{{ news.section.title }}
ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন মৌলভীবাজারের সেরা পর্যটন স্পটগুলো
ঈদুল আজহার ছুটিতে যারা একসঙ্গে পাহাড়, চা বাগান, লেক, জলপ্রপাত, হাওর, বন্যপ্রাণী, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি দেখতে চান, তাদের জন্য দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে মৌলভীবাজার। সিলেট বিভাগের এই জেলা বহুদিন ধরেই প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। সবুজ চা বাগান, টিলাঘেরা লেক, জলপ্রপাত, জাতীয় উদ্যান, হাওর ও ঐতিহ্যবাহী জনপদের সমন্বয়ে মৌলভীবাজার এখন ঈদ পর্যটনের বড় কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
জেলার সাতটি উপজেলায় কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক মিলিয়ে ছোট-বড় প্রায় শতাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অসংখ্য চা বাগান, খাসিয়া-মনিপুরীসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসতি, ঐতিহাসিক স্থাপনা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন, হাওরাঞ্চলের পাখির অভয়ারণ্য এবং পর্যটকদের থাকার জন্য উন্নতমানের রিসোর্ট ও কটেজ। ফলে পরিবার, বন্ধুবান্ধব কিংবা প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণপিপাসু-সব ধরনের পর্যটকের জন্য মৌলভীবাজার হতে পারে কয়েক দিনের পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ পরিকল্পনার আদর্শ জায়গা।
লাউয়াছড়া: জীববৈচিত্র্যের এক জীবন্ত পাঠশালা
মৌলভীবাজার ভ্রমণের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। শুধু দেশের পর্যটকদের কাছেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও এই উদ্যানের পরিচিতি রয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ ওয়েবসাইটে লাউয়াছড়াকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যান ও প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অংশে অবস্থিত।
প্রায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর আয়তনের এই বন জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। ইতিহাস অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমলে ১৯২৫ সালের দিকে এখানে বৃক্ষায়ন শুরু হয়। পরে বনটি ধীরে ধীরে ঘন সবুজ প্রাকৃতিক আবাসস্থলে পরিণত হয়। ১৯৯৬ সালের ৭ জুলাই এলাকাটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ, পাখি, সরীসৃপ, উভচর ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেখা মেলে। বিশেষ করে বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য লাউয়াছড়া বিশেষভাবে পরিচিত।
ঘন অরণ্যের ভেতর দিয়ে হাঁটার ট্রেইল, পাখির ডাক, বাঁশঝাড়, বন্যপ্রাণীর বিচরণ এবং নিস্তব্ধ পরিবেশ-সব মিলিয়ে লাউয়াছড়া শুধু ভ্রমণকেন্দ্র নয়, প্রকৃতিকে কাছ থেকে জানারও সুযোগ। তবে পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো বনাঞ্চলে শব্দদূষণ না করা, বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত না করা এবং প্লাস্টিক বা আবর্জনা না ফেলা।
মাধবপুর লেক: চা বাগানের বুকের নীল জল
কমলগঞ্জ উপজেলার আরেক দর্শনীয় স্থান মাধবপুর লেক। চারদিকে সবুজ চা বাগান, উঁচু-নিচু টিলা, শান্ত জলরাশি, শাপলা ফুল আর নীরব প্রকৃতি-সব মিলিয়ে মাধবপুর লেক যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা ছবি। পর্যটকরা সাধারণত শ্রীমঙ্গল বা কমলগঞ্জ ভ্রমণের সঙ্গে এই লেককে যুক্ত করেন। চা বাগানের সরু পথ ধরে এগিয়ে গেলে লেকের সৌন্দর্য ধীরে ধীরে চোখের সামনে খুলে যায়।
মাধবপুর লেকের বড় আকর্ষণ হলো এর শান্ত পরিবেশ। যারা শহরের কোলাহল থেকে দূরে নিরিবিলি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য জায়গাটি বেশ উপযোগী। বর্ষা ও শীত-দুই মৌসুমেই লেকের সৌন্দর্য আলাদা রূপ নেয়।
