বায়ুদূষণে ঢাকা আজ ৯ নম্বরে, শীর্ষে কিনশাসা

বায়ুদূষণে ঢাকা আজ ৯ নম্বরে, শীর্ষে কিনশাসা
ছবির ক্যাপশান, ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। শনিবার (২৩ মে) সকাল ৮টা ২৯ মিনিটে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সর্বশেষ সূচক অনুযায়ী বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা ছিল ৯ নম্বরে।

এ সময় ঢাকার বায়ুর মান সূচক ছিল ১১৯, যা “সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর” হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, হাঁপানি ও ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্তদের জন্য এই পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

একই সময়ে তালিকার শীর্ষে ছিল কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। শহরটির বায়ুদূষণ স্কোর ছিল ১৯৮, যা “অস্বাস্থ্যকর” পর্যায়ে পড়ে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারতের রাজধানী দিল্লি, যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে দিল্লি ও ঢাকার দূষণ পরিস্থিতি প্রায়ই বিশ্ব তালিকার শীর্ষ দিকে দেখা যায়।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বায়ুদূষণের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। ইটভাটা, পুরোনো যানবাহনের কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ পরিস্থিতিকে দিন দিন আরও ভয়াবহ করে তুলছে। শুষ্ক মৌসুমে বাতাসে ধুলিকণার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় দূষণ আরও ঘনীভূত হয়। এছাড়া সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশের দূষিত বায়ুও বাংলাদেশে প্রবেশ করে বলে পরিবেশ বিশ্লেষকদের ধারণা। বিশেষ করে শীতকালে উত্তর-পশ্চিম দিকের বায়ুপ্রবাহে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র দূষিত কণা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

 

বায়ুর মান সূচকের মানদণ্ড অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত বায়ুর মান ভালো ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি, ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ অস্বাস্থ্যকর এবং ২০১ থেকে ৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ৩০০-এর বেশি হলে সেটি দুর্যোগপূর্ণ পর্যায়ে পড়ে। সেই হিসেবে বর্তমানে ঢাকার বাতাস সরাসরি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় দূষিত বাতাসে থাকলে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা, হৃদরোগ এবং ফুসফুসের জটিলতা বাড়তে পারে। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর লাখো মানুষের মৃত্যুর জন্যও বায়ুদূষণকে দায়ী করা হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণের কারণে মানুষের গড় আয়ু কমে যাচ্ছে এবং শিশুদের শারীরিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

 

পরিবেশবিদরা মনে করছেন, শুধু অস্থায়ী উদ্যোগ নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, গণপরিবহনব্যবস্থা আধুনিক করা, নির্মাণস্থলে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, শিল্পকারখানায় নির্গমন পর্যবেক্ষণ এবং সবুজায়ন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত বায়ুমান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও জরুরি বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ সতর্কতায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। শুক্রবারও ঢাকার বায়ুর মান প্রায় একই পর্যায়ে ছিল। ফলে টানা কয়েকদিন ধরেই রাজধানীবাসী দূষিত বাতাসের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।


সম্পর্কিত নিউজ