মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য ইবির অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল

মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য ইবির অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল
ছবির ক্যাপশান, ছবি: জাগরণ

মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ড. মো. তোজাম্মেল হোসেন। রবিবার (৭ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা যায়। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট মহলে এ নিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নবগঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে তার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণে তিনি কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

 

প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (সংশোধিত ২০২৫) এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর মেয়াদে অথবা বয়সসীমা পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।

 

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, একাডেমিক মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তিনি নেতৃত্ব প্রদান করবেন।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

 

অধ্যাপক ড. মো. তোজাম্মেল হোসেন দীর্ঘদিন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপনায় নিযুক্ত আছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) ইবি শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

শিক্ষাজীবন ও শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন একাডেমিক, গবেষণা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিচালনায় তার অভিজ্ঞতা নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৫ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে মেহেরপুর সদরে ‘মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একটি জরিপ প্রতিবেদন চায়। পরবর্তীতে ইউজিসির সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি অনুমোদন লাভ করে।

 

এরপর ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মেহেরপুরে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে আইন পাস হয়। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম ‘মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ রাখার প্রস্তাব থাকলেও, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেশের অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে মুজিবনগরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এর নাম ‘মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণ করে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন উপাচার্যের নেতৃত্বে শিক্ষা, গবেষণা এবং আধুনিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়টি নতুন মাত্রা পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সম্পর্কিত নিউজ