{{ news.section.title }}
আয়াতুল কুরসির অর্থ ও এটি পড়ার ফজিলত কী?
পবিত্র আল কোরআন মানবজাতির জন্য আল্লাহ তাআলার সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত। এর প্রতিটি আয়াত, প্রতিটি শব্দ এবং প্রতিটি হরফের মধ্যে রয়েছে হেদায়েত, রহমত ও বরকত। তবে কোরআনের কিছু আয়াত রয়েছে, যেগুলো বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতের কারণে অন্যগুলোর তুলনায় স্বতন্ত্র অবস্থান লাভ করেছে। সেই বিশেষ আয়াতগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ হলো ‘আয়াতুল কুরসি’।
পবিত্র কোরআনের দ্বিতীয় সুরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতকে আয়াতুল কুরসি বলা হয়। এই আয়াতে মহান আল্লাহর একত্ববাদ, অসীম ক্ষমতা, জ্ঞান, কর্তৃত্ব ও মহিমার এমন বর্ণনা এসেছে, যা কোরআনের অন্য কোনো একক আয়াতে এত বিস্তৃতভাবে পাওয়া যায় না। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) আয়াতুল কুরসিকে কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
আয়াতুল কুরসি কেন কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত?
আয়াতুল কুরসির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে আল্লাহ তাআলার পরিচয় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এখানে আল্লাহর জীবন, জ্ঞান, কুদরত, রাজত্ব, হেফাজত এবং আসমান-জমিনের ওপর তাঁর পূর্ণ কর্তৃত্বের ঘোষণা রয়েছে।
আয়াতটিতে আল্লাহর এমন গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে, যা একজন মুমিনের ঈমানকে দৃঢ় করে এবং তার অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতা সৃষ্টি করে। এ কারণে ইসলামি চিন্তাবিদ ও মুফাসসিররা আয়াতুল কুরসিকে তাওহীদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঘোষণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সবচেয়ে বড় আয়াত হিসেবে রাসুল (সা.)-এর ঘোষণা
আয়াতুল কুরসির মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসে স্পষ্ট বর্ণনা এসেছে।
রাসুল (সা.) উবাই ইবনে কা’ব (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন: “আল্লাহর কিতাবের সবচেয়ে বড় আয়াত কোনটি?”
তিনি বললেন: “আয়াতুল কুরসি।”
রাসুল (সা.) বললেন: “ও উবাই, জ্ঞানের অভিনন্দন তোমাকে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮১০)
এখানে ‘সবচেয়ে বড়’ বলতে দৈর্ঘ্যের দিক থেকে বড় বোঝানো হয়নি; বরং মর্যাদা, ফজিলত ও তাৎপর্যের দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ বোঝানো হয়েছে। কারণ কোরআনের সবচেয়ে দীর্ঘ আয়াত হলো সুরা বাকারার ২৮২ নম্বর আয়াত।
আল্লাহর একত্ববাদের শক্তিশালী ঘোষণা
মুফাসসিরদের মতে, আয়াতুল কুরসির মূল বিষয় হলো তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদ।
ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, আয়াতুল কুরসি আল্লাহর মহিমার এমন সার্বিক বর্ণনা, যা আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠায় সর্বশ্রেষ্ঠ দলিল। এখানে আল্লাহর জীবন, জ্ঞান ও কুদরতের পূর্ণতা বর্ণিত হয়েছে।
(কুরতুবি, আল-জামি লি আহকামিল কুরআন, ৩/২৭৬)
একজন মুমিন যখন আয়াতুল কুরসি তেলাওয়াত করেন, তখন তিনি শুধু একটি আয়াত পড়েন না; বরং আল্লাহর মহিমা, ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের প্রতি নিজের বিশ্বাসকে পুনর্নবায়ন করেন।
নামাজের পর পাঠের অসাধারণ পুরস্কার
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ। আর সেই নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করার ব্যাপারে এসেছে বিরাট সুসংবাদ।
হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজ শেষে আয়াতুল কুরসি পড়েন তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোনো কিছু বাধা হবে না।”
অন্য বর্ণনায় এসেছে:
“যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়বে, তার জান্নাতে প্রবেশে কেবল মৃত্যু বাধা হয়ে থাকবে।”
(সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ৯৯২৮; সহিহুল জামি’, হাদিস: ৬৪৬৪)
মাত্র এক মিনিটের একটি আমল একজন বান্দার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ বয়ে আনতে পারে। অথচ আমরা অনেক সময় নামাজ শেষ করেই দুনিয়াবি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি এবং এই মূল্যবান আমলটি ভুলে যাই।
শয়তান থেকে সুরক্ষার পরীক্ষিত আমল
আয়াতুল কুরসির অন্যতম বড় ফজিলত হলো এটি শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে।
রাসুল (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি রাতে আয়াতুল কুরসি পড়বে, আল্লাহ তার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত করবেন এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তার কাছে আসতে পারবে না।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস ২৩১১)
এ কারণে বহু আলেম ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতি আমল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আবু হুরায়রা (রা.) ও শয়তানের বিস্ময়কর ঘটনা
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) একদিন দেখতে পেলেন, এক ব্যক্তি সদকার মাল চুরি করছে। তখন তিনি তার হাত ধরে বললেন, আমি তোমাকে আল্লাহর রাসুলের (সা.) কাছে নিয়ে যাব। তখন আগন্তুক বলেন যে, সে খুব অভাবী। আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ছেড়ে দিলেন। পরদিন সকালে রাসুলের (সা.) কাছে আসার পর তিনি আবু হুরায়রাকে (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, গতকাল তোমার অপরাধীকে কী করেছ? আবু হুরায়রা তখন তাকে ক্ষমা করার কথা বললেন। রাসুল (সা.) বললেন, সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে। সে আবার আসবে।
পরদিন আবু হুরায়রা চোরকে পাকড়াও করলেন আর বললেন, এবার অবশ্যই আমি তোমাকে আল্লাহর রাসুলের (সা.) কাছে নিয়ে যাব। এবারও সেই চোর বলেন, সে খুব অভাবী আর তার অনেক প্রয়োজন। তিনি শপথ করেন যে, আর আসবেন না। পরদিন আবারও রাসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি একই জবাব দেন। তখন তিনি বলেন, আসলেই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে। সে আবারও আসবে।
পরদিন আবারও আবু হুরায়রা (রা.) চোরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। যখন সে আবারও চুরি করতে এলো, তখন তিনি তাকে পাকড়াও করলেন। বললেন, এবার অবশ্যই আমি তোমাকে আল্লাহর রাসুলের (সা.) কাছে নিয়ে যাব। চোর যখন দেখল এবার তাকে সত্যিই রাসুলের (সা.) কাছে নিয়ে যাওয়া হবে; তখন অবস্থা বেগতিক দেখে বলল, আমাকে মাফ করো। আমি তোমাকে এমন কিছু বলে দেব, যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দান করবেন। আবু হুরায়রা (রা.) সেটা জানতে চাইলে চোর বলেন, যখন ঘুমাতে যাবে; তখন আয়াতুল কুরসি পরে ঘুমাবে। তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য একজন পাহারাদার নিযুক্ত করবেন। যে তোমার সঙ্গে থাকবে আর কোনো শয়তান সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে আসতে পারবে না।
এটি শুনে আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ছেড়ে দিলেন। পরদিন রাসুল (সা.) আবার অপরাধীর কথা জানতে চাইলে তিনি আগের রাতের কথা বললেন। তখন রাসুল (সা.) বললেন, যদিও সে চরম মিথ্যাবাদী কিন্তু সে সত্য বলেছে। রাসুল (সা.) আবু হুরায়রাকে (রা.) বললেন, তুমি কি জানো সে কে? আবু হুরায়রা (রা.) বললেন, না। রাসুল (সা.) আবু হুরায়রাকে (রা.) বললেন, সে হচ্ছে শয়তান।
