রাতে আদা চা খাওয়ার উপকারিতা জেনে নিন

রাতে আদা চা খাওয়ার  উপকারিতা জেনে নিন
ছবির ক্যাপশান, রাতে আদা চা খাওয়া
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

দিনের শেষে অনেকেই এক কাপ গরম চা হাতে একটু স্বস্তি খোঁজেন। সেই তালিকায় আদা চা বেশ জনপ্রিয়, বিশেষ করে ঠান্ডা লাগা, বদহজম, বমিভাব বা গলা অস্বস্তিতে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আরেকটি প্রশ্ন বেশি শোনা যাচ্ছে-রাতে ঘুমানোর আগে আদা চা কি সত্যিই ভালো ঘুমে সাহায্য করে? এর উত্তর পুরোপুরি হ্যাঁ বা না-এভাবে বলা কঠিন। কারণ, আদা সরাসরি ঘুমের ওষুধ নয়, তবে এটি এমন কিছু শারীরিক অস্বস্তি কমাতে পারে, যেগুলো অনেক সময় ভালো ঘুমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। গবেষণাগুলোও সে দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আদা চা কেন রাতে ভালো লাগতে পারে

আদার মধ্যে জিঞ্জেরল, শোগাওলসহ কয়েকটি সক্রিয় যৌগ থাকে, যেগুলো প্রদাহ-প্রতিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। একটি বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আদা বমিভাব, হজম-সংক্রান্ত অস্বস্তি, কিছু প্রদাহজনিত সমস্যা এবং সামগ্রিক শারীরিক স্বস্তিতে সহায়ক হতে পারে। তাই যারা রাতের খাবারের পর বদহজম, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির কারণে ঘুমাতে পারেন না, তাদের জন্য আদা চা পরোক্ষভাবে উপকারী হতে পারে। অর্থাৎ, আদা চা ঘুম “আনতে” না পারলেও ঘুমের পথে থাকা শারীরিক বাধা কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

হজমে ভূমিকা

ঘুমের আগে আদা চা নিয়ে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য আলোচনা হজমকে ঘিরেই। গবেষণায় আদার গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল বা হজমতন্ত্র-সম্পর্কিত উপকারিতার কথা বারবার এসেছে। এটি পেটের অস্বস্তি, বমিভাব ও কিছু ক্ষেত্রে গ্যাস-ফাঁপা কমাতে সাহায্য করতে পারে। যদি রাতের খাবার ভারী হয়, বা কারও বদহজমের প্রবণতা থাকে, তবে ঘুমানোর আগে হালকা গরম আদা চা তাকে তুলনামূলক আরাম দিতে পারে। আর পেট শান্ত থাকলে ঘুমও সাধারণত ভালো হয়। এই কারণেই অনেকের ক্ষেত্রে আদা চা “ঘুমের সহায়ক” হিসেবে কাজ করে, যদিও সেটি মূলত হজম আরাম করানোর মধ্য দিয়ে।

মানসিক চাপ কমে

আদা চায়ের সরাসরি সেডেটিভ বা ঘুমপাড়ানি প্রভাবের শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো সীমিত। তবে রাতের নির্দিষ্ট রুটিন-যেমন আলো কমানো, গরম পানীয় পান করা, ফোন থেকে দূরে থাকা-এসবই ঘুমে সহায়ক হতে পারে। সে হিসাবে, আদা চা অনেকের জন্য একটি “ক্যালমিং রিচ্যুয়াল” বা প্রশান্তিদায়ক অভ্যাস হিসেবে কাজ করতে পারে। গরম পানীয়, হালকা সুগন্ধ এবং ধীরে ধীরে পান করার অভ্যাস শরীরকে বিশ্রামের সংকেত দেয়। তাই ঘুমের সঙ্গে আদা চায়ের সম্পর্ক অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি রাসায়নিক নয়, বরং আচরণগত ও আরামসংশ্লিষ্ট। এই পার্থক্যটি বোঝা জরুরি।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

আদা নিয়ে করা গবেষণায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রদাহ-প্রতিরোধী এবং কিছু বিপাকীয় উপকারের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। কিছু ক্লিনিক্যাল গবেষণায় রক্তে শর্করা, ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি বা প্রদাহজনিত সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দেখা গেছে। তবে এসব গবেষণার বড় অংশে আদা চা নয়, বরং আদার নির্যাস, তেল বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। তাই “রাতে আদা চা খেলেই ওজন কমবে” বা “ডিটক্স হয়ে যাবে”-এ ধরনের শক্ত দাবি করা ঠিক হবে না। বরং বলা যায়, চিনি ছাড়া আদা চা একটি কম-ক্যালোরির উষ্ণ পানীয়, যা অপ্রয়োজনীয় রাতের স্ন্যাকস বা মিষ্টি পানীয়ের বদলি হতে পারে। এই দিক থেকে এটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে সাহায্য করতে পারে।

কীভাবে খাবেন

ঘুমের আগে আদা চা খেতে চাইলে সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো ১ থেকে ২ কাপ পানিতে কয়েক টুকরো তাজা আদা ৫ থেকে ১০ মিনিট হালকা ফুটিয়ে নেওয়া। তারপর ছেঁকে হালকা গরম অবস্থায় পান করা। স্বাদের জন্য অল্প লেবু বা সামান্য মধু যোগ করা যেতে পারে, তবে খুব বেশি মধু, চিনি বা চা-পাতা মেশানো উচিত নয়। বিশেষ করে ক্যাফেইনযুক্ত চা-পাতা মিশিয়ে ফেললে উল্টো ঘুমের ক্ষতি হতে পারে। ঘুমানোর প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে পান করলে বেশি আরামদায়ক হতে পারে।

কারা সাবধানে খাবেন

আদা সাধারণভাবে নিরাপদ হলেও সবার জন্য একইভাবে উপযোগী নাও হতে পারে। অতিরিক্ত আদা খেলে কারও কারও অম্বল, বুকজ্বালা বা পেটের জ্বালা বাড়তে পারে। রক্ত পাতলা করার ওষুধ ব্যবহার করলে, গলস্টোন থাকলে, গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ভেষজ পানীয় নিতে চাইলে, বা ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবন করলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কারণ আদা কিছু ওষুধের সঙ্গে পারস্পরিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই “প্রাকৃতিক” মানেই “সবসময় ঝুঁকিমুক্ত”-এমন ভাবা ঠিক নয়।


সম্পর্কিত নিউজ