প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু যুক্তরাষ্ট্রের
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে দুর্দান্ত এক জয় দিয়ে নিজেদের অভিযান শুরু করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছে মার্কিনরা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় স্বাগতিক দল।

শনিবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় ম্যাচটি শুরু হয়। কিক-অফের পর থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে আগ্রাসী কৌশল নিয়ে মাঠে নামে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই পিএসজির বহুল আলোচিত কিক-অফ কৌশলের অনুকরণে লম্বা বল খেলে দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা।

 

তৃতীয় মিনিটেই প্রথম বড় সুযোগ তৈরি হয় যুক্তরাষ্ট্রের। ওয়েস্টন ম্যাককেনির দারুণ পাস থেকে বল পান ফোলারিন বালোগুন। তবে তার শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক কার্লোস গিল।

 

তবে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি স্বাগতিকদের। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। মাঝমাঠ থেকে ম্যাককেনির আক্রমণাত্মক মুভে বল পৌঁছে যায় দলের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের কাছে। এসি মিলানের এই তারকা দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে আবার বল ফিরিয়ে দেন ম্যাককেনিকে। এরপর তার বাড়ানো বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বড় ভুল করেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার ডামিয়ান বোবাদিয়া। নিজের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন তিনি। আত্মঘাতী সেই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

 

গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে প্যারাগুয়ে। ১৪তম মিনিটে হুলিও এনসিসো দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা চালালেও বল অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। তবে আক্রমণের ধার কমায়নি স্বাগতিকরা। ১৬ মিনিটে বালোগুন ও সের্হিনিও ডেস্টের চমৎকার সমন্বয়ে আরেকটি সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গুসতাভো গোমেজ হস্তক্ষেপ করে বিপদমুক্ত করেন দলকে।

 

২৮তম মিনিটে বল জালে জড়িয়েছিলেন ফোলারিন বালোগুন। কিন্তু সহকারী রেফারির পতাকা ওঠায় অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। তবে তিন মিনিট পরই হতাশা কাটিয়ে নিজের নাম স্কোরশিটে তুলে নেন এই ফরোয়ার্ড।

 

৩১তম মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে বক্সের ভেতরে প্রবেশ করেন বালোগুন। এরপর ডান পায়ের জোরালো শটে গোলরক্ষক গিলকে পরাস্ত করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। তাতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

 

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর প্যারাগুয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালালেও যুক্তরাষ্ট্রের সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি। বরং প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও গোলের খুব কাছে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। ৪৩তম মিনিটে মালিক টিলম্যানের কাছ থেকে বল পেয়ে গোলের উদ্দেশে শট নেন বালোগুন। তবে দুর্দান্ত সেভ করে দলকে আরও বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেন গিল।

 

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আসে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় গোল। ৪৫+৫ মিনিটে মালিক টিলম্যানের নিখুঁত পাস ধরে ডিফেন্স চিরে সামনে এগিয়ে যান বালোগুন। এরপর ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন তিনি। সেই গোলের মাধ্যমে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

 

দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে প্যারাগুয়ে। একাধিক আক্রমণের পর অবশেষে ৭৩তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় দলটি। দলের হয়ে ব্যবধান কমান হুলিও এনসিসো। তার গোলে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফিরলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

 

গোল হজমের পর আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগে চাপ অব্যাহত রাখে স্বাগতিকরা। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আসে যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ গোল। শেষ মুহূর্তের সেই গোলের মাধ্যমে প্যারাগুয়ের প্রত্যাবর্তনের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।

 

শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এমন দাপুটে পারফরম্যান্স স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ফোলারিন বালোগুনের জোড়া গোল, ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের সৃজনশীলতা এবং ওয়েস্টন ম্যাককেনির মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল এই জয়ের প্রধান ভিত্তি।

 

বিশ্বকাপের শুরুতেই শক্তিশালী বার্তা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়ে দিল, নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই আসরে তারা কেবল অংশ নিতে নয়, বরং শিরোপার লড়াইয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।


সম্পর্কিত নিউজ