ঘরে আয়াতুল কুরসি পাঠের গুরুত্ব
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সুরা বাকারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত আছে। সেটি হলো আয়াতুল কুরসি। যে ঘরে এটি পাঠ করা হবে, সেখান থেকে শয়তান পালাতে থাকে। আলেমরা বলেন, যে পরিবারে নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করা হয় এবং বিশেষ করে আয়াতুল কুরসি পাঠ করা হয়, সেখানে আল্লাহর রহমত ও বরকত নাজিল হয়। পারিবারিক অশান্তি, ভয়-ভীতি এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকেও এমন পরিবার তুলনামূলক নিরাপদ থাকে।
সকাল-সন্ধ্যার আমলে আয়াতুল কুরসি
ইসলামি স্কলাররা বলেন, সকাল ও সন্ধ্যার জিকিরের অংশ হিসেবেও আয়াতুল কুরসি পাঠ করা অত্যন্ত উপকারী। যে ব্যক্তি সকালে আয়াতুল কুরসি পড়বে, সে বিকেল পর্যন্ত আল্লাহর হেফাজতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এটি পাঠ করবে, সে সকাল পর্যন্ত আল্লাহর সুরক্ষায় থাকবে। এ কারণে বহু আলেম প্রতিদিন ফজরের পর এবং মাগরিবের পর অন্তত একবার আয়াতুল কুরসি পাঠ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
মুফাসসিরদের দৃষ্টিতে আয়াতুল কুরসি
ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন, এই আয়াত প্রমাণ করে আল্লাহর কুরসি সমগ্র আসমান-জমিনকে পরিবেষ্টন করেছে। আর “কুরসি” বলতে বোঝানো হয়েছে তাঁর মহিমান্বিত সিংহাসন বা ক্ষমতার আসন।
(ইবনে কাসীর, তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, ১/৩৯৯)
ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন, আয়াতুল কুরসি হলো তাওহীদের স্পষ্টতম ব্যাখ্যা। যে এটিকে আন্তরিকভাবে পাঠ করবে, তার ঈমান আরও দৃঢ় হবে এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা বাড়বে।
(ইবনে কাইয়িম, আল-ফাওয়ায়েদ, পৃ. ১০৩)
কেন প্রতিটি মুসলমানের আয়াতুল কুরসি মুখস্থ রাখা উচিত?
আয়াতুল কুরসি এমন একটি আয়াত, যা একজন মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। এটি নামাজের পর পড়া যায়, ঘুমানোর আগে পড়া যায়, ভয়ের সময় পড়া যায়, বিপদের সময় পড়া যায় এবং সন্তানদেরও শেখানো যায়।
এতে রয়েছে-
- আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা
- শয়তান থেকে সুরক্ষা
- ঈমানের দৃঢ়তা
- অন্তরের প্রশান্তি
- জান্নাতের সুসংবাদ
- আল্লাহর হেফাজতের প্রতিশ্রুতি
আয়াতুল কুরসির ফজিলত ও বিশেষ মর্যাদা
ইসলামি শরিয়তে আয়াতুল কুরসির মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে পরিচিত এই আয়াত শুধু তাওহীদের ঘোষণা নয়, বরং একজন মুমিনের জন্য নিরাপত্তা, বরকত, প্রশান্তি ও জান্নাতের সুসংবাদ বহন করে। কোরআন ও হাদিসে আয়াতুল কুরসির অসংখ্য ফজিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথমত, আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে আল্লাহ তাআলার বিশেষ হেফাজত লাভ করা যায়। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে এটি তেলাওয়াত করলে শয়তান ও অশুভ শক্তির অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। এ কারণে বহু আলেম এটিকে একজন মুমিনের দৈনন্দিন আমলের অপরিহার্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয়ত, প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করা জান্নাত লাভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। হাদিসে এ আমলের জন্য এমন সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, যা অন্য অনেক আমলের ক্ষেত্রে বিরল। একজন মুসলমান যদি নিয়মিত ফরজ নামাজের পর এটি তেলাওয়াত করেন, তাহলে জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যুই কেবল অবশিষ্ট থাকে।
