কোরবানিকে ঘিরে রাজধানীতে জমে উঠেছে মৌসুমি ব্যবসা

কোরবানিকে ঘিরে রাজধানীতে জমে উঠেছে মৌসুমি ব্যবসা
ছবির ক্যাপশান, কোরবানিকে ঘিরে রাজধানীতে জমে উঠেছে মৌসুমি ব্যবসা
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার ও পশুর হাটসংলগ্ন এলাকায় জমে উঠেছে কোরবানিসংশ্লিষ্ট মৌসুমি ব্যবসা। পশু কেনাবেচার পাশাপাশি এখন গরুর খাবার, দড়ি, চাটাই, খড়, ভুষি, ছুরি, বঁটি, চাপাতি, কাঁচি ও তেঁতুল কাঠসহ প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী কিনতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর শান্তিনগর, মগবাজার, মালিবাগ, খিলগাঁও, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী দোকান বসতে দেখা গেছে। এসব দোকানে গরুর শুকনা খড়, দানাদার খাবার, ভুষি, দড়ি, পাটের চাটাই, পলিথিন, মাংস কাটার খাটিয়া ও কাঠ বিক্রি হচ্ছে। অনেকে কয়েক দিনের জন্য ফুটপাত বা রাস্তার পাশে দোকান সাজিয়েছেন। কেউ জীবিকার তাগিদে, আবার কেউ ঈদ মৌসুমে বাড়তি আয়ের আশায় যুক্ত হয়েছেন এই ব্যবসায়।

 

বিক্রেতারা বলছেন, কোরবানির পশু কেনার পর অনেকেই দুই-তিন দিন বাসা, গ্যারেজ বা বাড়ির আঙিনায় পশু রাখেন। এ কারণে পশুর খাবার, বাঁধার দড়ি, চাটাই ও পরিচর্যার সামগ্রীর চাহিদা বেড়েছে। শান্তিনগর এলাকার এক বিক্রেতা জানান, ঈদের আগের কয়েক দিনই তাদের মূল বিক্রির সময়। এই সময় বিক্রি ভালো হলে লাভ থাকে, না হলে পণ্য অবিক্রি থেকে গেলে লোকসানের আশঙ্কাও থাকে।

 

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি মুঠো শুকনা খড় ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর দানাদার খাবার ভুষি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ টাকায়। কোরবানির মাংস কাটার কাজে বা রান্নার আগুন জ্বালাতে ব্যবহৃত তেঁতুল কাঠ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। বড় গরুর জন্য অনেকে মাংস কাটার খাটিয়া ও মজবুত কাঠও কিনছেন। তেঁতুল ও বেল কাঠের খাটিয়ার চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

 

শুধু পশুখাদ্য বা কাঠ নয়, কোরবানিকে ঘিরে কামারপাড়া ও ফুটপাতের ছুরি-চাকু ধার দেওয়ার দোকানগুলোতেও বেড়েছে ব্যস্ততা। ছুরি, বঁটি, চাপাতি ও কাঁচি শান দিতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও একটি ছুরি বা চাকু ধার দিতে ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। বড় দা বা চাপাতির ক্ষেত্রে খরচ আরও বেশি পড়ছে।

 

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তরুণদেরও এই মৌসুমি ব্যবসায় যুক্ত হতে দেখা গেছে। কেউ পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য, কেউ আবার পারিবারিক ব্যবসায় সহযোগিতা করতে অস্থায়ী দোকানে বসেছেন। খিলগাঁওয়ের এক কলেজশিক্ষার্থী জানান, ঈদের আগে কয়েক দিনের ব্যবসায় ভালো বিক্রি হলে পড়াশোনার খরচের একটি অংশ উঠে আসে।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, কোরবানির ঈদ শুধু পশু কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে পশুখাদ্য, পরিবহন, চামড়া, ছুরি-চাকু, দড়ি, কাঠ, বরফ, পলিথিন, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসার বড় অর্থনৈতিক চক্র জড়িয়ে আছে। এই সময় নগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত অর্থপ্রবাহ বেড়ে যায় এবং বহু মানুষের জন্য সাময়িক কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

 

সব মিলিয়ে কোরবানিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে এখন ঈদের আমেজের সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠেছে মৌসুমি ব্যবসা। স্বল্প সময়ের এই বেচাকেনাই অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য বাড়তি আয়ের বড় সুযোগ হয়ে উঠেছে।


সম্পর্কিত নিউজ