দুই অঞ্চলে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, সারাদেশের নদীবন্দরে সতর্কতা

দুই অঞ্চলে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, সারাদেশের নদীবন্দরে সতর্কতা
ছবির ক্যাপশান, ছবি: এআই

দেশের দুই অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের নদীবন্দর সতর্কবার্তা বিভাগ নিয়মিতভাবে অভ্যন্তরীণ নৌপথের জন্য এ ধরনের সতর্কতা প্রকাশ করে থাকে।

 

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, দেশের অন্য অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়েও একই দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাতে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকাতেও আজ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে।

 

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্যাপসা গরমের পাশাপাশি কালবৈশাখী ধরনের ঝড়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে হঠাৎ মেঘ জমে বজ্রবৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোর ঘটনা ঘটতে পারে। আবহাওয়া পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় নদীপথে চলাচলকারী ছোট নৌযান, মাছ ধরার নৌকা, ট্রলার ও যাত্রীবাহী নৌযানগুলোকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেতের অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঝড়ো আবহাওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি এবং ছোট নৌযানের জন্য তা বিপজ্জনক হতে পারে। নদীবন্দরের সতর্কসংকেত ব্যবস্থায় ১ নম্বর সংকেত সাধারণত ক্ষণস্থায়ী ঝোড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা বোঝায়, আর ২ নম্বর সংকেতে নৌযানগুলোকে দ্রুত নিরাপদ অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। নদীবন্দরের জন্য সংকেত ব্যবস্থায় ৬৫ ফুট বা তার কম দৈর্ঘ্যের নৌযানকে ২ নম্বর সংকেতের সময় দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়ে থাকে।

 

এদিকে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, নদী, জলাশয়, গাছের নিচে বা বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে নিরাপদ ভবন বা ঘরের ভেতরে অবস্থান করা উচিত। নৌপথে চলাচলের ক্ষেত্রে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দিনভর আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং দেশের অনেক স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে গরম কিছুটা কমলেও ঝড়ো হাওয়ার ঝুঁকি থাকবে। তাই যাত্রী, নৌযানচালক ও নদীবন্দর কর্তৃপক্ষকে পরবর্তী আবহাওয়া বার্তার দিকে নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