{{ news.section.title }}
যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং থেকে ২০০ বিমান কিনবে চীন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছে চীন। বুধবার (২০ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন অগ্রগতির অংশ হিসেবে এই ঘোষণা এল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন ২০০টি বোয়িং জেট কিনবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত বছর কুয়ালালামপুরে হওয়া বাণিজ্য সমঝোতা বা শুল্ক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করবে। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র চীনকে বিমানের ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সরবরাহের নিশ্চয়তা দেবে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, চীন বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২০০টি বিমান কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও বলেছিলেন, ভবিষ্যতে এই অর্ডার ৭৫০টি পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে তখন চীনের পক্ষ থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বুধবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্রয়াদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করল।
বোয়িংও জানিয়েছে, চীন সফর তাদের জন্য “অত্যন্ত সফল” হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, চীনের বাজার বোয়িং বিমানের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করার প্রধান লক্ষ্য তারা অর্জন করেছে। প্রাথমিকভাবে ২০০টি বিমানের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে এবং এই ধাপের পর আরও প্রতিশ্রুতি আসতে পারে বলে আশা করছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বোয়িং চুক্তির পাশাপাশি চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিছু গরুর মাংস আমদানিও পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্ক ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং উভয় পক্ষ কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর পথ খুঁজছে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশ একে অপরের ৩০ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি মূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাসের উপায় খুঁজবে। একই সঙ্গে গত অক্টোবরে কুয়ালালামপুরে সম্মত হওয়া শুল্ক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতেও কাজ করবে। ওই চুক্তিতে চীনা পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কিছুটা কমানো এবং বিরল মৃত্তিকা খনিজ ও চুম্বক রপ্তানিতে বেইজিংয়ের দেওয়া কিছু বিধিনিষেধ স্থগিত রাখার বিষয় ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্ডার বোয়িংয়ের জন্য বড় স্বস্তির খবর। কারণ চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমান চলাচল বাজার। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ, বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স সংকট এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে চীনে বোয়িংয়ের বড় অর্ডার কার্যত থমকে ছিল। এপি জানিয়েছে, এই চুক্তি বোয়িংয়ের জন্য চীনা বাজারে পুনঃপ্রবেশের বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে অর্ডারটি বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হবে, কোন মডেলের বিমান কেনা হবে এবং কোন কোন চীনা এয়ারলাইন এগুলো নেবে-এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। বোয়িং তার বিবৃতিতে “প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি” শব্দ ব্যবহার করেছে, যা ইঙ্গিত করে যে এটি এখনো পূর্ণাঙ্গ ডেলিভারি চুক্তির সব ধাপ সম্পন্ন করেনি।
বাজার বিশ্লেষকদের একটি অংশ বলছে, চীনের বড় উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা অনেক সময় কূটনৈতিক বার্তার অংশ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ এসব ঘোষণা শুধু বাণিজ্যিক চুক্তি নয়; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের রাজনৈতিক তাপমাত্রাও এতে প্রতিফলিত হয়। রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বেইজিং অতীতেও কূটনৈতিক বৈঠকের সময় বড় বিমান ক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছে, যা বাস্তব চাহিদা ও রাজনৈতিক হিসাব-দুইয়ের সমন্বয়ে গঠিত।
চীনের বিমান চলাচল বাজার দ্রুত বাড়ছে। বোয়িং ও এয়ারবাস উভয় প্রতিষ্ঠানের বাজার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দশকে চীনের হাজার হাজার নতুন জেটলাইনার প্রয়োজন হবে। তবে নিজস্ব তৈরি কম্যাক সি৯১৯ এখনো উৎপাদন সক্ষমতা ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বোয়িং-এয়ারবাসের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে চীনের এয়ারলাইনগুলোর জন্য বোয়িং ও এয়ারবাস এখনো গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স