{{ news.section.title }}
সাইবার হামলার শিকার আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় ৩-২ গোলের জয়ের পর নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (AFA) একটি প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো ভুয়া বার্তা। তবে এএফএ জানিয়েছে, তাদের একটি অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ (Unauthorized Access) করা হয়েছিল এবং সেখান থেকে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো ই-মেইলগুলো তাদের অনুমোদিত নয়।
আর্জেন্টাইন ফুটবল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের মিডিয়া বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অ্যাকাউন্ট থেকে কিছু ই-মেইল পাঠানো হয়েছে, যা সংস্থার কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী তৈরি কিংবা অনুমোদন করেননি। ঘটনাটি শনাক্ত হওয়ার পরই তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বিতর্কিত ওই ই-মেইলে দাবি করা হয়, "আর্জেন্টিনা জেতেনি" এবং দলের জয় এসেছে "দুর্নীতিগ্রস্ত রেফারিং সিদ্ধান্তের কারণে"। সেখানে মিসর দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসাও করা হয় এবং ম্যাচের রেফারিং নিয়ে কঠোর মন্তব্য করা হয়।
এএফএ সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের নামে পাঠানো সন্দেহজনক ই-মেইল, সংযুক্ত ফাইল বা লিংকে প্রবেশ না করতে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিষয়টি সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় তদন্ত করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনাটি সামনে আসে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয়ের পর। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিসর। পরে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচটি ঘিরে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয় মিসরের একটি গোল ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল হওয়া এবং শেষ দিকে তাদের একটি পেনাল্টির আবেদন নাকচ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে। এরপরই মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়ে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তাঁর রেফারিং দলকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলে।
মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানও ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে এবং এসব সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। তবে ফিফা এখন পর্যন্ত রেফারিং নিয়ে কোনো ভুল স্বীকার করেনি।
এদিকে আর্জেন্টিনার কয়েকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে হামলার পেছনে মিসর-সংশ্লিষ্ট একটি হ্যাকার গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে AFA আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা দেশের নাম উল্লেখ করেনি, ফলে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।
বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ নকআউট পর্বে এমন সাইবার নিরাপত্তা ইস্যু নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে ঘটনাটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।