১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা ডিএনসিসি প্রশাসকের

১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা ডিএনসিসি প্রশাসকের
ছবির ক্যাপশান, ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা ডিএনসিসি প্রশাসকের

পবিত্র ঈদুল আজহায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) এসটিএস থেকে আমিনবাজার স্যানিটারি ল্যান্ডফিলে কোরবানির পশুর বর্জ্য স্থানান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আশ্বাস দেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ঈদুল আজহার দিন দুপুর ২টা থেকে রাত ২টার মধ্যে, অর্থাৎ ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একইভাবে ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের বর্জ্যও ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা হবে। পুরো কার্যক্রম তদারকির জন্য মনিটরিং সেল কাজ করবে।

 

তিনি বলেন, নগরবাসীকে দুর্গন্ধমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ উপহার দিতে ডিএনসিসির সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, প্রকৌশল, স্বাস্থ্য ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের কর্মীরা মাঠে রয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই বর্জ্য অপসারণ শেষ করার প্রচেষ্টা থাকবে বলে জানান তিনি।

 

এর আগে মঙ্গলবার ডিএনসিসি নগরভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায়ও প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকারের নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার সময়সীমার আগেই ঢাকা উত্তর সিটি এলাকায় কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কার করতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নগরী দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় জীবাণুনাশক, ব্লিচিং পাউডার, ফিনাইল ও অন্যান্য উপকরণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

 

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে প্রায় ১৬ হাজার কর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহকারী কর্মী এবং ওয়ার্ডভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করবেন। বর্জ্য অপসারণে ব্যবহার করা হবে ট্রাক, ডাম্প ট্রাক, পিকআপ, পানির গাড়ি, পে-লোডারসহ বিভিন্ন ধরনের যান ও যন্ত্রপাতি।

 

নগরবাসীর সুবিধার জন্য বর্জ্য সংরক্ষণ ব্যাগ বিতরণ, মাইকিং, ডিজিটাল বিলবোর্ডে প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ ও মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোরবানির পর পশুর রক্ত ও বর্জ্য যেন ড্রেন, নর্দমা বা খোলা জায়গায় ফেলা না হয়, সে বিষয়ে নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়েছে ডিএনসিসি।

 

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নয়, নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতার মাধ্যমেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্যমুক্ত শহর নিশ্চিত করা সম্ভব। কোরবানির বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে রাখা, পলিব্যাগ ব্যবহার করা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

 

সব মিলিয়ে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম শেষ করতে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম, জোনভিত্তিক মনিটরিং টিম এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীরা একযোগে কাজ করবেন।


সম্পর্কিত নিউজ