তৃতীয়ত, আয়াতুল কুরসি মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভরসা ও ঈমানের দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে। এতে আল্লাহর জ্ঞান, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও হেফাজতের যে বর্ণনা এসেছে, তা মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি সৃষ্টি করে এবং ভয়, উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা কমাতে সহায়তা করে।
চতুর্থত, আয়াতুল কুরসি নিয়মিত তেলাওয়াত করলে ঘরবাড়িতে বরকত নাজিল হয় এবং শয়তানের প্রভাব কমে যায়। ইসলামি বর্ণনায় এসেছে, যে ঘরে আল্লাহর স্মরণ ও কোরআন তেলাওয়াত করা হয়, সেখানে রহমত অবতীর্ণ হয় এবং শয়তান দূরে সরে যায়।
পঞ্চমত, সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করা একজন মুমিনের জন্য বিশেষ সুরক্ষার মাধ্যম। আলেমদের মতে, এটি নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ও রহমত লাভ করা যায়।
ষষ্ঠত, আয়াতুল কুরসি কেবল একটি আমল নয়; এটি একজন মুসলমানের আকিদা ও বিশ্বাসকে শক্তিশালী করার অন্যতম মাধ্যম। এ আয়াতের প্রতিটি বাক্যে আল্লাহর মহত্ব, একত্ববাদ এবং সর্বময় ক্ষমতার ঘোষণা রয়েছে। ফলে এর অর্থ বুঝে তেলাওয়াত করলে বান্দার অন্তরে আল্লাহভীতি, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতা আরও বৃদ্ধি পায়।
এ কারণেই ইসলামি চিন্তাবিদ, মুফাসসির ও মুহাদ্দিসগণ আয়াতুল কুরসিকে কোরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াতগুলোর অন্যতম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একজন মুসলমানের জন্য প্রতিদিনের জীবনে আয়াতুল কুরসি তেলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কল্যাণকর একটি আমল।
আয়াতুল কুরসির বাংলা উচ্চারণ
আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম। লা তা খুজুহু সিনাতু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিস সামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ। মান জাল্লাজি ইয়াশ ফাউ ইনদাহু ইল্লা বি ইজনিহি, ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম মিন ইল মিহি ইল্লা বিমা শা আ, ওয়াসিয়া কুরসি ইউহুস সামা ওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলি ইয়ুল আজিম।
আয়াতুল কুরসির বাংলা অর্থ
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে, সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসি (সিংহাসন) সমস্ত আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।
আমাদের করণীয়
প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করা কোনো কঠিন কাজ নয়। যারা এখনো মুখস্থ জানেন না, তারা সহজেই এটি মুখস্থ করে নিতে পারেন। একটি আয়াত তেলাওয়াত করতে এক মিনিটেরও কম সময় লাগে। অথচ এর প্রতিদান ও ফজিলত অপরিসীম।
তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত ফরজ নামাজের পর, ঘুমানোর আগে এবং সকাল-সন্ধ্যার আমলে নিয়মিত আয়াতুল কুরসি পাঠ করা। এটি শুধু একটি আয়াত নয়; বরং একজন মুমিনের জন্য নিরাপত্তার ঢাল, জান্নাতের সুসংবাদ, ঈমানের শক্তি এবং আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের অন্যতম মাধ্যম।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি আয়াতুল কুরসি তেলাওয়াত করার, এর অর্থ উপলব্ধি করার এবং এর আলোকে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।