নাইজেরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ১৭৫ আইএস যোদ্ধা নিহতের দাবি

নাইজেরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ১৭৫ আইএস যোদ্ধা নিহতের দাবি
ছবির ক্যাপশান, ছবি: আল জাজিরা

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আফ্রিকা কমান্ডের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ১৭৫ জন আইএস বা আইএসআইএল যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর। দেশটির সামরিক বাহিনী বলছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের সমন্বিত হামলায় আইএস এবং পশ্চিম আফ্রিকায় তাদের সহযোগী সংগঠন ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্সের বা আইএসডব্লিউএপি’র একাধিক চেকপয়েন্ট, অস্ত্রভান্ডার, লজিস্টিক কেন্দ্র, সামরিক সরঞ্জাম ও অর্থায়ন নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে।

নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের মুখপাত্র মেজর জেনারেল সামাইলা উবা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, “২০২৬ সালের ১৯ মে পর্যন্ত মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ১৭৫ জন আইএসআইএস সন্ত্রাসীকে নির্মূল করা হয়েছে।” আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

 

উবা আরও বলেন, এই যৌথ হামলা প্রমাণ করেছে যে নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী বহু বছর ধরে যা করে আসছে, সেটিই আরও জোরালোভাবে চালিয়ে যাচ্ছে- দেশের যেখানেই সন্ত্রাসীরা থাকুক, তাদের খুঁজে বের করে নির্মূল করা।

 

আফ্রিকমের সঙ্গে যৌথ অভিযান

যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ড বা আফ্রিকম জানিয়েছে, নাইজেরিয়া সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে গত রোববার দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আইএস-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালানো হয়। আফ্রিকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অভিযানে আইএসের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে আবু-বিলাল আল-মিনুকিও ছিলেন। আফ্রিকম তাকে আইএসের “ডিরেক্টর অব গ্লোবাল অপারেশনস” হিসেবে উল্লেখ করেছে।

 

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকম এই হামলাগুলো নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে, অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র বা নাইজেরিয়ার কোনো সেনা হতাহত হয়নি। এ ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, নাইজেরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা শুধু প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; সাম্প্রতিক যৌথ অভিযানগুলোতে ওয়াশিংটনের সরাসরি অপারেশনাল সম্পৃক্ততাও সামনে আসছে।

 

নিহতদের মধ্যে আইএসের গুরুত্বপূর্ণ নেতা আবু-বিলাল আল-মিনুকি

এই অভিযানের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো আবু-বিলাল আল-মিনুকির নিহত হওয়ার দাবি। নাইজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট উভয়েই তাকে আইএসের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবু-বিলাল আল-মিনুকি, যিনি আবু-মাইনোক নামেও পরিচিত, লেক চাদ অববাহিকায় যৌথ নাইজেরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র অভিযানে তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ নিহত হন বলে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবু জানিয়েছেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার বাহিনী “সুপরিকল্পিত ও অত্যন্ত জটিল” অভিযানে আবু-বিলাল আল-মিনুকিকে নির্মূল করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও তিনুবু উভয়েই তাকে আইএসের বৈশ্বিক দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইএসের কাঠামো অনেকটাই বিকেন্দ্রীভূত। ফলে একজন বড় নেতা নিহত হলে সংগঠনটি সাময়িকভাবে ধাক্কা খেলেও দীর্ঘমেয়াদে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে- এমন নিশ্চয়তা নেই। আল জাজিরাকে ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের আফ্রিকা প্রোগ্রাম পরিচালক অ্যালেক্স ভাইন্স বলেছেন, আল-মিনুকির মৃত্যু আইএসডব্লিউএপি’র কার্যক্রমে স্বল্পমেয়াদে ব্যাঘাত ঘটাবে, তবে সংগঠনটির বিকেন্দ্রীভূত কাঠামোর কারণে সে সহজে প্রতিস্থাপনযোগ্য নয়- এমনও বলা কঠিন।

 