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত: দেশের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক আকর্ষণ
বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত বহু বছর ধরেই বাংলাদেশের পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র। পাহাড়ি টিলা থেকে নেমে আসা জলধারা, চারপাশের সবুজ বন, পাথুরে পথ এবং ঝরনার গর্জন পর্যটকদের মুগ্ধ করে। স্থানীয়ভাবে এটি দেশের বৃহত্তম জলপ্রপাতগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।
মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকায় শুধু জলপ্রপাত নয়, আশপাশের পাহাড়ি পরিবেশ, খাসিয়া পুঞ্জি এবং প্রাকৃতিক বনাঞ্চলও ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে। তবে বর্ষাকালে জলপ্রপাতের সৌন্দর্য যেমন বাড়ে, তেমনি পিচ্ছিল পথ ও পানির প্রবাহের কারণে সতর্কতাও জরুরি।
হাকালুকি হাওর ও বাইক্কা বিল: পাখি, পানি আর বিস্তীর্ণ জলভূমির ডাক
মৌলভীবাজারের আরেক বড় সম্পদ হাওরাঞ্চল। হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হাওরগুলোর একটি। বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত, যার একটি অংশ সিলেট জেলাতেও পড়েছে। এর আয়তন প্রায় ১৮ হাজার ৪০০ হেক্টর এবং এটি পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি জলাভূমি হিসেবে পরিচিত। শীত মৌসুমে হাওরে অতিথি পাখির আনাগোনা বাড়ে। বিস্তীর্ণ জলরাশি, মাছধরা নৌকা, কুয়াশা ঢাকা সকাল এবং পাখির ঝাঁক হাকালুকিকে প্রকৃতিপ্রেমী ও ফটোগ্রাফারদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তোলে।
অন্যদিকে শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের ভেতরে অবস্থিত বাইক্কা বিল পাখিপ্রেমীদের জন্য পরিচিত গন্তব্য। পর্যটকরা এখানে নানা রঙের অতিথি পাখি দেখতে এবং পাখির কিচিরমিচির শুনতে আসেন। শীতকালে বাইক্কা বিলের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য হয়।
হামহাম জলপ্রপাত ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের টান
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার হামহাম জলপ্রপাতও এখন তরুণ পর্যটক ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয়। পাহাড়ি পথ, জঙ্গল, ঝিরিপথ ও দুর্গম হাঁটাপথ পাড়ি দিয়ে এই জলপ্রপাতের কাছে পৌঁছাতে হয়। তাই এটি সাধারণ পারিবারিক ভ্রমণের চেয়ে কিছুটা রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকদের জন্য বেশি উপযোগী। তবে হামহাম ভ্রমণে স্থানীয় গাইড নেওয়া, আবহাওয়া সম্পর্কে জানা, পর্যাপ্ত পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নেওয়া এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মানা অত্যন্ত জরুরি। বর্ষায় পথ আরও পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল
মৌলভীবাজারের পর্যটন বললেই শ্রীমঙ্গলের নাম বিশেষভাবে আসে। সবুজ চা বাগান, সাতরঙা চা, নীলকণ্ঠ টি কেবিন, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, চা জাদুঘর, চা-কন্যা ভাস্কর্য-সব মিলিয়ে শ্রীমঙ্গল চা-সংস্কৃতির এক অনন্য কেন্দ্র। জেলার প্রবেশমুখে চা-কন্যা ভাস্কর্য চা শিল্পের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। মৌলভীবাজার জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যভান্ডারে শ্রীমঙ্গল এলাকায় প্রায় ৯২টি চা বাগানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চা বাগানের ঢেউখেলানো সবুজ দৃশ্য, শ্রমিকদের জীবনধারা, চা প্রক্রিয়াকরণ এবং পাহাড়ি আবহাওয়া পর্যটকদের কাছে আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করে। শ্রীমঙ্গলে যারা যান, তারা সাধারণত চা বাগান, লাউয়াছড়া, মাধবপুর লেক, বাইক্কা বিল, বধ্যভূমি, ডিনস্টন সিমেট্রি এবং স্থানীয় খাবারের অভিজ্ঞতা একসঙ্গে নেন।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ঐতিহাসিক স্থাপনা
