হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে দিনব্যাপী লেখালেখি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে দিনব্যাপী লেখালেখি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ছবির ক্যাপশান, ছবি: জাগরণ

শিক্ষার্থীদের লেখালেখির মানোন্নয়ন ও সৃজনশীল দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এ দিনব্যাপী “লেখালেখির প্রশিক্ষণ কর্মশালা-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মোঃ গোলাম মোর্শেদ। তিনি শিক্ষার্থীদের লেখালেখির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, সমাজ সংস্কারে লেখার ভূমিকা, স্বদেশপ্রেম ও দেশসেবায় লেখালেখির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

 

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তাভাবনা বিকাশে লেখালেখি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত চর্চা ও পাঠাভ্যাস একজন শিক্ষার্থীকে দক্ষ লেখক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম-এর দায়িত্বশীলরা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর তিনজন শিক্ষার্থী।

 

ফোরামের সভাপতি ইসমাইল হোসেন ইমন “কলাম লেখার আদ্যোপান্ত” শীর্ষক সেশনে ২৫টি স্লাইডের মাধ্যমে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেন। তিনি কলাম লেখার কৌশল, একজন ভালো লেখকের গুণাবলি, লেখালেখির উদ্দেশ্য ও আদর্শ কলামের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, “লেখক হতে হলে আগে পাঠক হতে হবে। মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে লেখনীকে আরও শানিত করা যায়।” পাশাপাশি নবীন লেখকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে মাদকের ভয়াবহতা নিয়েও আলোচনা করেন।

 

এ সময় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা লেখালেখির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে প্রশ্ন করেন এবং প্রশিক্ষকরা সেগুলোর উত্তর দেন। কর্মশালার বিভিন্ন সেশনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

 

ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোনেম শাহরিয়ার “সম্পাদনা ভাবনার শুদ্ধস্বর” শীর্ষক সেশনে লেখালেখির নির্ভুলতা ও নতুন ধারণা উপস্থাপনের কৌশল নিয়ে প্রশিক্ষণ দেন। এছাড়া ফোরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করিশমা ইরিন লেখালেখির ক্যাটালগ ও ই-মেইল পাঠানোর কৌশল বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

 

কর্মশালায় লেখালেখির গুরুত্ব, সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ এবং তরুণদের সাহিত্যচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক সুমাইয়া আক্তার। এ সময় কলেজের শিক্ষকবৃন্দ ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকরা এমন আয়োজনকে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মশালার আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

কর্মশালা শেষে অধ্যক্ষ প্রশিক্ষকদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন। পরে সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


সম্পর্কিত নিউজ