{{ news.section.title }}
দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক রূপান্তরে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হয়েছে: সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ
দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) ফিন্যান্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ। তিনি বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করেনি, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাজধানীর এআইইউবি অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি অনুধাবন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এআইইউবি, জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন (এসপিএফ) এবং রিক্কিও ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং বাংলাদেশের ভূমিকা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ। প্রবন্ধে তিনি তুলে ধরেন, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক কাঠামো দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে বাংলাদেশ, যার পেছনে রয়েছে রপ্তানিমুখী শিল্পের সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদে বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারের উদ্যোগ।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যেও বাংলাদেশ স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এ সক্ষমতা ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের গুরুত্ব আরও বাড়াবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতার অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলেও তিনি মত দেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিবর্তিত কৌশলগত বাস্তবতায় বাংলাদেশের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এ বাস্তবতায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুশাসন, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সিএমএস ফেলো ও রিক্কিও ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. নাওনোরি কুসাকাবে। সমাপনী বক্তব্যে এআইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং নীতিনির্ভর গবেষণা জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষকেরা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি, বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা, সুশাসন, চীনের সফট পাওয়ার এবং বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, নীতিনির্ধারণী বিশেষজ্ঞ, শিক্ষার্থী এবং জাপানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, পরিবর্তিত আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করতে হবে।