আল-মিনুকির ভূমিকা কী ছিল

নাইজেরীয় সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আল-মিনুকি সাহেল ও পশ্চিম আফ্রিকা অঞ্চলে আইএসের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম তদারকি করতেন। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইজেরীয় সেনাবাহিনী গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে জানিয়েছে, তিনি সাহেল ও পশ্চিম আফ্রিকায় আইএস-সংশ্লিষ্ট অপারেশন তদারকি করেছেন, লিবিয়ায় যোদ্ধা পাঠাতে সহায়তা করেছেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে আইএসের বৈশ্বিক দ্বিতীয় শীর্ষ পদে উন্নীত হয়ে থাকতে পারেন।

 

আফ্রিকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি আইএসের বৈশ্বিক কার্যক্রমের পরিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন। অর্থাৎ স্থানীয় হামলা, অর্থায়ন, প্রচার, অস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যবস্থাপনা, যোদ্ধা সমন্বয় এবং আঞ্চলিক অপারেশনাল নির্দেশনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া।

 

আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইএসডব্লিউএপি নেতা নিহতের দাবি

নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আইএসডব্লিউএপি সদস্য নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে আবদ-আল ওয়াহহাব নামে এক জ্যেষ্ঠ যোদ্ধাও রয়েছেন। নাইজেরীয় সামরিক বাহিনীর দাবি, তিনি আইএসডব্লিউএপি’র হামলা পরিকল্পনা ও প্রচারণা কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

 

আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে আবদ-আল ওয়াহহাব ছাড়াও আবু মুসা আল-মাঙ্গাবি এবং আবু আল-মুথান্না আল-মুহাজির নামে আরও দুই জ্যেষ্ঠ আইএসডব্লিউএপি সদস্য নিহত হয়েছেন বলে নাইজেরীয় সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। প্রতিবেদনে আবু আল-মুথান্না আল-মুহাজিরকে আল-মিনুকির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও জ্যেষ্ঠ মিডিয়া অপারেটিভ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দাবিগুলো যদি পুরোপুরি সত্য হয়, তাহলে এটি শুধু একক কোনো নেতাকে লক্ষ্য করে অভিযান নয়; বরং আইএসডব্লিউএপি’র কমান্ড, প্রচার, অর্থায়ন ও হামলা পরিকল্পনার কয়েকটি স্তরে একসঙ্গে আঘাত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

 

প্রেসিডেন্ট তিনুবুর প্রতিক্রিয়া

আবু-বিলাল আল-মিনুকির নিহত হওয়ার ঘোষণার পর নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ট্রাম্পের “নেতৃত্ব ও অবিচল সমর্থন”-এর প্রশংসা করেন।

 

তিনুবু বলেন, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নাইজেরিয়ার বিভিন্ন স্থানে থাকা সব সন্ত্রাসী ঘাঁটির বিরুদ্ধে আরও “নির্ণায়ক হামলা” দেখতে চান। আল জাজিরা ও রয়টার্স উভয় প্রতিবেদনে তিনুবুর এই প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তিনুবুর বক্তব্যে স্পষ্ট, নাইজেরিয়া সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়া, লেক চাদ অববাহিকা এবং সাহেল অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা দমনে দেশটি বাইরের সহযোগিতাকে এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখছে।

 

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিনের সংঘাত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল বহু বছর ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতায় বিপর্যস্ত। বোকো হারাম এবং পরে আইএসডব্লিউএপি এই অঞ্চলে হামলা, অপহরণ, সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ, গ্রাম দখল, জোরপূর্বক কর আদায় এবং স্থানীয় জনগণের ওপর নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

 

আইএসডব্লিউএপি মূলত বোকো হারামের একটি ভাঙন থেকে উঠে আসে এবং পরে আইএসের পশ্চিম আফ্রিকা শাখা হিসেবে কার্যক্রম চালায়। লেক চাদ অববাহিকা, বর্নো রাজ্য এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে এই গোষ্ঠীর উপস্থিতি নাইজেরিয়া, নাইজার, চাদ ও ক্যামেরুনের নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

