ঢাকার বাতাসে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি, দূষণে দ্বিতীয় অবস্থানে রাজধানী

ঢাকার বাতাসে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি, দূষণে দ্বিতীয় অবস্থানে রাজধানী
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

দিনদিন এই শহরের বাতাসের মান অবনতির দিকেই যাচ্ছে - রাজধানী ঢাকা। ঢাকার বায়ু আজ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত প্রধান ১২৭টি শহরের তালিকায় ঢাকা বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার বাতাস ছিল স্পষ্টতই শ্বাস নেওয়ার জন্য অনুকূল নয়। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে আন্তর্জাতিক এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, দূষণের মাত্রায় ঢাকার স্কোর দাঁড়ায় ২৪৩ - যা বাতাসকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

একই সময়ের দূষণচিত্রে দেখা যায়, বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে মিসরের কায়রো। শহরটির একিউআই স্কোর ২৪৬, যা তালিকার শীর্ষে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঢাকার পর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, যেখানে দূষণের স্কোর ২২৩। তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা - স্কোর ২১০। আর পঞ্চম স্থানে রয়েছে মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটর, যেখানে একিউআই রেকর্ড করা হয়েছে ২০৪।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, একিউআই সূচক দিয়ে মূলত বাতাস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ - তা বোঝানো হয়। এই সূচক ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মানকে ‘মাঝারি’ হিসেবে ধরা হয়। তবে সূচক ১০১ থেকে ১৫০-এ পৌঁছালে সেটিকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

বর্তমান সূচক বলছে, ঢাকাসহ এই শহরগুলোর বাতাস সাধারণ মানুষের জন্যও ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে - যা জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, সূচক ১৫১ থেকে ২০০ - এর মধ্যে থাকলে বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়। এই পর্যায়ে সাধারণ মানুষও শ্বাসজনিত সমস্যায় ভুগতে পারেন। আর সূচক ২০১ থেকে ৩০০–এ পৌঁছালে সেটিকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়, যা শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। একিউআই যদি ৩০১-এর বেশি হয়, তখন পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক’ বলা হয় - এ অবস্থায় বাতাস বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এবং বাইরে চলাচল সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বায়ুদূষণ হওয়ার কিছু প্রধান কারণসমূহ

১। ঢাকার আশপাশের শতাধিক ইটভাটা থেকে কালো ধোঁয়া ও ক্ষতিকর কণা ছড়ায়।

২। পুরোনো ও অপ্রশাসিত যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া ।

৩। খোলা নির্মাণসাইটের ধুলাবালি বাতাসে মিশে যায়।

৪। যথাযথ ফিল্টার ছাড়া কারখানার নির্গমন ধোঁয়া।

৫। খোলা জায়গায় আবর্জনা পোড়ানো।


ক্ষতিকর উপাদানসমূহ  

১। PM2.5 ও PM10: সূক্ষ্ম কণা, যা ফুসফুসে ঢুকে মারাত্মক ক্ষতি করে।

২। নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড: শ্বাসযন্ত্র ও হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।


স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সম্ভাব্য প্রভাব


১। শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ব্রংকাইটিস

২। হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

৩। শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ বিপজ্জনক

৪। দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতি


আইকিউএয়ারের বায়ুদূষণ সংক্রান্ত বার্তায় নগরবাসীর জন্য জরুরি কিছু সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। বর্তমান দূষণ পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

১। বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে

২। খোলা স্থানে ব্যায়াম করা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে

৩। ঘরের জানালা বন্ধ রেখে ধুলা ও দূষিত বাতাস প্রবেশ রোধ করতে হবে

এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা জরুরি ভিত্তিতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ দূষিত বাতাসে সচেতন থাকাই আজ সুস্থ থাকার একমাত্র উপায়।


সম্পর্কিত নিউজ