আর্জেন্টিনার জার্সিতে আইনি ফিতে ৫০% ছাড়ের ঘোষণা, বার কাউন্সিলের শোকজে আইনজীবী মিঠুন শাহা

আর্জেন্টিনার জার্সিতে আইনি ফিতে ৫০% ছাড়ের ঘোষণা, বার কাউন্সিলের শোকজে আইনজীবী মিঠুন শাহা
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬কে সামনে রেখে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি পরে মক্কেলদের আইনি ফিতে ৫০ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দিয়ে বিপাকে পড়েছেন আইনজীবী মিঠুন শাহা। পেশাগত মর্যাদা ও আচরণবিধির পরিপন্থী এমন প্রচারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।

একই সঙ্গে নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এবং কেন তার আইনজীবী সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদারের বিশেষ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ শোকজ নোটিশ জারি করা হয়।

 

বার কাউন্সিলের পাঠানো নোটিশে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং স্থিরচিত্রে দেখা গেছে, মিঠুন শাহা পেশাগত পোশাকের পরিবর্তে আর্জেন্টিনা দলের জার্সি পরে তার চেম্বারে বসে মক্কেলদের আইনি সেবা প্রদান করছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন যে, আর্জেন্টিনার জার্সি পরে আইনি পরামর্শ নিতে এলে মক্কেলদের কাছ থেকে স্বাভাবিক ফির পরিবর্তে ৫০ শতাংশ কম ফি নেওয়া হবে।

 

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, আইনজীবী পেশা কোনো বাণিজ্যিক প্রচারণার ক্ষেত্র নয়। পেশাগত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ডিসকাউন্ট, অফার বা বিপণনমূলক কার্যক্রম আইনজীবীদের আচরণবিধি ও পেশাগত মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত ‘ক্যাননস অব প্রফেশনাল কন্ডাক্ট অ্যান্ড ইটিকেটি’ অনুযায়ী একজন আইনজীবীর আচরণ হতে হবে সংযত, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন।

 

বার কাউন্সিল তাদের নোটিশে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু একজন ব্যক্তির আচরণগত বিচ্যুতি নয়; বরং তা সমগ্র আইনজীবী সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। বিচারপ্রার্থী জনগণের কাছে আইনজীবী পেশার প্রতি আস্থা ও সম্মান বজায় রাখার স্বার্থে পেশাগত নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।

 

নোটিশে আরও বলা হয়, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে পূর্বেও তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। তবে সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তিনি একই ধরনের প্রচারণা অব্যাহত রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বার কাউন্সিলের মতে, এ ধরনের আচরণ প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও কর্তৃত্বকে অগ্রাহ্য করার শামিল।

 

এই প্রেক্ষাপটে মিঠুন শাহার বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এবং কেন তার ওকালতি সনদ স্থগিত বা বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দাখিল না করলে বার কাউন্সিল পরবর্তী আইনগত ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

আইনজীবী পেশার মর্যাদা, নিরপেক্ষতা ও নৈতিক মানদণ্ড রক্ষার প্রশ্নে ঘটনাটি ইতোমধ্যে আইন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিষয়টির পরবর্তী অগ্রগতি এবং বার কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে আইনজীবী সমাজ ও সংশ্লিষ্ট মহলের।


সম্পর্কিত নিউজ