{{ news.section.title }}
প্রথমবার ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলই শেষ চারে
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন পৌঁছে গেছে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়ে। টানা এক মাসের লড়াই শেষে নির্ধারিত হয়েছে শেষ চারের চার দল। আর এবারের সেমিফাইনাল শুধু চারটি শক্তিশালী দলের লড়াই নয়, এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসেরও এক নতুন অধ্যায়।
প্রথমবারের মতো ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল-আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ড-একসঙ্গে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। সাম্প্রতিক ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে এই চার দলই ছিল সবার ওপরে, আর তারা নিজেদের অবস্থানের যথার্থ প্রমাণও দিয়েছে টুর্নামেন্টজুড়ে।
আরেকটি বিরল কীর্তিও গড়েছে এবারের আসর। সেমিফাইনালের চার দলই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। এর আগে মাত্র দুইবার-১৯৭০ ও ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে-শেষ চারে উঠেছিল কেবল বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলো। এবার সেই ইতিহাসে যুক্ত হলো ২০২৬ বিশ্বকাপও।
কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে শেষ চারে উঠেছে চার পরাশক্তিই। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়েছে। জুলিয়ান আলভারেজ ও লাওতারো মার্টিনেজের অতিরিক্ত সময়ের গোল বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে।
অন্যদিকে স্পেন আবারও দেখিয়েছে কেন তারা টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল। বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লা রোহা। টানা দ্বিতীয় নকআউট ম্যাচে বদলি নেমে জয়সূচক গোল করে স্প্যানিশ নায়ক হয়ে উঠেছেন মেরিনো।
ফ্রান্সও নিজেদের দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সামনে রেখে দিদিয়ের দেশমের দল টুর্নামেন্টজুড়ে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলছে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। অন্যদিকে ইংল্যান্ডও হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহামদের নেতৃত্বে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে।
এবারের সেমিফাইনাল তাই শুধু চার দলের লড়াই নয়, বরং আধুনিক ফুটবলের চার পরাশক্তির মুখোমুখি সংঘর্ষ। বিশেষ করে ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচকে অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক "আগাম ফাইনাল" বলেও অভিহিত করছেন। দুই দলই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে আধিপত্য দেখিয়েছে। একইভাবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচেও থাকবে ইতিহাস, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের সংঘর্ষ।
ফিফার পরিসংখ্যানও বলছে, টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কার্যকর আক্রমণভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, স্পেন ও ইংল্যান্ড। গোলসংখ্যা, এক্সপেক্টেড গোল (xG), সুযোগ তৈরির হার এবং বল দখলের পরিসংখ্যান-প্রায় সব সূচকেই এই চার দল অন্যদের চেয়ে এগিয়ে ছিল।
এখন বিশ্বকাপের বাকি মাত্র চারটি ম্যাচ-দুটি সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনাল। চারটি দলই বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে এই পর্যায়ে। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি এবার নিশ্চিতভাবেই উঠবে আরেক সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের হাতে।
সেমিফাইনালের সূচি
- ফ্রান্স বনাম স্পেন - ১৪ জুলাই (মঙ্গলবার), রাত ১:০০টা, ডালাস।
- আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড - ১৫ জুলাই (বুধবার), রাত ১:০০টা, আটলান্টা।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এখন প্রশ্ন একটাই-ডালাস ও আটলান্টার দুই মহারণ শেষে কারা জায়গা করে নেবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহারণে।