ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর হামলার নিন্দা জানাল জামায়াত

ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর হামলার নিন্দা জানাল জামায়াত
ছবির ক্যাপশান, ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর হামলার নিন্দা জানাল জামায়াত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, জলকামান ব্যবহার এবং গুলি চালানোর অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে আন্দোলনরত গ্রাহকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে দলটি।

সোমবার এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এ নিন্দা জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে সাধারণ গ্রাহকেরা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন।

 

জামায়াতের দাবি, ব্যাংকের আমানতকারী ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে ওই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছিল। কিন্তু কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। পরে জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। একপর্যায়ে গুলি চালানো হলে বহু আমানতকারী আহত হন বলে অভিযোগ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

 

তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বলপ্রয়োগ ও দমনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ অনভিপ্রেত। পুলিশের এ ধরনের আচরণ মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, আমানতকারী ও গ্রাহকদের নিয়মতান্ত্রিক অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা করা পুলিশের কাজ হতে পারে না।

 

মতিঝিলের দিলকুশা এলাকায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়। গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে বিভিন্ন শ্রেণির আমানতকারী ও গ্রাহক সেখানে জড়ো হন। তারা ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ, আমানতের নিরাপত্তা এবং ব্যাংক পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অভিযান চালায়।

 

বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও যৌক্তিক। তার দাবি, অতীতে একটি নির্দিষ্ট মহলের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। দেশের মানুষ সেই ঘটনা ভুলে যায়নি। তাই গ্রাহকেরা নিজেদের কষ্টের জমানো টাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

 

তিনি বলেন, ব্যাংক জনগণের আমানতের ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়। তাই আমানতকারী ও গ্রাহকদের উদ্বেগকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে গ্রাহকদের প্রশ্ন থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

 

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত নিরসন করা জরুরি। গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা না গেলে ব্যাংকটি আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি গ্রাহকদের উদ্বেগ দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

 

একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছে জামায়াত। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা, লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, জলকামান ব্যবহার এবং গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িত, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

 

ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম বড় বেসরকারি ব্যাংক। এর গ্রাহক ও আমানতকারীর সংখ্যা বিপুল। তাই ব্যাংকটির পরিচালনা ও মালিকানা কাঠামো নিয়ে যে কোনো বিতর্ক সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে দ্রুত উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা, আস্থা পুনর্গঠন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

মতিঝিলের ঘটনার পর ব্যাংকটির গ্রাহক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গ্রাহকদের দাবি, আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ব্যাংক পরিচালনায় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না, যা ভবিষ্যতে ব্যাংককে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

 

সব মিলিয়ে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকদের কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপ এবং জামায়াতের নিন্দা দেশের ব্যাংক খাতের আস্থা, আমানতকারীর অধিকার ও প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে।


সম্পর্কিত নিউজ