{{ news.section.title }}
লাল নাকি সাদা ডিম, পুষ্টির বিচারে কোনটি বেশি সেরা?
বাজারের ঝুড়িতে সাজানো লাল আর সাদা ডিম দেখে আমাদের অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে, কোনটিতে প্রোটিন বেশি! সাদা ডিমের চেয়ে লাল ডিম কেন বেশি জনপ্রিয় বা দামি, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে কিছু চমকপ্রদ তথ্য!
রঙের পার্থক্য কেন হয়?
মজার বিষয় হলো, ডিমের রঙের মধ্যে এই পার্থক্যের পেছনে নেই কোনো জাদুকরী পুষ্টির রহস্য, বরং এটি পুরোপুরি নির্ভর করে মুরগির প্রজাতি এবং জিনের ওপর। যে মুরগির কানের লতি সাদা এবং গায়ের পালক সাদা, তারা সাধারণত সাদা ডিম পাড়ে। অন্যদিকে, লালচে বা বাদামী পালকের মুরগিগুলো লাল বা খয়েরি রঙের ডিম পাড়ে। এটি ঠিক মানুষের গায়ের রঙের পার্থক্যের মতো একটি বংশগতি বা জেনেটিক বিষয়। ডিমের খোলসের রঙ এর ভেতরের পুষ্টিগুণ নির্ধারণ করে না।
বিজ্ঞান কী বলে?
নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুষ্টি গবেষণা সংস্থা (USDA) একাধিক পরীক্ষায় প্রমাণ করেছে যে, লাল এবং সাদা ডিমের পুষ্টিগুণের মধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য তফাৎ নেই। উভয় ডিমেই সমপরিমাণ উচ্চমানের প্রোটিন থাকে। একটি বড় আকারের লাল ডিমে যতটা ফ্যাট বা ক্যালোরি থাকে, সমপরিমাণ সাদা ডিমেও ঠিক ততটাই থাকে।ভিটামিন এ, ডি, বি-১২ এবং রিবোফ্লাভিন, সবই দুই ধরণের ডিমেই সমান।
তবে লাল ডিমের স্বাদ কি আলাদা?
অনেকেই দাবি করেন লাল ডিমের কুসুম বেশি ঘন বা স্বাদ বেশি। এর কারণ কিন্তু ডিমের রঙ নয়, বরং মুরগির খাবার। সাধারণত যে মুরগিগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘুরে বেড়ায় বা ভালো মানের, যেমন- ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার পায়, তাদের ডিমের কুসুম বেশি গাঢ় এবং সুস্বাদু হয়। যেহেতু লাল ডিম পাড়া মুরগিগুলো আকারে বড় হয় এবং তাদের খাবার বেশি লাগে, তাই লাল ডিমের উৎপাদন খরচ এবং বাজারমূল্য একটু বেশি হতে পারে।
পুষ্টি কিসের ওপর নির্ভর করে?
ডিমের পুষ্টির আসল কারিগর হলো মুরগির খাদ্যতালিক এবং জীবনযাত্রা। যদি একটি সাদা মুরগিকে উচ্চমানের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়, তবে তার ডিম একটি সাধারণ লাল ডিমের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর হতে পারে। আবার রোদে ঘুরে বেড়ানো মুরগির ডিমে ভিটামিন-ডি এর পরিমাণ খাঁচায় বন্দি মুরগির ডিমের চেয়ে বেশি থাকে, ডিমের রঙ যাই হোক না কেন।
কোনটি কিনবেন?
আপনি লাল ডিম কিনুন বা সাদা, পুষ্টির দিক থেকে আপনি কোনোভাবেই ঠকছেন না। লাল ডিম দেখতে সুন্দর লাগে বা অনেক সময় আকারে কিছুটা বড় হয় বলে এর জনপ্রিয়তা বেশি। তবে স্বাস্থ্যগত দিক থেকে দুটির মধ্যে কোনো বৈষম্য নেই।
পরিশেষে বলা যায়, লাল বনাম সাদা ডিমের এই লড়াই আসলে একটি বাণিজ্যিক এবং মনস্তাত্ত্বিক বিষয়। শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে হলে ডিমের খোলসের রঙের চেয়ে ডিমের তাজাত্ব বেশি গুরুত্বপূর্ণ।