বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরও কত টাকা পাচ্ছে ব্রাজিল?

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরও কত টাকা পাচ্ছে ব্রাজিল?
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

হেক্সা জয়ের স্বপ্ন নিয়েই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করেছিল ব্রাজিল। কিন্তু শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে প্রত্যাশার আগেই শেষ হয়ে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অভিযান। মাঠে হতাশা থাকলেও আর্থিক দিক থেকে বড় প্রাপ্তি নিয়েই উত্তর আমেরিকা ছাড়ছে সেলেসাওরা।

ফিফার সর্বশেষ অনুমোদিত পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী, শেষ ষোলোর (৯ম–১৬তম স্থান) মধ্যে টুর্নামেন্ট শেষ করায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) পারফরম্যান্স বোনাস হিসেবে পাবে ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। এর সঙ্গে অংশগ্রহণ বাবদ ১ কোটি ডলার এবং প্রস্তুতি ব্যয় হিসেবে ২৫ লাখ ডলার যোগ হবে। সব মিলিয়ে ব্রাজিলের মোট প্রাপ্তি দাঁড়াচ্ছে ১ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার। ফিফা এপ্রিল মাসে অতিরিক্ত সহায়তা অনুমোদনের পর কিছু বিশ্লেষণে মোট আর্থিক সুবিধা আরও বেশি দেখানো হলেও, অফিসিয়াল কাঠামোয় এই ন্যূনতম অর্থ নিশ্চিত।

 

বিশ্বকাপে এই বিদায় ব্রাজিলের ইতিহাসেও একটি হতাশার অধ্যায়। ২০২৬ আসরে ১১তম স্থানে থেকে শেষ করেছে সেলেসাওরা, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপেও একই অবস্থানে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল ব্রাজিল।

 

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে ফল অবশ্য আরও পুরোনো। ১৯৩৪ সালে ইতালিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে সরাসরি নকআউট পর্বে প্রথম ম্যাচেই স্পেনের কাছে ৩-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা। সেই আসরে ১৪তম স্থানে থেকে শেষ করেছিল দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তিটি।

 

এবারের বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, আর্থিক দিক থেকেও ইতিহাস গড়েছে। ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপ উপলক্ষে ফিফা মোট আর্থিক বিতরণ বাড়িয়ে ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক সাফল্য, সম্প্রসারিত দলসংখ্যা এবং আয়োজক দেশগুলোর উচ্চ পরিচালন ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ফিফা কাউন্সিল এই সিদ্ধান্ত নেয়।

 

শুরুতে ফিফা মোট বিতরণের পরিমাণ ৭২৭ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেছিল। পরে এপ্রিল মাসে কাউন্সিলের বৈঠকে প্রস্তুতি অনুদান এবং অংশগ্রহণ ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে মোট আর্থিক বিতরণ বেড়ে ৮৭১ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

 

ফিফা পুরস্কার কাঠামোকে দুটি ভাগে ভাগ করেছে। প্রথমটি পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কার, যা দল কতদূর এগিয়েছে তার ওপর নির্ভর করে। দ্বিতীয়টি অংশগ্রহণ ও প্রস্তুতি সহায়তা, যা প্রতিটি যোগ্যতা অর্জনকারী দলই পায়।

 

বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার, রানার্সআপ ৩৩ মিলিয়ন, তৃতীয় স্থান ২৯ মিলিয়ন এবং চতুর্থ স্থান ২৭ মিলিয়ন ডলার। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলগুলো পাবে ১৯ মিলিয়ন, শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া দল ১৫ মিলিয়ন, রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া দল ১১ মিলিয়ন এবং গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া দল ৯ মিলিয়ন ডলার। এর বাইরে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দেশকে দেওয়া হবে ১০ মিলিয়ন ডলার অংশগ্রহণ ভাতা এবং ২.৫ মিলিয়ন ডলার প্রস্তুতি অনুদান।

 

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কার হিসেবে মোট ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার বিতরণ করা হবে। বাকি অর্থ অংশগ্রহণ, প্রস্তুতি সহায়তা এবং অন্যান্য বরাদ্দের মাধ্যমে ৪৮টি সদস্য দেশের মধ্যে বণ্টন করা হবে।

 

ব্রাজিলের জন্য অবশ্য অর্থের চেয়ে বড় প্রশ্ন এখন মাঠের পারফরম্যান্স। ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে না পারা সেলেসাওরা এবারও শিরোপার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি। তবে শত কোটি টাকার এই আর্থিক প্রাপ্তি ভবিষ্যতে জাতীয় দলের উন্নয়ন, অবকাঠামো, বয়সভিত্তিক ফুটবল এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এখন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ-এই আর্থিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য নতুন করে দল গড়ে তোলা।


সম্পর্কিত নিউজ