{{ news.section.title }}
পাহাড়, নদী আর সবুজের টানে বাড়ছে দেশীয় ভ্রমণের আগ্রহ
দেশের ভেতরেই কম খরচে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী মানুষের মধ্যে দেশীয় পর্যটনের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
ব্যস্ত নগরজীবন থেকে কিছুটা সময়ের জন্য দূরে যেতে এখন অনেকেই বেছে নিচ্ছেন দেশের ভেতরের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। পাহাড়, নদী, সমুদ্র, চা-বাগান, হাওর কিংবা গ্রামীণ সৌন্দর্য সবকিছু মিলিয়ে দেশীয় ভ্রমণ এখন পর্যটকদের কাছে নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে স্বল্প খরচে ভ্রমণের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।
পর্যটনপ্রেমীরা বলছেন, বিদেশে না গিয়েও দেশের ভেতরেই এমন অনেক জায়গা আছে, যেখানে প্রকৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করা যায়। পাহাড়ি এলাকায় মেঘের খেলা, নদীর ধারে সূর্যাস্ত, গ্রামীণ পথের সরলতা কিংবা সমুদ্রের বিশালতা প্রতিটি জায়গার আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে। এসব জায়গা ভ্রমণ শুধু বিনোদন নয়, মানসিক প্রশান্তিরও বড় মাধ্যম হয়ে উঠছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবও দেশীয় পর্যটন বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। ভ্রমণকারীরা বিভিন্ন স্থানের ছবি, ভিডিও ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। এতে নতুন নতুন পর্যটন স্থানের প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। আগে যেসব এলাকা কম পরিচিত ছিল, এখন সেগুলোও পর্যটকদের নজরে আসছে। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটক বাড়লে খাবারের দোকান, হোটেল, পরিবহন, গাইড সেবা ও স্থানীয় পণ্যের বিক্রি বাড়ে। এতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে পাহাড়ি ও গ্রামীণ পর্যটন এলাকায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় পর্যটনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
তবে পর্যটন বাড়ার সঙ্গে কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় পর্যটকদের অসচেতনতার কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য, শব্দদূষণ ও অনিয়ন্ত্রিত ভিড় প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি করছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভ্রমণের আনন্দের পাশাপাশি দায়িত্বশীল আচরণও জরুরি। প্রকৃতি দেখতে গিয়ে প্রকৃতির ক্ষতি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় পর্যটনকে টেকসই করতে হলে নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা ও স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। পর্যটকদেরও ভ্রমণের আগে জায়গা সম্পর্কে জানা, স্থানীয় নিয়ম মানা এবং পরিবেশবান্ধব আচরণ করা উচিত।
দেশের সৌন্দর্য দেশের মানুষের কাছেই নতুনভাবে ধরা দিচ্ছে। তাই সচেতন ভ্রমণ, পরিকল্পিত পর্যটন ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে দেশীয় পর্যটন আরও বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।