{{ news.section.title }}
সিএনজি ভাড়া ছিল ৭ টাকা, আন্দোলনের পর সিএনজির জায়গা দখল করেছে রিকশা-এখন শিক্ষার্থীদের গুনতে হচ্ছে ১৫ টাকা
আজ মঙ্গলবার ১৫ এপ্রিল দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেট থেকে স্মরণ চত্বর (জিরো পয়েন্ট) সড়কে এ চিত্র লক্ষ্য করা যায়।
২৩০০ একরের বিশাল ক্যাম্পাসের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এ এক অনুষদ থেকে আরেক অনুষদের দূরত্ব কখনো কয়েক কিলোমিটারেরও বেশি। ফলে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম ও ক্লাসে যাতায়াতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোগান্তি নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আসছে স্থানীয় সিএনজি ও রিকশাচালকদের সিন্ডিকেট।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শাটল ট্রেন থাকলেও তা নির্ধারিত সময়সূচিভিত্তিক। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি বাস মিস করলে আরেকটি বাস পাওয়ার সুযোগ এখানে নেই। ফলে শাটল ট্রেন মিস করলেই সড়কপথ হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা-আর সেখান থেকেই শুরু হয় ভোগান্তি।
বিশ্ববিদ্যালয় গেট থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত চলাচলকারী দ্রুতযান সার্ভিসে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ভাড়া ২৫ টাকা হলেও অনেক সময় বাস কন্ট্রাক্টররা তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে প্রতিনিয়ত বাকবিতণ্ডা লেগেই থাকে। পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্থার অভিযোগও রয়েছে নিয়মিত।
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য একাধিক বাস সার্ভিস থাকলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটল ট্রেনের অজুহাতে চালু করা হয়নি নিয়মিত বাস সার্ভিস। বিপরীতে শিক্ষকদের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত এসি ও নন-এসি বাস। এমনকি শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা বা বিশেষ দিবসে জনসমাগম বাড়লেই বেড়ে যায় সিএনজি ও রিকশার ভাড়া। এ নিয়ে প্রায়ই চালকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাগবিতণ্ডা হয়।
গত বছর ই-কার সেবা চালু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এক নম্বর গেট থেকে মূল ক্যাম্পাসের দুই কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের এই সড়কে শক্তিশালী সিএনজি সিন্ডিকেটের কারণে ই-কার সেবা পুরোপুরি চালু করতেও পারেনি আগের প্রশাসন।
এরই মধ্যে গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষার্থীকে সিএনজি চালকের মারধরের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। ওইদিন নির্ধারিত ৭ টাকার ভাড়া ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করলে প্রশাসন চারটি বাস চালু ও অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেয়।
তবে পরদিন সরেজমিনে দেখা যায়, সিএনজি চলাচল কমে গিয়ে তাদের জায়গা দখল করেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। আগে যেখানে জনপ্রতি ভাড়া ছিল ৭ টাকা, এখন একই দূরত্বে শিক্ষার্থীদের দিতে হচ্ছে ১৫ টাকা। এসব রিকশার সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ করছেন এমন কিছু ব্যক্তি, যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে ছিনতাই ও শিক্ষার্থী হেনস্থার অভিযোগ রয়েছে বলেও জানা যায়।
মার্কেটিং বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নুরুদ্দিন আকবর ফাহিম দীর্ঘক্ষণ বাসের জন্য অপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত বাস না পেয়ে ফিরে যান।
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী গিয়াস উদ্দিন রক্সি বলেন, “আজ সকালে আসার সময় কোনো সিএনজি পাইনি, রিকশাও অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।”
ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী সাজিদ বলেন, “সিএনজি সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে পর্যাপ্ত ও বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।”
দর্শন বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী দুপুর ১টা ২০ মিনিটের টিউটোরিয়ালে অংশ নিতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও বাস না পেয়ে শেষ পর্যন্ত এক সাংবাদিকের মোটরসাইকেলে করে ক্লাসে যান।
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া বলেন, “আমি সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ছিলাম, তখন সব ঠিক ছিল। পরে কী হয়েছে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, “অভিযুক্ত সিএনজি চালক এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। সবকিছু কি প্রশাসনের হাতে থাকে? আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আজ বিকেলে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে।”
পরিবহন দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, “আপনারা যে সময় ছিলেন ওই সময় বাস চালক রা হয়তো খেতে গিয়েছিলেন অথবা ওয়াশরুমে গিয়েছিলেন । এ সময় সকল বিভাগেরই ক্লাস চলে তাই শিক্ষার্থীদের চাপও কম থাকে। আবার দেড়টার শাটল ট্রেনের সিডিউলের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো যোগ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কোন বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা নেই । গতকালের উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘবের জন্য সাময়িক ব্যবস্থা করেছি। এবং শিক্ষার্থীদের জন্য যে কয়েকটি বাস চলে তার জন্য ইউজিসি আমাদের পর্যাপ্ত অর্থ সহায়তা দেয় না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে এবং এক নম্বর গেট থেকে স্মরণ চত্বর পর্যন্ত স্থায়ী চক্রাকার বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে বাস্তবায়নের আশ্বাস মিললেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি।