{{ news.section.title }}
জিলবাব লম্বা রাখলে রাস্তার নাপাকি লেগে পোশাক কি অপবিত্র হয়ে যাবে?
ইসলামে নারীর পোশাকের মূল উদ্দেশ্যই হলো, শালীনতা বজায় রাখা, পর-পুরুষের কুদৃষ্টি থেকে নিজেকে সুরক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। পোশাকের ঝুল লম্বা রাখা থেকে শুরু করে পর্দার প্রতিটি ধাপের পেছনে রয়েছে গভীর তাৎপর্য।
পোশাকের ঝুল ও রাস্তার নাপাকি:
আমাদের অনেক মা বোনেরাই মনে করেন, পোশাকের ঝুল (ইযার বা জিলবাব) লম্বা রাখলে রাস্তার ময়লা বা নাপাকি লেগে পোশাক অপবিত্র হয়ে যাবে। উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামাহ (রা.)-এর এক প্রশ্নের উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.) এই সংশয় দূর করে দিয়েছেন।
ইবরাহীম ইবনু ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফের উম্মু ওয়ালাদ সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ (রাঃ)-কে বলেন," আমার আঁচল ঝুলিয়ে রাখি এবং আমি আবর্জনার স্থানে চলাচল করে থাকি।" উম্মু সালামাহ (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "এর পরবর্তী রাস্তা ঐ আঁচলকে পাক করে দেয়।" [তিরমিযী (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ উযু সম্পর্কে), দারিমী (৭৪২), মালিক (১৬), বায়হাক্বী (২/৪০৬)।] (সহীহ।)
অর্থাৎ, লম্বা পোশাকের কোনো অংশ যদি নোংরা জায়গায় লাগে, তবে পরবর্তী শুকনো ও পবিত্র মাটি বা ঘর্ষণের ফলে তা পরিষ্কার হয়ে যায়। এটি নারীর জন্য দ্বীনের পথে চলা সহজ করার একটি বিশেষ রহমত। তবে ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন," এ বিধান শুষ্ক ময়লার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু তরল অপবিত্রতা লাগলে তা ধুয়ে পবিত্র করতে হবে।"
সঠিক পর্দার পাঁচটি মূল শর্ত
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) এবং অন্যান্য আলেমদের মতে, একজন মুসলিম নারীর পোশাক নিম্নোক্ত শর্তসমূহ পূরণ করা জরুরি:
১। শরীরের পূর্ণ আচ্ছাদন: পোশাকটি যেন মাহরাম ব্যতীত অন্য সবার সামনে পুরো শরীর ঢেকে রাখে।
২। অস্বচ্ছ হওয়া: কাপড় এমন পাতলা হবে না যা দিয়ে শরীরের চামড়ার রঙ বোঝা যায়।
৩। ঢিলেঢালা হওয়া: পোশাকটি এত সংকীর্ণ বা টাইট হবে না যা শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন (যেমন—নিতম্ব বা বাহুর ভাঁজ) স্পষ্ট করে দেয়।
৪। পুরুষের সাথে সাদৃশ্যহীনতা: পোশাক ও চলন-বলনে পুরুষের অনুকরণ করা যাবে না। রাসূল (সা.) পুরুষের বেশধারী নারীর ওপর লানত করেছেন।
৫। উগ্র সাজসজ্জা বর্জন: বাইরে বের হওয়ার সময় দৃষ্টি আকর্ষণকারী উগ্র সুগন্ধি বা কারুকার্যময় সাজসজ্জা এড়িয়ে চলতে হবে।
পর্দার হুকুম ও পবিত্রতা:
পর্দা শুধু নারীর জন্যই নয়, এটি নারী ও পুরুষ উভয়েরই অন্তরের পবিত্রতার মাধ্যম। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
"আর যখন তোমরা তাদের (নবী পত্নীদের) নিকট কিছু প্রার্থনা কর, তবে পর্দার আড়াল থেকে চাও। এটিই তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিক পবিত্রতা।" (সূরা আল-আহযাব: ৫৩)
জিলবাবের গুরুত্ব:
আল্লাহ তা'আলা মুমিন নারীদের আদেশ দিয়েছেন তারা যেন তাদের 'জিলবাব' বা বড় চাদরের কিছু অংশ নিজেদের ওপর ঝুলিয়ে দেয়।(সূরা আহযাব: ৫৯)
এটি তাদের চেনার এবং উত্ত্যক্ত হওয়া থেকে বাঁচার এক অন্যতম উপায়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সতর্কতা:
আজকের সমাজে মা বোনদের পর্দার বিষয়ে কিছু অবহেলা লক্ষণীয়। অনেক নারী জনসমক্ষে পর্দা করলেও স্বর্ণকারের দোকান, হাসপাতাল বা দর্জির কাছে গেলে পর্দা শিথিল করে ফেলেন।
মনে রাখা জরুরি:
☞ বর্তমান সময়ে লজ্জা ও দ্বীনি সুরক্ষার প্রেরণা কমে যাওয়ায় পর্দার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
☞ পর্দা কোনো দেশীয় কালচার বা ফ্যাশন নয়। এটি আল্লাহর একটি স্থায়ী বিধান। তাই পরিবেশভেদে পর্দা ত্যাগ করা বা লোক দেখানো পর্দা করা অনুউচিত।
হাদীসের কঠোর সতর্কতা!
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "দুই প্রকার জাহান্নামী লোক আমি (এখন পর্যন্ত) প্রত্যক্ষ করিনি অর্থাৎ, পরে তাদের আবির্ভাব ঘটবে।
তাদের মধ্যে একদল হলো-
"এমন এক শ্রেণীর মহিলা, যারা বস্ত্র পরিহিত উলঙ্গ থাকবে, পর পুরুষকে নিজেদের প্রতি আকর্ষণ করবে ও নিজেরাও আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথা হবে উটের হেলে যাওয়া কুঁজের মত। এ ধরনের মহিলারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং তার সুগন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ এত এত দূরত্বের পথ থেকে পাওয়া যাবে।" (মুসলিম ৫৭০৪, ৭৩৭৩)
এখানে 'বস্ত্র পরিহিত উলঙ্গ' বলতে পাতলা বা সংকীর্ণ পোশাককে বোঝানো হয়েছে। এবং 'তাদের মাথা হবে উটের হিলে যাওয়া কুঁজের মত’ বলতে, মাথার চুলের সাথে পরচুলা বা বস্ত্রখণ্ডর, টেসেল বেঁধে বড় করে খোঁপা বাঁধাকে বোঝানো হয়েছে।