{{ news.section.title }}
জামায়াতের ছায়া বাজেট আর পাস হওয়া বাজেট কাছাকাছিই: শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত ছায়া বাজেটের কাছাকাছি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিরোধীদলের বিভিন্ন প্রস্তাব সরকার বিবেচনায় নেওয়ায় এবারের বাজেটে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাজেট পরবর্তী মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় দলের সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের যে বাজেট জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে, তা অনেকাংশেই জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তুত করা ছায়া বাজেটের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি খাতে সরকার বিরোধীদলের প্রস্তাব বিবেচনা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর আরোপিত অগ্রিম করের বিষয়ে বিরোধীদলের উদ্বেগকে সরকার গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে মুদি দোকান, ছোট ব্যবসায়ী এবং সাইকেলের যন্ত্রাংশের ওপর কর ছাড়ের মতো কিছু পদক্ষেপও ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এবারের বাজেটে ৬১টি প্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানো হয়েছে। তবে এই করছাড়ের সুফল যদি সাধারণ মানুষ বাজারে না পায়, তাহলে বোঝা যাবে যে এর সুবিধা কেবল মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের হাতে চলে যাচ্ছে।
তিনি বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কর কমানোর পরও যদি নিত্যপণ্যের দাম না কমে, তাহলে জনগণ এর সুফল পাবে না। এ ক্ষেত্রে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান অতীতের সংসদীয় রাজনীতির বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন। তিনি সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদ জনগণের প্রতিনিধিদের পবিত্র দায়িত্ব পালনের স্থান। এখানে দায়িত্বহীন বক্তব্য বা আচরণ গণতান্ত্রিক চর্চাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক সৌন্দর্য। তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নেও দলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং এ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী জাতির কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এই বিষয়টি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।