ঢেঁড়সের জাদুকরী সব পুষ্টিগুণ ও জিভে জল আনা ভর্তার রেসিপি!

ঢেঁড়সের জাদুকরী সব পুষ্টিগুণ ও জিভে জল আনা ভর্তার রেসিপি!
ছবির ক্যাপশান, ঢেঁড়সের জাদুকরী সব পুষ্টিগুণ ও জিভে জল আনা ভর্তার রেসিপি!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Sourav Debnath

যাকে আমরা অবহেলা করি, সেই ঢেঁড়সই এখন হতে পারে আপনার-আমার দীর্ঘায়ুর চাবিকাঠি! পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, নিয়মিত সঠিক উপায়ে ঢেঁড়স গ্রহণ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়। সাধারণ ঢেঁড়স, অসাধারণ তার গুণ!কিন্তু এর সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে আছে আমাদের মস্তিষ্কের ওপর এর প্রভাবে।

ঢেঁড়স হলো ভিটামিন এ, সি, এবং কে-র ভাণ্ডার। এতে প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম রয়েছে। তবে এর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো 'মিউকিলেজ' (Mucilage), যা আমরা আঠা হিসেবে দেখি। এই আঠালো অংশটি মূলত এক ধরণের দ্রবণীয় ফাইবার, যা আমাদের শরীরের হজম প্রক্রিয়া এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

 


শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা:

১. হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য: ঢেঁড়সের ফাইবার অন্ত্রের জন্য পিচ্ছিলকারক হিসেবে কাজ করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এর আঠালো ভাব পাকস্থলীর দেয়ালকে সুরক্ষিত রাখে।


২. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: গবেষণায় দেখা গেছে, ঢেঁড়স রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। এটি ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি বাড়ায় এবং শরীরকে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে দেয় না।


৩. হৃদরোগ ও রক্তচাপ: ঢেঁড়সের পেকটিন (Pectin) রক্ত থেকে বাজে কোলেস্টেরল দূর করতে সাহায্য করে। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।


৪. মানসিক সুস্বাস্থ্য : ঢেঁড়সে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম। নিউরোসায়েন্স অনুযায়ী, ম্যাগনেসিয়াম আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে এবং দুশ্চিন্তা ও অবসাদ কমাতে সাহায্য করে। যারা মানসিক চাপে থাকেন, তাদের খাদ্যতালিকায় ঢেঁড়স থাকা মানে মস্তিষ্কের নিউরনগুলোকে কিছুটা বিশ্রাম দেওয়া।


৫. ত্বক ও চুল: এর ভিটামিন-সি ত্বকের কোলাজেন গঠনে সাহায্য করে, যা অকাল বার্ধক্য রোধ করে ত্বককে সজীব রাখে।

 

কিভাবে এবং কখন খেলে ভালো হয়?

ঢেঁড়স খাওয়ার আদর্শ সময় হলো সকালের নাস্তা বা দুপুরের খাবার। সকালের নাস্তায় খেলে এর ফাইবার সারাদিন আপনার এনার্জি লেভেল ঠিক রাখবে এবং দুপুর পর্যন্ত আপনার পেট ভরা রাখবে।


ঢেঁড়স খাওয়ার সময় মনে রাখতে হবে, এটি যেন খুব বেশি কড়া করে ভাজা না হয়। অতিরিক্ত আঁচে ভাজলে এর ভিটামিন-সি এবং এনজাইমগুলো নষ্ট হয়ে যায়। হালকা সিদ্ধ করে ভর্তা করা বা ভাপে রান্না করাই হলো এর পুষ্টিগুণ ধরে রাখার সেরা উপায়!


ঢেঁড়স ভর্তার রেসিপি:

ঢেঁড়সের পুষ্টি পূর্ণমাত্রায় পেতে হলে এর ভর্তা বানানোর প্রক্রিয়াটি হওয়া চাই একদম নিখুঁত।


উপকরণ:

⇨ কচি ঢেঁড়স (২৫০ গ্রাম)

⇨ কাঁচামরিচ বা পোড়া শুকনো মরিচ (স্বাদমতো)

⇨ পেঁয়াজ কুচি (মাঝারি ১টি)

⇨ খাঁটি সরিষার তেল (১ টেবিল চামচ)

⇨ স্বাদমতো লবণ ও ধনেপাতা কুচি।

 

প্রস্তুত প্রণালী:

১. প্রথমে ঢেঁড়সগুলো ধুয়ে নিন। কাটার আগে ধোবেন, না হলে সব পুষ্টি ধুয়ে যাবে।

২. সামান্য লবণ দিয়ে অল্প আঁচে ঢেঁড়সগুলো ভাপে বা সামান্য পানিতে সিদ্ধ করে নিন। খেয়াল রাখবেন যেন খুব বেশি গলে না যায়, রঙ যেন সবুজ থাকে।

৩. মরিচ ও পেঁয়াজ সামান্য লবণ দিয়ে চটকে নিন।

৪. সিদ্ধ করা ঢেঁড়সগুলো হাত দিয়ে মেখে নিন।

৫. এবার সরিষার তেল এবং ধনেপাতা দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে তৈরি করুন দারুণ সুস্বাদু ঢেঁড়স ভর্তা। সরিষার তেলের ঝাঁঝালো স্বাদ ঢেঁড়সের আঠালো ভাবের সাথে মিশে এক অতুলনীয় স্বাদ তৈরি করে।


কাদের জন্য সাবধানতা প্রয়োজন?

এত গুণ থাকা সত্ত্বেও কিছু ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি:

☞ কিডনি সমস্যা: ঢেঁড়সে প্রচুর পরিমাণে অক্সালেট থাকে। যাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা আছে, তাদের অতিরিক্ত ঢেঁড়স না খাওয়াই ভালো।

☞ অ্যালার্জি: খুব কম হলেও কিছু মানুষের ঢেঁড়সে অ্যালার্জি থাকতে পারে।

☞ পেট ফাঁপা: অতিরিক্ত ঢেঁড়স খেলে অনেক সময় পেটে গ্যাসের সৃষ্টি হতে পারে, বিশেষ করে যাদের হজম ক্ষমতা দুর্বল।


সম্পর্কিত নিউজ