নগরজীবনে যানজট, সময় হারাচ্ছে মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অর্থনীতি

নগরজীবনে যানজট, সময় হারাচ্ছে মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অর্থনীতি
ছবির ক্যাপশান, ছবি - সংগৃহীত

বাংলাদেশের বড় শহরগুলোতে যানজট শুধু দৈনন্দিন ভোগান্তি নয়। এটি এখন অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের অংশ। বিশেষ করে ঢাকায় প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা জরুরি কাজে যেতে দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে থাকেন। এই সময় নষ্টের প্রভাব ব্যক্তিগত জীবনের বাইরেও পড়ে।

যানজট মানুষের উৎপাদনশীলতা কমায়। একজন কর্মী প্রতিদিন যদি দুই থেকে তিন ঘণ্টা রাস্তায় হারান, তাহলে মাসের শেষে তার বড় অংশ সময় অপচয় হয়। শিক্ষার্থীরা ক্লান্ত হয়ে ক্লাসে যায়। রোগী সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন না। ব্যবসায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়। জরুরি সেবাও বাধার মুখে পড়ে।

 

নগর পরিকল্পনার দুর্বলতা এই সংকটের বড় কারণ। বসতি, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় নেই। একই এলাকায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত বাস রুট এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে।

 

শুধু নতুন রাস্তা বানালেই সমাধান আসবে না। বরং গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নির্ভরযোগ্য বাস ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট রুট, সময়সূচি, ডিজিটাল টিকিটিং এবং যাত্রীবান্ধব স্টপেজ দরকার। মানুষ নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও সময়নিষ্ঠ গণপরিবহন পেলে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমবে।

 

ফুটপাত ও সাইকেলপথও গুরুত্বপূর্ণ। শহর শুধু গাড়ির জন্য নয়, মানুষের জন্য। হাঁটার নিরাপদ পরিবেশ না থাকলে ছোট দূরত্বেও মানুষ যানবাহনের ওপর নির্ভর করে। এতে সড়কে চাপ বাড়ে।

 

যানজট কমাতে অফিস সময়ের নমনীয়তা, স্কুলবাস ব্যবস্থার উন্নয়ন, অনলাইন সেবা বৃদ্ধি এবং বিকেন্দ্রীকরণ দরকার। সব অফিস, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক কাজ ঢাকাকেন্দ্রিক হলে চাপ কমবে না।

 

ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নও জরুরি। আইন শুধু কাগজে থাকলে কাজ হবে না। বাস থামার নির্দিষ্ট স্থান, পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, লেন শৃঙ্খলা এবং রাস্তা দখলমুক্ত করা নিয়মিত তদারকির মধ্যে আনতে হবে।

 

যানজটের ক্ষতি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু প্রতিদিন দেশের অর্থনীতি এর দাম দিচ্ছে। সময়, জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতার এই অপচয় কমাতে সমন্বিত নগর পরিকল্পনা এখন জরুরি।


সম্পর্কিত নিউজ