 

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইজেরিয়ায় বোকো হারাম ও আইএসডব্লিউএপি-সহ একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে রেখেছে।

 

মধ্যপ্রাচ্যে দুর্বল হওয়ার পর আফ্রিকায় আইএসের মনোযোগ

মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক ক্ষতির পর আইএস ধীরে ধীরে আফ্রিকার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংকট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা বা অ্যাকলেডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে আইএসের বৈশ্বিক কার্যক্রমের ৮৬ শতাংশই ঘটেছে আফ্রিকায়।

 

আরব নিউজও একই তথ্য উল্লেখ করেছে যে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর আইএস আফ্রিকাকে তাদের নতুন কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

 

এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, সাহেল, লেক চাদ অঞ্চল, সোমালিয়া, মোজাম্বিক এবং পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় আইএস-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর বিস্তার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অঙ্গনের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতেও আফ্রিকা এখন বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হচ্ছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা: পরামর্শ থেকে সক্রিয় অভিযানে?

যুক্তরাষ্ট্র ফেব্রুয়ারিতে নাইজেরিয়ায় সেনা পাঠানোর কথা জানায়। তখন এটিকে মূলত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বাড়ানোর ভূমিকা হিসেবে দেখা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক যৌথ অভিযানগুলো দেখাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন নাইজেরিয়ার ভেতরে আইএস-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছে।

 

আল জাজিরা বলছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েনকে প্রধানত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণমূলক ভূমিকা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সাম্প্রতিক হামলাগুলো নাইজেরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আরও সক্রিয় সামরিক সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

এটি আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদবিরোধী কৌশলের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে আইএসের প্রভাব কমে যাওয়ার পর সংগঠনটি আফ্রিকায় নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে- এমন মূল্যায়নের ভিত্তিতে ওয়াশিংটন পশ্চিম আফ্রিকায় অংশীদারিত্ব জোরদার করছে।

 

অভিযানের তাৎপর্য

এই অভিযান কয়েকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, ১৭৫ জন যোদ্ধা নিহত হওয়ার দাবি সত্য হলে এটি আইএসডব্লিউএপি’র জন্য বড় সামরিক ধাক্কা। দ্বিতীয়ত, আবু-বিলাল আল-মিনুকির মতো উচ্চপর্যায়ের নেতা নিহত হয়ে থাকলে সংগঠনটির আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সমন্বয় সাময়িকভাবে দুর্বল হতে পারে। তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযান আফ্রিকায় আইএসবিরোধী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

 

তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বিমান হামলা বা লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সন্ত্রাসবাদ দমন সম্ভব নয়। স্থানীয় শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা, দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতা, সীমান্তের দুর্বল নিয়ন্ত্রণ, তরুণদের কর্মসংস্থানের অভাব এবং রাষ্ট্রীয় উপস্থিতির সংকট- এসব কারণ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিস্তারে ভূমিকা রাখে।

 

সুতরাং সামরিক সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় স্থায়ী নিরাপত্তা ফেরাতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক উদ্যোগও দরকার হবে।

 

নাইজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযান আইএসডব্লিউএপি’র ওপর চাপ বাড়ালেও এই সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। সংগঠনটি বহু বছর ধরে সীমান্তবর্তী বনাঞ্চল, গ্রামীণ এলাকা ও লেক চাদ অববাহিকার দুর্বল নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে টিকে আছে।

আল-মিনুকি ও অন্যান্য নেতার মৃত্যু সংগঠনটিকে অস্থায়ীভাবে দুর্বল করতে পারে। কিন্তু আইএসডব্লিউএপি যদি দ্রুত নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলে, তাহলে হামলা, অপহরণ, প্রচার ও নিয়োগ কার্যক্রম আবারও সক্রিয় হতে পারে। ফলে আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, নতুন প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়া যৌথ অভিযানের ধারাবাহিকতা বিশেষভাবে নজরে থাকবে।


সম্পর্কিত নিউজ