অবসর ভেঙে কি ডি মারিয়া ফিরছেন বিশ্বকাপে?

অবসর ভেঙে কি ডি মারিয়া ফিরছেন বিশ্বকাপে?
ছবির ক্যাপশান, ছবি : রয়টার্স

আর্জেন্টিনার জার্সিতে আবারও অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে দেখা যেতে পারে-এমন আলোচনা নতুন করে জোরালো হয়েছে ফুটবল দুনিয়ায়। ২০২৪ কোপা আমেরিকার পর জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ৩৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গার এখনো ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন।

নিজের শৈশবের ক্লাব রোসারিও সেন্ট্রালের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই প্রশ্ন তুলছে-২০২৬ বিশ্বকাপে কি আবারও আকাশী-সাদা জার্সিতে দেখা যাবে আর্জেন্টিনার বড় ম্যাচের নায়ককে?

 

ডি মারিয়া ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার পর জাতীয় দল থেকে অবসর নেন। রয়টার্স জানিয়েছিল, তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে ১৪৫ ম্যাচ খেলার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান। আর ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক সূত্রগুলোতে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার গোলসংখ্যা ৩১ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

 

রোসারিওতে এখনো উজ্জ্বল ডি মারিয়া

বর্তমানে ডি মারিয়া খেলছেন রোসারিও সেন্ট্রালের হয়ে। ইউরোপের দীর্ঘ অধ্যায় শেষে শৈশবের ক্লাবে ফিরে তিনি শুধু আবেগের জায়গা থেকেই খেলছেন না, মাঠেও রাখছেন বড় প্রভাব। আর্জেন্টিনার লিগা প্রফেশনালে Barracas Central-এর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে গোল করেন তিনি। শিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনজো কপেত্তি প্রথম গোল করার পর ম্যাচের ৯০তম মিনিটে জুলিয়ান ফার্নান্দেজের সঙ্গে সমন্বয়ে গোল করেন ডি মারিয়া। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, আগের দুই ম্যাচে দুটি অ্যাসিস্ট করার পর আবার গোল করতে তিনি খুব আগ্রহী ছিলেন এবং ক্যারিয়ারের এই অনন্য সময় উপভোগ করছেন।

 

এই পারফরম্যান্সের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় ওঠে। বয়স ৩৮ হলেও ডি মারিয়ার গতি, বল নিয়ন্ত্রণ, গোল করার ক্ষমতা ও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রভাব রাখার অভ্যাস এখনো কমেনি-এমন মন্তব্য করছেন অনেক সমর্থক।

 

ফিল্লোলের মন্তব্যে জল্পনা আরও বাড়ল

আর্জেন্টিনার ১৯৭৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের কিংবদন্তি গোলকিপার উবালদো মাতিলদো ফিল্লোল ডি মারিয়ার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে সরাসরি কথা বলেছেন। রোসারিও৩–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিল্লোল সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে বলেন, আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফ এবং কিছু খেলোয়াড় ডি মারিয়াকে জাতীয় দলে ফেরার বিষয়ে উৎসাহিত করছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তার ভাষায়, “আমি যা দেখছি, আজ সে খেলার অবস্থায় আছে, কোনো সন্দেহ নেই।”

 

টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে ফিল্লোলের মন্তব্যকে আরও সরাসরি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, ডি মারিয়ার “খেলার জন্য থাকা উচিত”-বিশেষ করে ২০২৬ বিশ্বকাপে।

 

ফিল্লোল শুধু আবেগের জায়গা থেকে কথা বলেননি। তিনি আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেও যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। টিএন–এর প্রতিবেদনে তার বক্তব্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার লিগে সহজে জায়গা পাওয়া যায় না, এখানে প্রতিটি বলের জন্য লড়তে হয়। সেই কঠিন লিগে ডি মারিয়া এখনো গতি, ক্ষুধা ও গোল করার সামর্থ্য দেখাচ্ছেন।

 

মেসির পাশে অভিজ্ঞতার প্রশ্ন

আর্জেন্টিনা এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে। লিওনেল স্কালোনির দল ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা জিতে এক সোনালি অধ্যায় পার করেছে। এই সাফল্যের বড় অংশ জুড়ে আছেন ডি মারিয়া। ২০২১ কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে তার গোল, ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল এবং বড় ম্যাচে বারবার নির্ণায়ক পারফরম্যান্স তাকে আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা দিয়েছে। রয়টার্সের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে মেসিও ডি মারিয়ার বড় ম্যাচে গোল করার অভ্যাসের কথা স্মরণ করেছিলেন।

 

সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন, নিয়মিত একাদশে না খেললেও ডি মারিয়ার মতো অভিজ্ঞ ফুটবলার স্কোয়াডে থাকলে আর্জেন্টিনা মানসিকভাবে শক্তিশালী হবে। বড় ম্যাচে চাপ সামলানো, লকাররুমে প্রভাব রাখা, তরুণদের সহায়তা করা এবং শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা-এসব কারণেই তাকে আবার ভাবা যেতে পারে।

 

তবে সিদ্ধান্ত সহজ নয়

ডি মারিয়ার ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা যতই বাড়ুক, সিদ্ধান্তটি সহজ হবে না। কারণ তিনি জাতীয় দল থেকে বিদায় নিয়েছিলেন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ অবস্থায়-কোপা আমেরিকা জিতে। অনেক সমর্থক মনে করেন, সেটিই ছিল তার জন্য সুন্দরতম সমাপ্তি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরে এলে সেই আবেগঘন বিদায়ের ধারাবাহিকতা ভেঙে যেতে পারে।

 

অন্যদিকে স্কালোনির সামনে আছে স্কোয়াড ভারসাম্যের প্রশ্ন। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনাকে অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে সঠিক সমন্বয় করতে হবে। আলেহান্দ্রো গারনাচো, নিকোলাস গনসালেস, জুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্তিনেজসহ আক্রমণভাগে একাধিক বিকল্প আছে। ডি মারিয়াকে ফেরালে কার জায়গা কমবে-সেটিও বড় প্রশ্ন।

 

রয়টার্স ২০২৪ সালের আগস্টে জানিয়েছিল, ডি মারিয়া কোপা আমেরিকার পর অবসর ঘোষণা করায় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের স্কোয়াডে ছিলেন না। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এখনো জাতীয় দলের বাইরে।

 

ডি মারিয়া নিজে কী চান?

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডি মারিয়ার নিজের সিদ্ধান্ত। অতীতে তিনি বারবার বলেছেন, আর্জেন্টিনার হয়ে সবকিছু জিতে বিদায় নিতে পারা তার স্বপ্নের মতো ছিল। তাই তিনি নিজে যদি সিদ্ধান্ত না বদলান, তবে এই আলোচনা সমর্থক ও সাবেক ফুটবলারদের প্রত্যাশাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

 

তবে বর্তমান পারফরম্যান্স তাকে নতুন আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। রোসারিও সেন্ট্রালের হয়ে গোল, অ্যাসিস্ট এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ আর্জেন্টাইন লিগে নিজেকে প্রমাণ করা দেখাচ্ছে-ডি মারিয়া এখনো শুধু অতীতের নাম নন, বর্তমানেও কার্যকর ফুটবলার।

 

তথ্যসূত্র: রয়টার্স


সম্পর্কিত নিউজ