{{ news.section.title }}
কালবৈশাখীর শঙ্কা: দুপুরের আগে ৯ জেলায় বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৩ মে) দুপুর ১টার মধ্যে দেশের অন্তত ৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
একই সঙ্গে এসব এলাকার নদীবন্দরকে ২ নম্বর নৌ-সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট জলীয় বাষ্প এবং মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার প্রভাবে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই বৈরী আবহাওয়ার সৃষ্টি হচ্ছে।
শনিবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার, কোথাও কোথাও ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় দেশের আকাশে বজ্রমেঘের সৃষ্টি দ্রুত বাড়ছে। দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে কালবৈশাখী ধরনের ঝড়ের প্রবণতাও বাড়ছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় হঠাৎ দমকা হাওয়া এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কৃষকদেরও খোলা মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাত সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার প্রকাশিত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায়ও বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্তমানে দেশের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে বৃষ্টিপাত বাড়লে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। শনিবার দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেলেও রাতের দিকে আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মে মাসের শেষ দিকে এসে বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু প্রবেশের পূর্বাভাস থাকায় আগামী কয়েকদিনে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এর ফলে নদ-নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা, গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং খোলা স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা দেখা গেছে। কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হলেও দুপুরের পর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে নগরজীবনে ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবীদের দুর্ভোগ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।