{{ news.section.title }}
আপনি কি মনে করেন Wi-Fi মানে 'Wireless Fidelity'? তাহলে আপনিও ভুল জানতেন!
আমাদের সকলের বহুল ব্যবহৃত ‘Wi-Fi’ আসলে কীসের সংক্ষিপ্ত রূপ? যদি ভেবে থাকেন ‘Wireless Fidelity’, তবে আপনি ভুল জানেন! প্রযুক্তির এই অবিচ্ছেদ্য অংশটি আসলে কোনো কিছুরই পূর্ণরূপ নয়, বরং নিছক একটি ব্র্যান্ডিং নাম মাত্র।
১৯৯৭ সালে যখন তারবিহীন ইন্টারনেটের এই প্রযুক্তিটি প্রথম বাজারে আসে, তখন এর নাম ছিল অত্যন্ত কাঠখোট্টা, 'IEEE 802.11b Direct Sequence'। সাধারণ মানুষের পক্ষে এই নাম মনে রাখা বা উচ্চারণ করা ছিল প্রায় অসম্ভব। তাই প্রযুক্তি নির্মাতাদের জোট 'Wireless Ethernet Compatibility Alliance', বর্তমান 'Wi-Fi Alliance' একটি সহজ এবং আকর্ষণীয় নাম খোঁজার দায়িত্ব দেয় 'Interbrand' নামক একটি মার্কেটিং সংস্থাকে।
কেন 'Wi-Fi' নামটিকে বেছে নেওয়া হলো?
ইন্টারব্র্যান্ড সংস্থাটি ১০টি নামের একটি তালিকা তৈরি করেছিল, যার মধ্যে 'Wi-Fi' ছিল অন্যতম।
কেন এটি জয়ী হলো?
১. রাইমিং বা ছন্দ: মানুষের মস্তিষ্ক ছন্দযুক্ত শব্দ দ্রুত মনে রাখতে পারে। 'Wi-Fi' শব্দটির উচ্চারণ অনেকটা পুরনো দিনের উচ্চমানের অডিও সিস্টেম 'Hi-Fi' (High Fidelity)-র মতো শোনায়। সেই সময় হাই-ফাই শব্দটির সাথে মানুষের ভালো গুণমানের একটি ইতিবাচক ধারণা যুক্ত ছিল। তাই মানুষের মনে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে 'Wi-Fi' শব্দটি বেছে নেওয়া হয়।
২. সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য: প্রযুক্তির জটিল নামগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীকে ভয় পাইয়ে দেয়। 'Wi-Fi' ছোট, দুই অক্ষরের এবং যেকোনো ভাষায় উচ্চারণ করা সহজ। এটি একটি 'ক্যাচি' নাম হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
'Wireless Fidelity' এল কোথা থেকে?
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, খোদ ওয়াই-ফাই অ্যালায়েন্স নিজেই এক সময় বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। যখন তারা দেখল যে মানুষ জানতে চাচ্ছে ওয়াই-ফাই মানে কী, তখন তারা একটি বিজ্ঞাপনী স্লোগান ব্যবহার করেছিল এরকম- "The Standard for Wireless Fidelity"। কিন্তু পরবর্তীতে ওয়াই-ফাই অ্যালায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ফিল বেল্যাঙ্গার (Phil Belanger) স্বীকার করেন যে, "Wireless Fidelity" শব্দগুচ্ছটি আসলে পরে জোর করে বসানো হয়েছে যাতে মানুষ একটি অর্থ খুঁজে পায়। প্রযুক্তিগতভাবে 'ওয়্যারলেস ফিডেলিটি'র নেই কোনো অস্তিত্ব। এটি স্রেফ একটি স্লোগান ছিল যা পরে মানুষ মূল নাম হিসেবে ধরে নিয়েছে।
Wi-Fi-এর পেছনের আসল প্রযুক্তি কী?
নামের মানে না থাকলেও এর পেছনের কাজ অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক।
ওয়াই-ফাই মূলত রেডিও তরঙ্গের (সাধারণত ২.৪ গিগাহার্টজ বা ৫ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি) মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করে। আপনার রাউটার থেকে নির্গত তরঙ্গগুলো শূন্য (০) এবং এক (১) এর সিগন্যালে রূপান্তরিত হয়ে আপনার ডিভাইসে পৌঁছে যায়।
এর আসল টেকনিক্যাল নাম এখনও IEEE 802.11 প্রোটোকল, যা বিশ্বজুড়ে তারবিহীন যোগাযোগের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড।