প্রি-ডায়াবেটিস: লক্ষণ ও করণীয়

প্রি-ডায়াবেটিস: লক্ষণ ও করণীয়
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ডায়াবেটিসকে এখন বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশেও প্রতি বছর বাড়ছে ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। তবে চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস সাধারণত একদিনে তৈরি হয় না। এর বহু বছর আগেই শরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দিতে শুরু করে, যাকে বলা হয় প্রি-ডায়াবেটিস।

এই অবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, কিন্তু তা এখনও টাইপ-২ ডায়াবেটিস হিসেবে নির্ণয় করার মতো পর্যায়ে পৌঁছায় না। সমস্যা হলো, অধিকাংশ মানুষ এই অবস্থার কোনো লক্ষণ অনুভব করেন না। ফলে অজান্তেই তারা এমন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করেন, যা ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিডনি জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

 

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তাদের বড় একটি অংশ জানেনই না যে তারা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। কারণ এই অবস্থাকে অনেক সময় ‘সাইলেন্ট কন্ডিশন’ বা নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি বলা হয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ধরা পড়ে না। তবে আশার বিষয় হলো, সময়মতো শনাক্ত করা গেলে এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা গেলে প্রি-ডায়াবেটিসকে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এমনকি ডায়াবেটিসে রূপ নেওয়ার আগেই পরিস্থিতি উল্টে দেওয়ার সুযোগও থাকে।

 

প্রি-ডায়াবেটিস আসলে কী

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় প্রি-ডায়াবেটিস হলো এমন একটি অবস্থা, যখন রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, কিন্তু এখনও টাইপ-২ ডায়াবেটিস নির্ণয়ের সীমায় পৌঁছায়নি। একে অনেক সময় ‘ইমপেয়ার্ড ফাস্টিং গ্লুকোজ’ অথবা ‘ইমপেয়ার্ড গ্লুকোজ টলারেন্স’ও বলা হয়।

 

মানুষের শরীরে গ্লুকোজ হলো শক্তির প্রধান উৎস। খাবার থেকে প্রাপ্ত কার্বোহাইড্রেট ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়। এরপর অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন নামের হরমোনের সাহায্যে সেই গ্লুকোজ শরীরের কোষে প্রবেশ করে শক্তি উৎপাদন করে। কিন্তু কোনো কারণে যখন শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি স্বাভাবিক সাড়া দেয় না, তখন রক্তে গ্লুকোজ জমা হতে থাকে। এই অবস্থাকে বলা হয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। দীর্ঘ সময় ধরে এই সমস্যা চলতে থাকলে প্রি-ডায়াবেটিস তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রূপ নিতে পারে।

 

চিকিৎসকরা বলছেন, প্রি-ডায়াবেটিসকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এটি শুধু ডায়াবেটিসের আগাম সতর্কবার্তা নয়, বরং শরীরের বিপাকীয় ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দেয়।

 

কেন বাড়ছে প্রি-ডায়াবেটিসের প্রকোপ

গত দুই দশকে বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এসেছে। শারীরিক পরিশ্রম কমেছে, বেড়েছে বসে কাজ করার প্রবণতা। একই সঙ্গে ফাস্টফুড, কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহারও বেড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই পরিবর্তনগুলো প্রি-ডায়াবেটিস বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ যত কম সক্রিয় হয়, শরীর তত কম কার্যকরভাবে ইনসুলিন ব্যবহার করতে পারে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে শুরু করে। অন্যদিকে অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার ওজন বাড়ায় এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে। ফলে ডায়াবেটিসের আগের ধাপ অর্থাৎ প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

 

যেসব লক্ষণ হতে পারে সতর্কবার্তা

প্রি-ডায়াবেটিসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। তবুও কিছু শারীরিক পরিবর্তন শরীরের ভেতরের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

 

চিকিৎসকদের মতে, ঘাড়, বগল, কনুই, হাঁটু অথবা আঙুলের গিঁটের আশপাশে ত্বক কালচে ও মোটা হয়ে গেলে তা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের লক্ষণ হতে পারে। এই অবস্থাকে অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিক্যানস বলা হয়। অনেকের শরীরে ছোট ছোট স্কিন ট্যাগ বা অতিরিক্ত ত্বক দেখা দিতে পারে। এগুলোও প্রি-ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

 

কিছু ক্ষেত্রে চোখের রক্তনালিতে পরিবর্তন শুরু হতে পারে, যা পরবর্তীতে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির ঝুঁকি বাড়ায়। যদিও এসব লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে দেখা যায় না, তবুও এগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

 

যদি প্রি-ডায়াবেটিস ডায়াবেটিসে রূপ নিতে শুরু করে, তখন অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অতিরিক্ত ক্ষুধা, ঝাপসা দেখা, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া এবং কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

 

কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে

চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু নির্দিষ্ট মানুষের মধ্যে প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি।

 

অতিরিক্ত ওজন এই ঝুঁকির সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি। বিশেষ করে পেটের চারপাশে চর্বি জমে গেলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ে। কোমরের মাপ বেড়ে যাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই ভবিষ্যতের ডায়াবেটিসের আগাম সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও বড় কারণ। যারা নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করেন না, তাদের শরীর ইনসুলিনকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না। ফলে ধীরে ধীরে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকে।

 

