চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণিল পহেলা বৈশাখ - শোভাযাত্রা, বউচি-বলী খেলা থেকে সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর ক্যাম্পাস

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণিল পহেলা বৈশাখ - শোভাযাত্রা, বউচি-বলী খেলা থেকে সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর ক্যাম্পাস
ছবির ক্যাপশান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণিল পহেলা বৈশাখ - শোভাযাত্রা, বউচি-বলী খেলা থেকে সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর ক্যাম্পাস

পহেলা বৈশাখ উদযাপনে বর্ণিল আয়োজনে মুখর ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস। দিনব্যাপী শোভাযাত্রা, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি জারুলতলায় গিয়ে শেষ হয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি।

দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মেয়েদের খেলা ‘বউচি’। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ খেলায় শামসুন্নাহার হল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হল, নবাব ফয়জুন্নেসা হল, বিজয় ২৪ হল ও প্রীতিলতা হলসহ পাঁচটি দলের ৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

 

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সহকারী প্রক্টর কোরবান আলী। এ সময় বিভিন্ন হলের প্রভোস্টবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বউচি খেলা উপভোগ করতে চাকসু প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

চট্টগ্রাম থেকে আসা দর্শনার্থী মোহাম্মদ জিসান বলেন, “শুনেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব জাঁকজমকভাবে বৈশাখ উদযাপন হয়। আগে আসা হয়নি, বন্ধুদের কাছ থেকে শুনেছিলাম। প্রথমবার এসে খুব ভালো লাগছে। এখন থেকে হয়তো প্রতি বছরই আসবো।”

 

হাটহাজারী থেকে সন্তানদের নিয়ে আসা আব্দুল কাদের বলেন, “এমন প্রতিযোগিতা সচরাচর দেখা যায় না। তাই ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এসেছি। আমরা সবাই খুব উপভোগ করেছি।”

 

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চে আয়োজন করা হয় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বলী খেলা। এতে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল এমপি। তিনি মঞ্চ ছেড়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করেন।

 

অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকেই এসব খেলাধুলার সঙ্গে বড় হয়েছি। আমাদের বাপ-দাদারা যে খেলাগুলো শিখিয়েছেন, সেগুলো নতুন প্রজন্ম ধরে রেখেছে।”

তিনি আরও বলেন, “রংধনু জাতি গঠনের যে প্রক্রিয়া, সেটি সবার সামনে তুলে ধরার এই উদ্যোগ সঠিক দিকেই এগোচ্ছে।”

 

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম শহরে অবস্থিত ছিল। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রথমবারের মতো চারুকলা ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের পর এবারই প্রথম পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হচ্ছে। ফলে এবারের বৈশাখ পেয়েছে নতুন মাত্রা ও রং।

 

আরো পড়ুন : সিএনজি চালকের মারধরে আহত চবি শিক্ষার্থী, অভিযুক্ত আটক না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে চলবে না সিএনজি

 

চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও বৈশাখী অনুষ্ঠানের আয়োজক তানজিনা প্রমি বলেন, “এবারের বৈশাখ পুরোপুরি অন্যরকম। কারণ আগে আমরা নিজেরা আলাদাভাবে পহেলা বৈশাখ পালন করতাম, এবার সবার সঙ্গে একসঙ্গে উদযাপন করছি। আমরা খুবই আনন্দিত, সবার ভেতরেই এই আনন্দ কাজ করছে। সবাই অনেক উচ্ছ্বসিত।”

 

পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদ সংলগ্ন মুক্তমঞ্চে আয়োজন করা হয় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ, যেখানে দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।

আব্দুর রব হল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় হা-ডু-ডু খেলা, যেখানে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা দল গঠন করে অংশগ্রহণ করেন।

 

এদিকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া বৈশাখী মেলা চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাতে চাকসু প্রাঙ্গণের জারুলতলায় আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাত ১০টা পর্যন্ত চলে, যা উৎসবকে দেয় বাড়তি মাত্রা।

দিনব্যাপী এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন পায় এক বর্ণিল ও প্রাণবন্ত রূপ।


সম্পর্কিত নিউজ