আপত্তিকর অবস্থায় আটক ও ছাত্রী উত্ত্যক্তের অভিযোগে চবি ছাত্রদলের দুই যুগ্ম সাধারন সস্পাদক বহিষ্কার ও শোকজ

আপত্তিকর অবস্থায় আটক ও ছাত্রী উত্ত্যক্তের অভিযোগে চবি ছাত্রদলের দুই যুগ্ম সাধারন সস্পাদক বহিষ্কার ও শোকজ
ছবির ক্যাপশান, ছবি: জাগরণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে পৃথক দুটি বিতর্কিত ঘটনার জেরে ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। এর মধ্যে একজনকে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ আটক হওয়ার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আরেকজনকে এক নারী শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত ও হয়রানির অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে।

রবিবার (২৪ মে) সন্ধ্যায় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমানকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, গত শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় নিজ ভাড়া বাসায় এক বান্ধবীসহ ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ স্থানীয়দের কাছে তিনি আটক হন। এ ঘটনার পরই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে বহিষ্কৃত নেতা আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান লিখেন, “গতরাতে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতির সময় কিছু স্থানীয় ছেলে আমাকে অনুসরণ করে বাসায় উঠে আসে। পরে তারা আমাকে মারধর করে, অপমানজনকভাবে ছবি-ভিডিও ধারণ করে এবং আমার ও আমার বন্ধুর জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। পরে প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে নিয়ে যান।”

 

তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, একই দিনে চবি শাখা ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানি এবং ভুয়া আইডি ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি প্রচারের অভিযোগ রয়েছে।

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রক্টর অফিসে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শামীম উদ্দিনের দ্বারা হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন এবং বিষয়টি তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শামীম উদ্দিন বলেন, “তিন বছর আগে আমাদের সম্পর্ক ছিল, বর্তমানে কোনো যোগাযোগ নেই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

 

চবির এই দুই পৃথক ঘটনায় ছাত্রদলের অভ্যন্তরে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও নজরে রেখেছে এবং প্রয়োজন হলে আরও তদন্তের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।


সম্পর্কিত নিউজ