খাদ্যাভ্যাসেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অতিরিক্ত লাল মাংস, প্রক্রিয়াজাত মাংস, ফাস্টফুড, চিনি সমৃদ্ধ পানীয় এবং অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। বিপরীতে আঁশসমৃদ্ধ খাদ্য, ফলমূল, শাকসবজি এবং পূর্ণ শস্যভিত্তিক খাবার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

 

বয়স, পরিবার ও নারীদের বিশেষ ঝুঁকি

৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে প্রি-ডায়াবেটিস বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে তরুণদের মধ্যেও এ সমস্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থূলতা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা এর অন্যতম কারণ। যাদের বাবা-মা, ভাই অথবা বোনের টাইপ-২ ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। কারণ জিনগত প্রভাব এবং পারিবারিক জীবনযাত্রা উভয়ই এতে ভূমিকা রাখে।

 

নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নারীদের পরবর্তী জীবনে প্রি-ডায়াবেটিস এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। একইভাবে তাদের সন্তানদের মধ্যেও স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

 

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএসে আক্রান্ত নারীদের ক্ষেত্রেও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের হার বেশি। ফলে তাদের মধ্যে প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি দেখা যায়।

 

ঘুম ও ধূমপানের সঙ্গে সম্পর্ক

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের সমস্যার সঙ্গে রক্তে শর্করার ভারসাম্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের হরমোনগত ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। একইভাবে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপও শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

 

ধূমপান আরেকটি বড় ঝুঁকির কারণ। গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপান ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং রক্তনালির ক্ষতি করে। ফলে ধূমপায়ীদের মধ্যে প্রি-ডায়াবেটিস এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়।

 

কীভাবে শনাক্ত করা হয়

প্রি-ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ফাস্টিং প্লাজমা গ্লুকোজ পরীক্ষা অন্যতম। এতে নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকার পর রক্তে শর্করার মাত্রা পরিমাপ করা হয়। ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্টের মাধ্যমে দেখা হয় শরীর গ্লুকোজ কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারছে।

 

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো HbA1c বা গ্লাইকোসিলেটেড হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা। এটি গত দুই থেকে তিন মাসে রক্তে শর্করার গড় মাত্রা সম্পর্কে ধারণা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, HbA1c মাত্রা ৫.৭ শতাংশ থেকে ৬.৪ শতাংশের মধ্যে থাকলে তা প্রি-ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত হতে পারে।

 

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি

যদি কারও মধ্যে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ঝাপসা দেখা বা দ্রুত ওজন বৃদ্ধি কিংবা হ্রাসের মতো উপসর্গ দেখা যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া যাদের পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, যাদের ওজন বেশি, যারা ধূমপান করেন অথবা যাদের জীবনযাত্রা তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয়, তাদের নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করানো উচিত।

 

চিকিৎসার মূল লক্ষ্য ডায়াবেটিস প্রতিরোধ

প্রি-ডায়াবেটিসের চিকিৎসার প্রধান লক্ষ্য হলো টাইপ-২ ডায়াবেটিসে অগ্রসর হওয়া প্রতিরোধ করা। চিকিৎসকরা বলছেন, জীবনধারার পরিবর্তনই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। খাদ্যতালিকায় বেশি আঁশযুক্ত খাবার, ফলমূল, শাকসবজি এবং পূর্ণ শস্য রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি, ফাস্টফুড এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার কমাতে হবে।

 

নিয়মিত ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা অথবা অন্য কোনো শারীরিক কার্যক্রম শরীরকে ইনসুলিন আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে সাহায্য করে।

 

ওজন কমানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের মোট ওজনের মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমাতে পারলেও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

 

ধূমপান ত্যাগ, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ঘুমের সমস্যার চিকিৎসাও প্রি-ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে। কিছু ক্ষেত্রে রোগীর কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ওষুধও দেওয়া হতে পারে।

 

শিশুদের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ

একসময় প্রি-ডায়াবেটিসকে বয়স্কদের সমস্যা মনে করা হলেও বর্তমানে শিশু ও কিশোরদের মধ্যেও এ সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক কার্যক্রমের অভাব এর পেছনে বড় কারণ।

 

শিশুদের ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণ, আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, চর্বি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কমানো, খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা শারীরিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাইরে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমাতে হবে।

 

অবহেলা করলে কী হতে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রি-ডায়াবেটিসকে অবহেলা করলে তা একসময় টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রূপ নিতে পারে। তখন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

 

হৃদরোগ, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, কিডনি রোগ, স্নায়ুর ক্ষতি, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং রক্তনালির বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রোগী ডায়াবেটিস শনাক্ত হওয়ার আগেই এসব জটিলতার প্রাথমিক ধাপ শুরু হয়ে যায়।

 

সচেতনতা ও জীবনধারার পরিবর্তনই সমাধান

চিকিৎসকদের মতে, প্রি-ডায়াবেটিস কোনো চূড়ান্ত রোগনির্ণয় নয়। বরং এটি এমন একটি সতর্কবার্তা, যা মানুষকে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ত্যাগ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা-এই কয়েকটি অভ্যাসই ভবিষ্যতের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রি-ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা যত বাড়বে, ততই কমবে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের প্রকোপ। তাই শরীরের ছোট ছোট সংকেতকে অবহেলা না করে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।


সম্পর্কিত নিউজ