প্রকৃতি ছাড়াও মৌলভীবাজারে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসঘন নানা স্থান। কমলগঞ্জে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতি কমপ্লেক্স পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের সাত বীরশ্রেষ্ঠের একজন এবং বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর।
শ্রীমঙ্গলে রয়েছে বধ্যভূমি, যেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটক এবং স্থানীয় মানুষ এখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। এছাড়া ডিনস্টন সিমেট্রি মৌলভীবাজারের আরেক ঐতিহাসিক নিদর্শন। শ্রীমঙ্গলের ফিনলে টি কোম্পানির ডিনস্টন চা বাগানে অবস্থিত এই সিমেট্রিতে ৪৬টি বিদেশি কবর রয়েছে। ঔপনিবেশিক সময়ের চা শিল্পের ইতিহাসের সঙ্গে এই স্থানটি জড়িয়ে আছে।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি পর্যটনের বড় সম্পদ
মৌলভীবাজারের পর্যটন শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। খাসিয়া পুঞ্জি, মনিপুরী পল্লী, পাহাড়ি জনপদ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা-সংস্কৃতি এই জেলার ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে। মনিপুরী তাঁত, নৃত্য, পোশাক, জীবনধারা এবং খাসিয়া জনগোষ্ঠীর পান চাষ ও পাহাড়ি বসতি পর্যটকদের কাছে আলাদা আগ্রহের বিষয়। তবে এসব এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের সংবেদনশীল হওয়া দরকার। স্থানীয় মানুষের ছবি তুলতে হলে অনুমতি নেওয়া, তাদের ব্যক্তিগত জায়গাকে সম্মান করা এবং সংস্কৃতিকে প্রদর্শনী হিসেবে নয়, শ্রদ্ধার চোখে দেখা জরুরি।
আরও যেসব জায়গা ঘুরে দেখা যায়
মৌলভীবাজারে ঘোরার তালিকা অনেক দীর্ঘ। লাউয়াছড়া, মাধবপুর লেক, মাধবকুণ্ড, হামহাম, বাইক্কা বিল বা হাকালুকি ছাড়াও পর্যটকরা দেখতে পারেন মনু ব্যারেজ, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, নীলকণ্ঠ টি কেবিন, সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, গগন টিলা, কমলা রাণীর দিঘি, পৃথিমপাশা নবাব বাড়ি, পাথারিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্ট, আদমপুর বনবিট, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, হযরত শাহ মোস্তফা (রহ.)-এর মাজার শরিফ, পদ্মছড়া লেক, ক্যামেলিয়া লেক, পাত্রখোলা লেক, বাম্বোতল লেক ও শমশেরনগর গল্ফ মাঠ। এসব জায়গা এক দিনে দেখা সম্ভব নয়। তাই পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে ভালো হলো দুই থেকে তিন দিনের পরিকল্পনা করা। শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, বড়লেখা ও কুলাউড়া-এই চার উপজেলা ঘিরে আলাদা রুট করলে ভ্রমণ আরামদায়ক হয়।
থাকার ব্যবস্থা: পাঁচ তারকা থেকে ইকো রিসোর্ট
মৌলভীবাজারে পর্যটকদের থাকার জন্য এখন নানা ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। বড় রিসোর্ট, ইকো কটেজ, পরিবারবান্ধব আবাসন, চা বাগানের ভেতরে থাকার ব্যবস্থা এবং তুলনামূলক কম খরচের হোটেল-সবই পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য আবাসনের মধ্যে রয়েছে গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, নভেম ইকো রিসোর্ট, লেমন গার্ডেন রিসোর্ট, গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্ট অ্যান্ড ট্যুর, সুইস ভ্যালি রিসোর্ট, বালিশিরা ইকো রিসোর্ট, টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ, পত্রস্নান রিসোর্ট, শান্তি বাড়ী রিসোর্ট, নিসর্গ ইকো রিসোর্ট, টি হেভেন রিসোর্ট, শ্রীমঙ্গল টি রিসোর্ট অ্যান্ড মিউজিয়াম, ওয়াটারলিলি, মুক্তানগর রিসোর্ট, রাঙ্গাউটি রিসোর্ট, অরণ্যনিবাস ইকো রিসোর্ট ও গগন টিলা।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, ঈদের ছুটিতে ছোট রিসোর্টগুলোতে বুকিং তুলনামূলক ভালো হলেও বড় রিসোর্টে আগাম বুকিং কিছুটা কম হতে পারে। শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ জানিয়েছেন, হামসহ বিভিন্ন পরিস্থিতির প্রভাব এবং ঈদের পর ছুটি কম থাকায় বড় রিসোর্টে আগাম বুকিং প্রত্যাশার তুলনায় কম হলেও ছোট রিসোর্টগুলোতে বুকিং ভালো।
