{{ news.section.title }}
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দামি সেমিফাইনালে মুখোমুখি ফ্রান্স-স্পেন
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শুধু দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেনই মুখোমুখি হচ্ছে না, মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি দুই ফুটবল স্কোয়াডেরও। খেলোয়াড়দের বাজারমূল্যের হিসাবে এই ম্যাচই হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান সেমিফাইনাল।
আন্তর্জাতিক ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট ট্রান্সফারমার্কটের সর্বশেষ বাজারমূল্যের তথ্য অনুযায়ী, দুই দলের সম্মিলিত স্কোয়াড মূল্য প্রায় ২.৭৪ বিলিয়ন ইউরো, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর আগে কোনো বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে এত উচ্চ বাজারমূল্যের দুই দল একে অপরের মুখোমুখি হয়নি।
বাজারমূল্যের দিক থেকে অবশ্য স্পেনের চেয়ে এগিয়ে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল অলিসে, দেজিরে দুয়ে, উসমান দেম্বেলে, উইলিয়াম সালিবা ও রায়ান শেরকিদের নিয়ে গড়া ফরাসি স্কোয়াডের মোট মূল্য প্রায় ১.৫২ বিলিয়ন ইউরো। অন্যদিকে লামিন ইয়ামাল, পেদ্রি, নিকো উইলিয়ামস, পাউ কুবার্সি ও রদ্রিদের সমন্বয়ে স্পেনের স্কোয়াডের মূল্য প্রায় ১.২২ বিলিয়ন ইউরো। দুই দলের মধ্যে ব্যবধান প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার)।
এই ম্যাচে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবলারদেরও দেখা মিলবে। স্পেনের ১৮ বছর বয়সী বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ বাজারমূল্যের ফুটবলারদের একজন। তার মূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন ইউরো। ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের বাজারমূল্য ১৮০ মিলিয়ন ইউরো। এছাড়া ফরাসি তারকা মাইকেল অলিসের মূল্য ১৫০ মিলিয়ন ইউরো, স্পেনের মিডফিল্ডার পেদ্রির মূল্য ১৫০ মিলিয়ন ইউরো। বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়দের তালিকায় থাকা এই চার তারকাই নামছেন একই সেমিফাইনালে।
শুধু শীর্ষ চারজনই নন, দুই দলের স্কোয়াডে আরও অনেক শত মিলিয়ন ইউরোর ফুটবলার রয়েছেন। ফ্রান্সের দেজিরে দুয়ে, উসমান দেম্বেলে, রায়ান শেরকি, উইলিয়াম সালিবা এবং স্পেনের নিকো উইলিয়ামস, রদ্রি, পাউ কুবার্সিদের মতো তারকারাও ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের মধ্যে অন্যতম। ফলে মাঠে নামবে বিশ্বের সেরা প্রতিভায় ঠাসা দুটি দল।
পজিশনভিত্তিক বাজারমূল্যেও রয়েছে দারুণ লড়াই। গোলকিপার বিভাগে স্পেন এগিয়ে। উনাই সিমোনকে কেন্দ্র করে স্প্যানিশ গোলরক্ষকদের সম্মিলিত মূল্য ফরাসি গোলকিপারদের চেয়ে বেশি। তবে রক্ষণভাগে স্পষ্ট আধিপত্য ফ্রান্সের। সালিবা, কোনাতে, লুকাস হার্নান্দেজ ও জুল কুন্দেদের মতো ডিফেন্ডারদের কারণে ফরাসি ডিফেন্সের বাজারমূল্য স্পেনের তুলনায় অনেক বেশি।
মিডফিল্ডে অবশ্য স্পেনের শক্তি বেশি। পেদ্রি, রদ্রি, গাভি, ফাবিয়ান রুইজ ও মেরিনোদের কারণে এই বিভাগে স্প্যানিশদের সম্মিলিত মূল্য ফ্রান্সকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি করেছে আক্রমণভাগ। এমবাপ্পে, অলিসে, দেম্বেলে, দুয়ে, বারকোলা ও থুরামদের নিয়ে গড়া ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড লাইন বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান আক্রমণভাগগুলোর একটি। সেই গভীরতাই বাজারমূল্যে ফ্রান্সকে এগিয়ে রেখেছে।
তবে বাজারমূল্য কখনোই সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অসংখ্যবার দেখা গেছে তুলনামূলক কম দামের দলও শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দিয়েছে। চলতি বিশ্বকাপেও বেশ কয়েকটি অঘটন ঘটেছে, যা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে-ফুটবলে অর্থ নয়, শেষ কথা বলে মাঠের পারফরম্যান্স।
তবুও পরিসংখ্যান বলছে, ডালাসে অনুষ্ঠেয় ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল শুধু ফুটবলীয় মানেই নয়, আর্থিক মূল্যমানের দিক থেকেও ইতিহাসে জায়গা করে নিতে যাচ্ছে। প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের তারকায় ঠাসা এই মহারণে একদিকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্কোয়াড ফ্রান্স, অন্যদিকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের পাশাপাশি এটি হতে যাচ্ছে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান সেমিফাইনালও।