{{ news.section.title }}
একই দিনে দুই পৃথক প্রজ্ঞাপনে বদলে গেল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপ-উপাচার্য
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) পদে নতুন নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১০ জুন) বিকেলে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে অধ্যাপক মো. আল-আমিনকে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) এবং অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলামকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বে দায়িত্ব পালনকারী দুই উপ-উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অধ্যাপক মো. আল-আমিন বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসের (আইএফইএসসিইউ) অধ্যাপক এবং বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি। অন্যদিকে অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নির্বাহী সদস্য।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানকে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নবনিযুক্ত দুই উপ-উপাচার্য তাঁদের বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি তাঁরা সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আগের দুই উপ-উপাচার্যকে অব্যাহতি দিয়ে তাঁদের স্থলে নতুন দুইজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনগুলো সত্য।”
নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মো. আল-আমিন জলবায়ু পরিবর্তন ও বন অভিযোজন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ একজন বন ও পরিবেশবিজ্ঞানী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৯ বছরসহ মোট ৩৪ বছরের শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এর আগে তিনি বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঁচ বছর গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, আইএফইএসসিইউর পরিচালক এবং মাস্টারদা সূর্য সেন হলের প্রভোস্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
এ ছাড়া ইউএসডিএ-অর্থায়িত বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পের নেতৃত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক আল-আমিন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাইমেট চেঞ্জ ও জিআইএস ল্যাবসহ একাধিক গবেষণাগার প্রতিষ্ঠায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে তিনি সরকারের রেড প্লাস স্টিয়ারিং কমিটির বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ছয়টি বই এবং ৬০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি ১৫০টিরও বেশি গবেষণার তত্ত্বাবধান করেছেন তিনি। ২০০৮ সালে সুইডেনে অনুষ্ঠিত আইইউএফআরও-এফএও সম্মেলনে শ্রেষ্ঠ গবেষণা পুরস্কার অর্জন করেন।
অন্যদিকে নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নতুন নিয়োগের আগে তাঁকে সেখান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তিনি চীনের সাংহাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব লিবারেল আর্টস থেকে গ্লোবাল স্টাডিজে পিএইচডি এবং সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০১৮ সালে তিনি চীনের গুয়াংসি বিশ্ববিদ্যালয়ের চায়না-আসিয়ান রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটরস লিডারশিপ প্রোগ্রামেও অংশগ্রহণ করেছেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে তাঁর অসংখ্য গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে তুলনামূলক রাজনীতি, নির্বাচন শাসন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি, চীন-দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্ক, বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের ভূরাজনীতি এবং নন-ট্র্যাডিশনাল নিরাপত্তা ইস্যু।
নিয়োগের প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি আগামীকাল থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও নিয়মকানুন অনুসরণ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে কাজ করব। বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করব এবং উপাচার্য যে দায়িত্ব দেবেন, তা সুচারুভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করব। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।”