{{ news.section.title }}
আজকের নামাজের সময়সূচি, ০৫ মে ২০২৬
নামাজ ইসলামে অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাসনার একটি রূপ। এটি মানুষকে আল্লাহর সাথে সংযুক্ত করে এবং তার নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে পরিচালিত করে। প্রতিদিনের নামাজ মুমিনকে ধৈর্য, নিয়মিততা, এবং আত্মসংযম শিখায়। নামাজ মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং ভালো কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত করে। এটি কেবল শারীরিক ক্রিয়া নয়, বরং হৃদয় ও মনকে আল্লাহর স্মরণে স্থির রাখার একটি মাধ্যম। নিয়মিত নামাজে মুমিনের জীবনশৈলী সুশৃঙ্খল হয় এবং তার আত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায়।
আজ মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬ ইংরেজি, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা, ১৬ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি। ঢাকা ও আশপাশের এলাকার জন্য নামাজের সময়সূচি নিচে সুশৃঙ্খলভাবে উপস্থাপন করা হলো:-
নামাজের সময়সূচি
- ফজর: ৪:০৩ মিনিট
- জোহর: ১১:৫৯ মিনিট
- আসর: ৪:৩১ মিনিট
- মাগরিব: ৬:৩৩ মিনিট
- ইশা: ৭:৫২ মিনিট
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত
- সূর্যোদয়: ৫:২১ মিনিট
- সূর্যাস্ত: ৬:৩০ মিনিট
তারিখ: বুধবার, ৬ মে ২০২৬
- ফজর: ৩:৫৯ মিনিট
- সূর্যোদয়: ৫:২০ মিনিট
বিভাগীয় শহরের জন্য সময়ের সমন্বয়
বিয়োগ করতে হবে:
- চট্টগ্রাম: -০৫ মিনিট
- সিলেট: -০৬ মিনিট
যোগ করতে হবে:
- খুলনা: +০৩ মিনিট
- রাজশাহী: +০৭ মিনিট
- রংপুর: +০৮ মিনিট
- বরিশাল: +০১ মিনিট
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে কত রাকাত
প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মোট ১৭ রাকাত ফরজ রয়েছে। এ ছাড়া ১২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা রয়েছে, যা নবীজি (সা.) নিয়মিত আদায় করতেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে আরও কিছু সুন্নতে যায়েদা রয়েছে, যা নবীজি (সা.) মাঝে মাঝে আদায় করতেন। আর ইশার নামাজের পর সুবহে সাদিকের আগে ৩ রাকাত বেতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।
ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ আদায় করা অপরিহার্য। এগুলো ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে। কোনো কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে ছুটে গেলে পরে তা কাজা করে নিতে হবে। অন্যদিকে, সুন্নতে মুআক্কাদা ও সুন্নতে যায়েদা নামাজ আদায় করলে সওয়াব পাওয়া যাবে, তবে তা আদায় না করলে গুনাহ হবে না।
নিচে ওয়াক্তভিত্তিক রাকাতসংখ্যা তুলে ধরা হলোঃ -
ফজর
ফজরের ফরজ নামাজ ২ রাকাত। ফরজের আগে ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
জোহর
জোহরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত এবং পরে ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
আসর
আসরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নতে যায়েদা।
মাগরিব
মাগরিবের ফরজ নামাজ ৩ রাকাত। ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
ইশা
ইশার ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নতে যায়েদা এবং ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা। ইশার ফরজ ও সুন্নতের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ৩ রাকাত বেতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব
পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামাজ ইসলামে ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় ফরজ ঘোষণা করে বলেন, নামাজ মুমিনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ফরজ। (সুরা নিসা: ১০৩)
ফরজ নামাজ ছেড়ে দেওয়ার ভয়াবহতা বোঝাতে হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমাদের ও কাফেরদের মধ্যে যে পার্থক্য আছে তা হলো নামাজ। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দিল, সে কুফুরি করল। (সুনানে তিরমিজি: ২১১৩)
নবীজি (সা.) আরও বলেন, বান্দা আর শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ ছেড়ে দেওয়া। (সহিহ মুসলিম: ১৪৮)
আখিরাতেও নামাজের হিসাবই হবে সবার আগে। রাসুল (সা.) বলেন, কেয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সবচেয়ে আগে তার নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। সেটি যদি যথাযথ পাওয়া যায়, তবে সে সফল হয়ে গেলো এবং মুক্তি পেয়ে গেলো। আর যদি তাতে ত্রুটি পাওয়া যায়, তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। (সহিহ জামে সগির: ২০২০)
নামাজ কেবল একটি ইবাদতই নয়, এটি একজন মুমিনের দৈনন্দিন জীবনের মূল ভিত্তি। নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় মানুষকে আল্লাহর স্মরণে সচল রাখে, আত্মশুদ্ধির পথে পরিচালিত করে এবং জীবনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে। তাই সময়সূচি জানা, রাকাতের সংখ্যা বোঝা এবং নামাজের তাৎপর্য অনুধাবন করে নিয়মিতভাবে আদায়ে যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।