{{ news.section.title }}
হজ পালনে সৌদি পৌঁছেছেন ৭৭ হাজার ৪৩২ বাংলাদেশি
চলতি বছরের পবিত্র হজ পালনে অংশ নিতে এখন পর্যন্ত ১৯৯টি ফ্লাইটে ৭৭ হাজার ৪৩২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। ইতোমধ্যে সফলভাবে শেষ হয়েছে প্রাক-হজ ফ্লাইট কার্যক্রম। এ বছর হজ ব্যবস্থাপনায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের সমন্বিত উদ্যোগে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ দিকে সৌদিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ২১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হজ অফিস। মৃত্যুর কারণ হিসেবে মূলত বার্ধক্যজনিত জটিলতা, দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি এবং পূর্বের শারীরিক অসুস্থতাকে দায়ী করা হচ্ছে বলে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে পৌঁছানো হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন চার হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৭২ হাজার ৯৬৮ জন। ফলে অধিকাংশ হজযাত্রীই বেসরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হজ পালনে অংশ নিচ্ছেন।
চলতি বছর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি আরও দুটি বিদেশি এয়ারলাইন্স হজযাত্রী পরিবহনে অংশ নেয়। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯৮টি ফ্লাইটে ৩৮ হাজার ৭০২ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৭৩টি ফ্লাইটে ২৭ হাজার ৩৪০ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ২৮টি ফ্লাইটে ১১ হাজার ৩৯০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এই বহুজাতিক এয়ারলাইন্স ব্যবস্থাপনার কারণে হজযাত্রী পরিবহন কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও সময়মতো সম্পন্ন হয়েছে বলে হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনকে হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারি কোটা ছিল চার হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি কোটা ছিল ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। এবারের হজ কার্যক্রম পরিচালনায় কাজ করছে মোট ৬৬০টি এজেন্সি, যার মধ্যে ৩০টি প্রধান এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে। এসব এজেন্সির মাধ্যমে হজযাত্রী নিবন্ধন, ভিসা প্রক্রিয়া, আবাসন এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করা হয়েছে।
সৌদি আরবের সর্বশেষ হজ বুলেটিন অনুযায়ী, দেশটিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ২১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী। তাদের মধ্যে ১৪ জন মক্কায় এবং সাতজন মদিনায় মারা গেছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ মৃত্যু স্বাভাবিক কারণে হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ধর্মীয় ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
হজযাত্রীদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত সৌদি মেডিকেল টিম শুক্রবার পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৪৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীকে চিকিৎসা দিয়েছে। এসব সেবার মধ্যে সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জরুরি চিকিৎসা এবং তাপজনিত অসুস্থতার চিকিৎসা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন আরও ২০ হাজার ২৮৮ জন হজযাত্রী। হজ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, জরুরি সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টা হটলাইন ও মেডিকেল টিম সক্রিয় রয়েছে।
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম হজ ফ্লাইট বিজি-৩০০১ জেদ্দার উদ্দেশে যাত্রা করে। এই ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে থেকে জেদ্দা থেকে ঢাকাগামী ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হবে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। ফিরতি ফ্লাইটেও একই এয়ারলাইন্সগুলো অংশ নেবে এবং হজযাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।