{{ news.section.title }}
অক্সফোর্ড ইউনিয়নে হাসনাত আবদুল্লাহ যে বক্তব্য দিলেন
১৪ জুন ২০২৬ অক্সফোর্ড ইউনিয়নে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি নিজের শৈশবের একটি স্মৃতি শেয়ার করে বলেন, ছোটবেলায় তিনি দেখেছেন তাঁর বাবা একজন নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং প্রতিদিন মাত্র ৩ থেকে ৪ পাউন্ড আয় করতেন।
তিনি জানান, একদিন শিশুকালে তিনি তাঁর বাবাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—একটি বিশাল ভবন আসলে কীভাবে এত শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকে? উত্তরে তাঁর বাবা বলেছিলেন, কোনো ভবনকে টিকিয়ে রাখে না ইট, দেয়াল কিংবা বাহ্যিক সাজসজ্জা। এগুলো কেবল কাঠামো ও নির্মাণের উপকরণ। একটি ভবনের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে তার স্তম্ভ বা পিলারের মধ্যে।
এই উদাহরণ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, একটি রাষ্ট্রও অনেকটা একটি ভবনের মতো। রাস্তা, সেতু, অবকাঠামো এবং দৃশ্যমান উন্নয়ন ভবনের দেয়াল ও বাহ্যিক কাঠামোর মতো। কিন্তু একটি দেশের প্রকৃত স্তম্ভ হলো তার প্রতিষ্ঠানসমূহ। আর এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা।
ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি)-এর পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তিনি অঙ্গীকার করেন যে, বাংলাদেশকে একটি নতুন প্রজাতন্ত্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারব্যবস্থা ছাড়া কোনো রাষ্ট্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে পারে না এবং আইনের শাসনকে শক্তিশালী করাই হবে তাদের রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রীয় বিষয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তাঁর ভাষায় একটি ফ্যাসিবাদী শাসনামলে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং সে সময় রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখন আর শুধু প্রতিবাদের সময় নয়; বরং দেশ পুনর্গঠনের সময় এসেছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ কেবল একজন শাসক, একটি সরকার বা একটি রাষ্ট্রপতির চেয়ার পরিবর্তনের জন্য ছিল না। এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং এমন একটি রাষ্ট্র পুনর্গঠন করা, যার প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের মানুষ শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন চায়নি; তারা চেয়েছিল ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের মৌলিক পুনর্গঠন।
অক্সফোর্ড ইউনিয়নের মতো ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের জন্য গৌরবের বিষয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাঁর রাজনৈতিক অনুপ্রেরণার অন্যতম ব্যক্তি ইমরান খানও একসময় এই একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ থেকে এসে এমন একটি ঐতিহাসিক মঞ্চে কথা বলার সুযোগ তাঁর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বক্তব্যের শেষদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আজ অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ভেতরে জুলাই আন্দোলনের প্রতিনিধিরা এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত আছেন, অথচ সাবেক ফ্যাসিবাদী শাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তি বাইরে রাস্তায় অবস্থান করছেন। তিনি এটিকে কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির অপমানজনক পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যারা একসময় দমন-পীড়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তারা এখন নিজেদের সমর্থিত ব্যবস্থার পরিণতি প্রত্যক্ষ করছেন।