নিরাপত্তায় প্রস্তুতি
ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেছেন, পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারেন, সে জন্য নিরাপত্তার সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন করা হবে এবং বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
এর আগেও ঈদের ছুটিতে মৌলভীবাজারের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের তথ্য স্থানীয় গণমাধ্যমে এসেছে। ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদ মৌসুমে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল, যাতে পর্যটকরা নিরাপদে ঘুরে বাড়ি ফিরতে পারেন।
পর্যটন সম্ভাবনার সঙ্গে কিছু চ্যালেঞ্জও আছে
মৌলভীবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা বড় হলেও কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অনেক স্থানে পর্যাপ্ত টয়লেট, বিশ্রামাগার, নির্দেশনা বোর্ড, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত পার্কিং এবং প্রশিক্ষিত গাইডের অভাব রয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে সিলেট অঞ্চলের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে মৌলিক সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিকল্পনা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন ধীর হওয়ায় পর্যটন খাত প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারছে না।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, নিরাপদ পরিবহন, স্থানীয় গাইড প্রশিক্ষণ, অনলাইন তথ্যভান্ডার ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা গেলে মৌলভীবাজার দেশের অন্যতম শক্তিশালী পর্যটন জেলায় পরিণত হতে পারে।
কীভাবে যাবেন
দেশের যেকোনো স্থান থেকে বাসযোগে মৌলভীবাজারে যাওয়া যায়। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রেনে শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ, শমশেরনগর ও কুলাউড়া রেলস্টেশনে নেমে স্থানীয় বাস, সিএনজি অটোরিকশা বা ভাড়া গাড়িতে পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়া সম্ভব।
ঢাকা থেকে যারা যাচ্ছেন, তারা সাধারণত শ্রীমঙ্গলকে বেস পয়েন্ট ধরে লাউয়াছড়া, মাধবপুর লেক, বাইক্কা বিল ও চা বাগান ঘুরে দেখেন। বড়লেখা বা কুলাউড়া রুট ধরলে মাধবকুণ্ড, হাকালুকি হাওর, পাথারিয়া পাহাড় ও আশপাশের দর্শনীয় স্থান যুক্ত করা যায়।
দায়িত্বশীল ভ্রমণই সবচেয়ে জরুরি
ঈদের ছুটিতে পর্যটক বাড়লে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন চাঙা হয়, তেমনি পরিবেশের ওপর চাপও বাড়ে। তাই পর্যটকদের উচিত প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, বনাঞ্চলে উচ্চ শব্দ না করা, বন্যপ্রাণীকে খাবার না দেওয়া, হাওর বা লেকে আবর্জনা না ফেলা, স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান করা এবং অনুমোদিত পথ ছাড়া দুর্গম এলাকায় না যাওয়া। মৌলভীবাজারের প্রকৃতি বাংলাদেশের বড় সম্পদ। এই সম্পদ উপভোগের পাশাপাশি সংরক্ষণ করাও পর্যটক, স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের যৌথ দায়িত্ব।
সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে যারা দেশের ভেতরে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য মৌলভীবাজার হতে পারে প্রকৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আরামের এক পূর্ণাঙ্গ গন্তব্য। এক জেলায় এত বৈচিত্র্যময় পর্যটন আকর্ষণ বাংলাদেশের খুব কম জায়গাতেই পাওয়া যায়।