আমাদের স্বপ্নের জগতেও এখন এআই-এর প্রবেশ!

আমাদের স্বপ্নের জগতেও এখন এআই-এর প্রবেশ!
ছবির ক্যাপশান, আমাদের স্বপ্নের জগতেও এখন এআই-এর প্রবেশ!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

কল্পনা করুন তো, সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনি রাতে দেখা স্বপ্নের একটি ভিডিও প্লেব্যাক দেখছেন! শুনতে অসম্ভব মনে হলেও জেনারেটিভ এআই এবং বিসিআই (BCI) প্রযুক্তি এখন এই অসম্ভবকেই বাস্তবে রূপ দিচ্ছে।

যেভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি:

স্বপ্ন দেখার সময় আমাদের মস্তিষ্ক বিশেষ করে REM (Rapid Eye Movement) পর্যায়ে অত্যন্ত সক্রিয় থাকে। এই সময় আমাদের ভিজ্যুয়াল কর্টেক্স এমনভাবে কাজ করে যেন আমরা বাস্তবেই কিছু দেখছি।


এআই ড্রিম সিমুলেশন প্রযুক্তিতে মূলত তিনটি ধাপ কাজ করে:

☞ সিগন্যাল ক্যাপচার: বিশেষ ধরণের সেন্সর বা fMRI স্ক্যানের মাধ্যমে মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক তরঙ্গ ও রক্ত সঞ্চালনের প্যাটার্ন রেকর্ড করা হয়।


☞ প্যাটার্ন রিকগনিশন: এআই অ্যালগরিদম, যেমন- Stable Diffusion বা Midjourney-এর মতো উন্নত মডেল, এই সংকেতগুলোকে বিশ্লেষণ করে। আগে থেকে কয়েক হাজার ছবির ডেটাসেট দিয়ে প্রশিক্ষিত এই এআই বুঝতে পারে কোন সংকেতটি একটি লাল গোলাপ বা একটি পরিচিত মুখের জন্য তৈরি হয়েছে।

 

☞ ইমেজ রিকনস্ট্রাকশন: শেষ ধাপে এআই সেই সংকেতগুলোকে ডিজিটাল পিক্সেল হিসেবে সাজিয়ে একটি ঝাপসা কিন্তু স্পষ্ট ধারণাযোগ্য ছবি বা ভিডিও তৈরি করে।


স্নায়ুবিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, আমরা যখন কোনো কিছুর কথা ভাবি বা স্বপ্নে দেখি, তখন মস্তিষ্কের ঠিক সেই অংশগুলোই উদ্দীপিত হয় যা আমরা বাস্তবে দেখার সময় ব্যবহৃত হয়। এআই এই

নিউরনাল প্যাটার্নগুলোকে গাণিতিক সূত্রে রূপান্তর করে। জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ নির্ভুলতার সাথে মানুষের স্বপ্নের প্রাথমিক বিষয়বস্তু শনাক্ত করতে পেরেছে। অর্থাৎ, আপনি স্বপ্নে যদি পাহাড়ে ঘোরেন, এআই বুঝতে পারবে আপনি কোনো এক বন্ধুর সাথে প্রকৃতির মধ্যে আছেন।

 


ড্রিম ম্যানিপুলেশন ও সিমুলেশন:

কেবল স্বপ্ন দেখাই নয়, বিজ্ঞানীরা এখন ‘লুসিড ড্রিমিং’ (Lucid Dreaming) বা সচেতন স্বপ্নের ওপর কাজ করছেন। নির্দিষ্ট কিছু শব্দ বা আলো ব্যবহার করে ঘুমের মধ্যে এআই-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো দৃশ্য প্ররোচিত করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও গবেষণা চলছে। একে বলা হয় 'Targeted Dream Incubation'। ধরুন, আপনি কোনো জটিল গাণিতিক সমস্যা বা সৃজনশীল ব্লকে আটকা পড়েছেন। এআই আপনার ঘুমের মধ্যে এমন দৃশ্য বা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে যা আপনার সৃজনশীলতাকে উদ্দীপ্ত করবে। এটি এক ধরণের মেন্টাল সিমুলেশন, যা আপনার শেখার ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।


এই প্রযুক্তির উত্থানের সাথে সাথে এক বিশাল নৈতিক প্রশ্ন সামনে চলে আসছে। আমাদের শেষ ব্যক্তিগত আশ্রয়স্থল হলো আমাদের মন বা স্বপ্ন। যদি এআই আমাদের স্বপ্নকে রেকর্ড করতে পারে, তবে কি আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আর অবশিষ্ট থাকবে? এছাড়া ‘ড্রিম অ্যাডভারটাইজিং’ বা ঘুমের মধ্যে বিজ্ঞাপনের ধারণা নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদি বড় বড় কোম্পানিগুলো ঘুমের মধ্যে আমাদের অবচেতন মনে ব্র্যান্ডের ছবি ঢুকিয়ে দেয়, তবে তা হবে এক ভয়ানক মানসিক আধিপত্য।


ভয় বা আশঙ্কার বাইরে এই প্রযুক্তির কল্যাণকর দিকটিও বিশাল। যারা ‘নাইটমেয়ার ডিসঅর্ডার’ বা ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে ভোগেন, তাদের চিকিৎসা করতে এই প্রযুক্তি জাদুকরী ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া যারা পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা কথা বলতে পারেন না, তাদের মনের ভাব বা স্বপ্নকে ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলে তাদের সাথে যোগাযোগের এক নতুন রাস্তা খুলে দিতে পারে এই এআই ড্রিম সিমুলেশন।


সম্পর্কিত নিউজ