{{ news.section.title }}
আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৭ জুন ২০২৬
ইসলাম মানবজীবনের জন্য একটি পরিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। এর প্রতিটি বিধান মানুষের দুনিয়াবি কল্যাণ, নৈতিক উন্নতি এবং আখিরাতের সফলতার পথ নির্দেশ করে। ইসলামের মৌলিক স্তম্ভগুলোর মধ্যে নামাজ ও রোজা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, যা সামর্থ্যবান-অসামর্থ্যবান নির্বিশেষে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য নির্ধারিত ইবাদত। তাই জীবনের ব্যস্ততা, কর্মব্যস্ত সময়সূচি কিংবা পার্থিব কোনো অজুহাত যেন আমাদের ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় থেকে বিরত রাখতে না পারে।
নামাজ হলো বান্দা ও তার রবের মধ্যকার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যম। একজন মুসলমান দিনে পাঁচবার নামাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সামনে উপস্থিত হয়ে নিজের আনুগত্য, কৃতজ্ঞতা ও আত্মসমর্পণের প্রকাশ ঘটায়। নিয়মিত নামাজ মানুষের অন্তরে তাকওয়া সৃষ্টি করে এবং অন্যায়, অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বারবার নামাজ কায়েম করার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ নামাজ শুধু একটি ইবাদত নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের এক অনন্য প্রশিক্ষণ। যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সঙ্গে নামাজ আদায় করে, তার জীবনে প্রশান্তি ও আল্লাহর রহমত নেমে আসে।
আজ বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ ইংরেজি, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বাংলা, ১ মহররম ১৪৪৮ হিজরি। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
নামাজের সময়সূচি
- ফজর: ভোর ৩টা ৪৪ মিনিট
- জোহর: দুপুর ১২টা ০৩ মিনিট
- আসর: বিকেল ৪টা ৩৮ মিনিট
- মাগরিব: সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিট
- ইশা: রাত ৮টা ১৭ মিনিট
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত
- সূর্যোদয়: সকাল ৫টা ১১ মিনিট
- সূর্যাস্ত: সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিট
বিভাগীয় শহরগুলোর জন্য ঢাকার সময়সূচির সঙ্গে নিচের সময়গুলো যোগ বা বিয়োগ করতে হবে-
সময় বিয়োগ করতে হবে
- চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট
- সিলেট: ৬ মিনিট
সময় যোগ করতে হবে
- খুলনা: ৩ মিনিট
- বরিশাল: ১ মিনিট
- রাজশাহী: ৭ মিনিট
- রংপুর: ৮ মিনিট
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে কত রাকাত
প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মোট ১৭ রাকাত ফরজ রয়েছে। এ ছাড়া ১২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা রয়েছে, যা নবীজি (সা.) নিয়মিত আদায় করতেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে আরও কিছু সুন্নতে যায়েদা রয়েছে, যা নবীজি (সা.) মাঝে মাঝে আদায় করতেন। আর ইশার নামাজের পর সুবহে সাদিকের আগে ৩ রাকাত বেতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।
ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ আদায় করা অপরিহার্য। এগুলো ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে। কোনো কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে ছুটে গেলে পরে তা কাজা করে নিতে হবে। অন্যদিকে, সুন্নতে মুআক্কাদা ও সুন্নতে যায়েদা নামাজ আদায় করলে সওয়াব পাওয়া যাবে, তবে তা আদায় না করলে গুনাহ হবে না।
নিচে ওয়াক্তভিত্তিক রাকাতসংখ্যা তুলে ধরা হলোঃ -
ফজর
ফজরের ফরজ নামাজ ২ রাকাত। ফরজের আগে ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
জোহর
জোহরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত এবং পরে ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
আসর
আসরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নতে যায়েদা।
মাগরিব
মাগরিবের ফরজ নামাজ ৩ রাকাত। ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
ইশা
ইশার ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নতে যায়েদা এবং ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা। ইশার ফরজ ও সুন্নতের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ৩ রাকাত বেতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব
পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামাজ ইসলামে ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় ফরজ ঘোষণা করে বলেন, নামাজ মুমিনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ফরজ। (সুরা নিসা: ১০৩)
ফরজ নামাজ ছেড়ে দেওয়ার ভয়াবহতা বোঝাতে হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমাদের ও কাফেরদের মধ্যে যে পার্থক্য আছে তা হলো নামাজ। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দিল, সে কুফুরি করল। (সুনানে তিরমিজি: ২১১৩)
নবীজি (সা.) আরও বলেন, বান্দা আর শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ ছেড়ে দেওয়া। (সহিহ মুসলিম: ১৪৮)
আখিরাতেও নামাজের হিসাবই হবে সবার আগে। রাসুল (সা.) বলেন, কেয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সবচেয়ে আগে তার নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। সেটি যদি যথাযথ পাওয়া যায়, তবে সে সফল হয়ে গেলো এবং মুক্তি পেয়ে গেলো। আর যদি তাতে ত্রুটি পাওয়া যায়, তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। (সহিহ জামে সগির: ২০২০)
নামাজ কেবল একটি ইবাদতই নয়, এটি একজন মুমিনের দৈনন্দিন জীবনের মূল ভিত্তি। নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় মানুষকে আল্লাহর স্মরণে সচল রাখে, আত্মশুদ্ধির পথে পরিচালিত করে এবং জীবনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে। তাই সময়সূচি জানা, রাকাতের সংখ্যা বোঝা এবং নামাজের তাৎপর্য অনুধাবন করে নিয়মিতভাবে আদায়ে যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।