উপস্থিতি কম হওয়ার আশঙ্কায় ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল করতে পারেনি চাকসু

উপস্থিতি কম হওয়ার আশঙ্কায় ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল করতে পারেনি চাকসু
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত
  • Author, আল আরাফ, চবি প্রতিনিধি
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

উপস্থিতি কম হওয়ার আশঙ্কায় নরসিংদীসহ সারাদেশে সংঘটিত ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনার বিচারের দাবিতে ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল করতে পারেনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সোহরাওয়ার্দী হল মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই অনিবার্য কারণ দেখিয়ে কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে চাকসু। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে চাকসু জানায়, “নরসিংদীসহ সারাদেশে হওয়া ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনাসমূহের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে” সোহরাওয়ার্দী হল মোড়ে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্ধারিত সময়ে কর্মসূচি বাস্তবায়িত না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের একাংশ হতাশা প্রকাশ করেন।

চাকসুর ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টি পদে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতারা নির্বাচিত। একইদিন সন্ধ্যায় শিবিরের উদ্যোগে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন ছিল, যা নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিফ রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, নরসিংদীতে ধর্ষণের পর আমেনা হত্যাকাণ্ডে জামায়াতের এক নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকায় চাকসু বিক্ষোভ মিছিল স্থগিত করেছে। তিনি চাকসুকে “দলান্ধ চাকসু” আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নারী অঙ্গনের নেত্রী সুমাইয়া শিকদার ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে চাকসুকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্তব্য করেন, ধর্ষণবিরোধী কর্মসূচি ঘোষণা করেও তা বাস্তবায়ন না করা হতাশাজনক।

সমুদ্র তত্ত্ববিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, চাকসুর নেতারা প্রায়ই নিজেদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিচ্ছেন না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ধর্ষণবিরোধী কর্মসূচি স্থগিতের কারণ সম্পর্কে এখনো কেন শিক্ষার্থীদের সামনে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়া বলেন, “মূলত আমরা সমন্বয় না করেই একটি সময় নির্ধারণ করেছিলাম। ইফতার ও তারাবির নামাজের কারণে অনেকেই সময় দিতে পারছিলেন না, আবার অনেকে টিউশনের কারণে ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলেন। উপস্থিতি কম হওয়ার আশঙ্কা থেকেই আমরা কর্মসূচি স্থগিত করেছি।”

চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাইদ বিন হাবিব বলেন, “আমাদের প্রোগ্রাম মাগরিবের পরে নির্ধারিত ছিল। একইদিন আরেকটি বড় আয়োজন থাকায় উপস্থিতি কম হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে জুমার নামাজের পর কর্মসূচি হওয়ায় সেখানে বেশি উপস্থিতি দেখা গেছে। উপস্থিতি কম হওয়ার আশঙ্কা থেকেই আমরা অনিবার্য কারণবশত কর্মসূচি স্থগিত করেছি। তবে শিগগিরই বিক্ষোভ মিছিল বা অন্য কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

তিনি নরসিংদীর ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, " যে ঘটনাটি ঘটেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সরাসরি একজন বিএনপি নেতার ছেলে। গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি টাকার বিনিময়ে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাদেরই ছত্রছায়ায় মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দেশে একটি মততন্ত্র কায়েম হয়েছে। আমরা মততন্ত্র থেকে বাংলাদেশকে সুস্থধারার রাজনৈতিক পরিবেশে ফিরিয়ে নিতে চাই। ধর্ষণের ঘটনা শুধু একটি জায়গায় নয়, ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও আমরা দেখেছি। চাকসুর জিএস হিসেবে আমি এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

এদিকে, সন্ধ্যায় শিবির আয়োজিত ইফতার মাহফিলে চাকসুর ভিপি বলেন, “এ রমজানেও আমার দেশ ভালো নেই। দেশে চলমান অস্থিরতা ও নরসিংদীতে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন।” তিনি দুর্নীতি বন্ধ ও সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের একাংশ চাকসুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় ইস্যুতে বিক্ষোভ মিছিল করতে না পারায় বিষয়টি ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