ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মন্তব্য প্রত্যাহার করলেন ববি হাজ্জাজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মন্তব্য প্রত্যাহার করলেন ববি হাজ্জাজ
ছবির ক্যাপশান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মন্তব্য প্রত্যাহার করলেন ববি হাজ্জাজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে উল্লেখ করে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘোষণা দেন।

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে করা মন্তব্য ঘিরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়–সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। বক্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের ডাক দেন একদল শিক্ষার্থী।

 

সমালোচনার মধ্যেই ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে ববি হাজ্জাজ বলেন, তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে বোঝা হয়েছে এবং বোঝা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ভুল ব্যাখ্যাও করা হয়েছে। বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজন অনুভব করেই তিনি এই ব্যাখ্যা দিচ্ছেন বলে জানান।

 

তিনি উল্লেখ করেন, পডকাস্টে দেওয়া মন্তব্যগুলো সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত চিন্তা ও মতামত। এগুলো কোনোভাবেই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়। তাঁর দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মর্যাদা বা অবদানকে খাটো করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না; বরং বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আরও বেশি বিশ্বমানের গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি বলতে চেয়েছিলেন।

 

স্ট্যাটাসে ববি হাজ্জাজ বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। গবেষণার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়া, একাডেমিক উৎকর্ষের পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনার প্রভাব, শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন এবং প্লেজারিজমের মতো অনৈতিক একাডেমিক চর্চার অভিযোগ এসব বিষয়ে তিনি সমালোচনা করেছেন।

 

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, পডকাস্টের আলোচনাটি ছিল অনানুষ্ঠানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত কথোপকথন। এটি কোনো গবেষণাভিত্তিক, প্রাতিষ্ঠানিক বা নীতিগত আলোচনা ছিল না। আনুষ্ঠানিক আলোচনার পরিসর হলে বক্তব্যের ভাষা ও উপস্থাপনা আরও কাঠামোবদ্ধ ও নির্দিষ্ট হতো বলেও জানান তিনি।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও জাতি গঠনে অবদানের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং বিশ্বমানের গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানচর্চার স্বীকৃত কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করুক এটাই তাঁর প্রত্যাশা।

 

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান নেতৃত্বও এই লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করছেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও গবেষণানির্ভর, প্রতিযোগিতামূলক ও সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে আশাবাদ জানান তিনি।

 

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে ববি হাজ্জাজ বলেন, তাঁর আংশিক বক্তব্য ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করেছে, অনেকেই অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁর অনেক প্রিয়জন ও শুভাকাঙ্ক্ষী মর্মাহত হয়েছেন। এ কারণে তিনি বক্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এরপর এ বিষয়ে আর কোনো বিতর্ক ও ভুল বোঝাবুঝি থাকবে না।

 

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানায় শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। সংগঠনটির নেতারা বক্তব্যকে অবমাননাকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

 

সব মিলিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, বক্তব্য প্রত্যাহারের ঘোষণার পর তা কিছুটা প্রশমিত হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


সম্পর্কিত নিউজ