।
ঘরোয়া সমাধান:
☞ লেবু: লেবু ভিটামিন C সমৃদ্ধ, প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট,যা মেলানিন উৎপাদন কমায় ও দাগ হালকা করে। তুলো দিয়ে লেবুর রস লাগিয়ে ৫–১০ মিনিট পরে ধুয়ে নিন। তবে রয়েছে সতর্কতাও। লেবুর সরাসরি ব্যবহার সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা বা দাগ সৃষ্টি করতে পারে।
☞ হলুদ: কারকিউমিন উপাদান ত্বকের প্রদাহ কমায়। দই বা গোলাপজলের সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে দাগের অংশে লাগানো যায়।
সতর্কতা- হলুদ দাগ রাখতে পারে, তাই হালকা ব্যবহার বা মিশ্রণে ব্যবহার করা উচিত।
আধুনিক সমাধান:
☞ রেটিনল: রেটিনোল হলো ভিটামিন A-র ডেরিভেটিভ। এটি ত্বকের কোষ নবায়ন বৃদ্ধি করে। মেলানিন সমানভাবে বিতরণ করে, ফলে দাগ দ্রুত হালকা হয়।
সতর্কতা ও ব্যবহার: এটি রাতে ব্যবহার করা উত্তম। কারণ এটি দিনের আলোতে সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে। সপ্তাহে ২–৩ বার শুরু করে ধীরে ধীরে দৈনন্দিন ব্যবহার।সংবেদনশীল ত্বকে লালচে ভাব বা জ্বালা হতে পারে।
সানস্ক্রিন অপরিহার্য: SPF ৩০+ ব্যবহার করুন, কারণ, সূর্যের আলো মেলানিন বৃদ্ধি করতে পারে।
সুষম জীবনধারা: পর্যাপ্ত ঘুম, পর্যাপ্ত পানি ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য ত্বকের পুনর্জন্মকে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও সতর্কতা:
ত্বক ফর্সা করার ক্রিম বা রাসায়নিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। মার্কারযুক্ত ক্রিম ত্বকের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে। সূর্যের আলো থেকে বাঁচতে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং ধূমপান বর্জন করার পরামর্শ দিয়েছেন অনেক বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া ত্বকে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরী।
সর্বোপরি বলা যায়, প্রতিদিনের সানস্ক্রিন ব্যবহার, সুষম খাদ্য এবং পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে মেলানিন নিয়ন্ত্রণ নিরাপদ এবং কার্যকর।