থাইরয়েডের সমস্যা হলে কী খাবেন, কী খাবেন না

থাইরয়েডের সমস্যা হলে কী খাবেন, কী খাবেন না
ছবির ক্যাপশান, থাইরয়েডের সমস্যা হলে কী খাবেন, কী খাবেন না

থাইরয়েডের সমস্যায় সঠিক খাদ্যাভ্যাস হরমোন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। থাইরয়েড বেশি (হাইপার) বা কম (হাইপো)—যাই হোক না কেন, খাবারে আয়োডিন, সেলেনিয়াম ও জিংক যুক্ত করা এবং গয়ট্রোজেনিক খাবার সীমিত করা উচিত। মিষ্টি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।

থাইরয়েডের সমস্যা সাধারণত দুই ধরনের হয়—হাইপোথাইরয়েডিজম (হরমোন কম তৈরি হওয়া, যাতে ওজন বাড়ে) এবং হাইপারথাইরয়েডিজম (হরমোন বেশি তৈরি হওয়া, যাতে ওজন কমে). থাইরয়েড সুস্থ রাখতে এবং ওষুধের কার্যকারিতা বাড়াতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস জরুরি. নিচে দুই ধরনের সমস্যার জন্যই বিস্তারিত খাবার তালিকা দেওয়া হলো: 

হাইপোথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড কম হলে) 

এ ক্ষেত্রে শরীরের মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়. তাই আয়োডিন, সেলেনিয়াম ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত. 

কি খাবেন:

  • আয়োডিনযুক্ত লবণ: রান্নায় সাধারণ আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করবেন.

  • সামুদ্রিক মাছ: টুনা, স্যালমন বা যেকোনো সামুদ্রিক মাছ আয়োডিনের ভালো উৎস.

  • ডিম এবং মুরগির মাংস: এতে পর্যাপ্ত সেলেনিয়াম ও প্রোটিন থাকে.

  • দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার: ছানা, পনির বা টক দই হরমোন উৎপাদনে সাহায্য করে.

  • বাদাম ও বীজ: কাঠবাদাম, আখরোট এবং মিষ্টি কুমড়ার বীজ জিংকের ভালো উৎস.

  • তাজা ফল ও শাকসবজি: কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ফাইবারযুক্ত ফল ও সবজি খান. 

কি খাবেন না বা এড়িয়ে চলবেন: 

  • কাঁচা ক্রুসিফেরাস সবজি: ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রোকলি এবং ওলকপি কাঁচা খাবেন না. তবে ভালো করে রান্না বা সেদ্ধ করে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যাবে.

  • সয়াবিন ও সয়া খাবার: টোফু, সয়ামিল্ক বা সয়াবিন হরমোন শোষণে বাধা দেয়.

  • প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার: ফাস্টফুড, প্যাকেটজাত খাবার, কেক ও কোল্ড ড্রিংকস ওজন বাড়িয়ে দেয়.

  • গ্লুটেনযুক্ত খাবার: অনেকের ক্ষেত্রে গম, বার্লি বা ময়দার তৈরি খাবার প্রদাহ বাড়ায়. 

হাইপারথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড বেশি হলে) 

এ ক্ষেত্রে বিপাক প্রক্রিয়া খুব দ্রুত হয় এবং শরীর পুষ্টি উপাদান দ্রুত হারিয়ে ফেলে. 

কি খাবেন:

  • ক্রুসিফেরাস সবজি: হাইপারথাইরয়েডে বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রোকলি হরমোন উৎপাদন কিছুটা কমাতে সাহায্য করে.

  • ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার: হাড় ভালো রাখতে পালং শাক, ফর্টিফাইড জুস এবং ডাক্তারের পরামর্শে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাবেন.

  • সহজপাচ্য প্রোটিন: ডাল, ছোলা, ডিমের সাদা অংশ এবং চর্বিহীন মুরগির মাংস.

  • অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল: জাম, বেরি, আপেল এবং পেয়ারা. 

কি খাবেন না বা এড়িয়ে চলবেন: 

  • অতিরিক্ত আয়োডিনযুক্ত খাবার: সামুদ্রিক শৈবাল (Seaweed), চিংড়ি, সামুদ্রিক মাছ এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ কম খাবেন.

  • ক্যাফেইন: কফি, চা, এনার্জি ড্রিংকস বা চকলেট বুক ধড়ফড়ানি এবং অনিদ্রার সমস্যা বাড়িয়ে দেয়.

  • রেড মিট: অতিরিক্ত খাসি বা গরুর মাংস প্রদাহ বাড়াতে পারে. 

সরাসরি তুলনা 

খাবারের ধরন হাইপোথাইরয়েডিজম (কম হরমোন)হাইপারথাইরয়েডিজম (বেশি হরমোন)

আয়োডিনযুক্ত লবণ

✅ খাওয়া উচিত❌ এড়িয়ে চলা ভালো

ফুলকপি / বাঁধাকপি

⚠️ কাঁচা নিষেধ (রান্না করে খাওয়া যাবে)✅ খাওয়া উপকারী

কফি ও চা

⚠️ ওষুধের ১ ঘণ্টা পর খাবেন❌ পুরোপুরি এড়িয়ে চলা ভালো

সামুদ্রিক মাছ

✅ খুবই উপকারী❌ কম খাওয়া ভালো

 

একটি জরুরি নিয়ম (ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে)

আপনি যদি থাইরয়েডের ওষুধ (যেমন- লেভোথাইরক্সিন) খেয়ে থাকেন, তবে প্রতিদিন সকালে একদম খালি পেটে ওষুধটি খাবেন. ওষুধ খাওয়ার অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে চা, কফি, ব্রেকফাস্ট বা অন্য কোনো খাবার খাবেন না, অন্যথায় ওষুধের কার্যকারিতা কমে যায়. 


সম্পর্কিত নিউজ