{{ news.section.title }}
ইবিতে ‘ক্যারেক্টার ডে’: চরিত্রে চরিত্রে ফুটে উঠল সংস্কৃতি ও প্রতিবাদ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাংলা নববর্ষের দ্বিতীয় দিনে বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটারের উদ্যোগে চতুর্থবারের মতো ’ক্যারেক্টার ডে’ উদযাপন করা হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বরে ব্যাতিক্রমী এ আয়োজন করা হয়।
এতে বাংলাদেশের কৃষক, মনপুরা সিনেমার পরী-সোনাই, অপুর সংসারের অপু-অপর্ণা, জগতবিখ্যাত ফেলুদা, সবার প্রিয় সালমান শাহ, হুমায়ুন আহমেদের হিমু-রূপা, জননন্দিত অভিনেতা মোশাররফ করিম, নৃত্যশিল্পী সুরাইয়া এবং ’আমিই বাংলাদেশ’ চরিত্রসহ হত্যাকাণ্ডের শিকার ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর প্রতীকী চরিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এসব চিরচেনা জনপ্রিয় রূপ দেখে নববর্ষ উদযাপন করতে আসা এক শিক্ষার্থী রাফিউল বলেন, বাংলা বিভাগের উৎসব থেকে বের হয়েই এক অনন্য দৃশ্য দেখলাম। এখানে প্রতিটি ব্যক্তি কেবল একেকটি চরিত্র নয়, বরং আমাদের অস্তিত্ব ও সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে সাজিদ হত্যার বিচারহীনতার হাহাকার, অন্যদিকে দেশের গৌরব—সবই ফুটে উঠেছে তার বাচনভঙ্গিতে। এই শৈল্পিক প্রতিবাদ ও দেশাত্মবোধ আমাকে ভীষণভাবে আলোড়িত করেছে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটারের সদস্যের অভিনয় দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তণ আনার উদ্দেশ্যই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে আগ্রহী করে তুলতে এই আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানা যায়।
এ বিষয়ে সংগঠনের সভাপতি সাইফুন্নাহার লাকি বলেন, "প্রতিবছর বি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক চর্চাকে তুলে ধরার জন্য 'ক্যারেক্টার ডে' পালন করে আসছে "বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার"। তারই ধারাবাহিকতায় চতুর্থবার বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটারের আয়োজনে বাঙালি সংস্কৃতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারের 'ক্যারেক্টার ডে-২০২৬'।"
তিনি আরও বলেন, "বিচারহীনতার ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও আমরা সাজিদ হত্যার বিচার পাইনি। আমাদেরই বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীকে গুম করে হত্যা করা হয়েছে যার প্রতিকার এখনো পাইনি। তাই আমরা বিচারহীনতার প্রতীকি হিসেবে সাজিদ আব্দুল্লাহর প্রতিনিধি হয়ে এসেছি। আমরা এসেছি দেশীয় বিভিন্ন সিনেমার চরিত্র ধারণ করে বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা তুলে ধরতে। বাংলাদেশের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত কৃষক, মনপুরা সিনেমার পরী সোনাই, অপুর সংসারের অপু- অপর্ণা, জগতবিখ্যাত ফেলুদা, সবার প্রিয় সালমান শাহ, হুমায়ুন আহমেদের হিমু-রূপা, জননন্দিত অভিনেতা মোশাররফ করিম, নৃত্যশিল্পী সুরাইয়া এবং আমিই বাংলাদেশ চরিত্র ধারণে লাকী ও সংগীত। বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার মানুষের জন্য আয়োজন করেছে, করছে এবং করবে।
সুষ্ঠু সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত থাক। বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটারের মাধ্যমে, আমাদের মঞ্চ আর সংলাপের মাধ্যমে আসুক সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন।“
প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তাদের বিভিন্ন নাট্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিভিন্ন বার্তা দিতে সব সময় কাজ করে যাচ্ছে।