তীব্র তাপপ্রবাহে কীভাবে সুস্থ থাকবেন? অতিরিক্ত গরমে শরীরে কী ঘটে, কেন বাড়ছে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি

তীব্র তাপপ্রবাহে কীভাবে সুস্থ থাকবেন? অতিরিক্ত গরমে শরীরে কী ঘটে, কেন বাড়ছে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে গ্রীষ্মকাল যেন আগের চেয়ে আরও বেশি তীব্র হয়ে উঠেছে। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ পেরিয়ে আষাঢ়ের শুরুতেও অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাতাসে উচ্চ আর্দ্রতা, যা মানুষের শরীরের জন্য গরমকে আরও অসহনীয় করে তুলছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে তাপপ্রবাহের সংখ্যা, তীব্রতা এবং স্থায়িত্ব-তিনটিই বাড়ছে। ফলে শুধু অস্বস্তি নয়, এটি এখন একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) সতর্ক করে বলছে, বর্তমানে তাপপ্রবাহ বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি। বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতি না হলেও, অতিরিক্ত গরম প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং যারা খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

 

বাংলাদেশের চিকিৎসকেরাও বলছেন, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পানিশূন্যতা, হিট এক্সহশন, হিট স্ট্রোক, কিডনির সমস্যা, নিম্ন রক্তচাপ, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং হৃদ্‌রোগজনিত জটিলতা নিয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে শুধু পানি নয়, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইডসহ গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক মানুষ এখনও গরমকে শুধুই ঋতুগত অস্বস্তি হিসেবে দেখেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় তীব্র তাপপ্রবাহকে জনস্বাস্থ্যের একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ সময়মতো সচেতনতা না থাকলে সামান্য পানিশূন্যতা থেকেও প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি হতে পারে।

 

গরমে শরীরে আসলে কী ঘটে, কেন দ্রুত পানিশূন্যতা তৈরি হয়

মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত ৩৬.৫ থেকে ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। শরীরের তাপমাত্রা এই সীমার মধ্যে ধরে রাখতে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশ একটি ‘থার্মোস্ট্যাট’-এর মতো কাজ করে। বাইরের পরিবেশ গরম হলে শরীর ঘাম তৈরি করে এবং সেই ঘাম বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়ার মাধ্যমে শরীরকে ঠান্ডা রাখে।

 

কিন্তু যখন পরিবেশের তাপমাত্রা খুব বেশি হয় বা বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়, তখন ঘাম ঠিকমতো বাষ্পে পরিণত হতে পারে না। ফলে শরীরের ভেতরের অতিরিক্ত তাপ বের হতে পারে না। তখন শরীরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং হৃদ্‌যন্ত্রকে শরীর ঠান্ডা রাখতে আরও বেশি কাজ করতে হয়।

 

CDC-এর তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরমে শরীর ত্বকের দিকে বেশি রক্ত পাঠায়, যাতে তাপ সহজে বের হতে পারে। এর ফলে হৃদ্‌যন্ত্রকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি রক্ত পাম্প করতে হয়। যাদের আগে থেকেই হৃদ্‌রোগ বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত চাপ বিপজ্জনক হতে পারে।

 

চিকিৎসকদের মতে, গরমে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মানুষ অনেক সময় বুঝতেই পারেন না যে শরীরে ধীরে ধীরে পানির ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। তৃষ্ণা লাগা আসলে পানিশূন্যতার প্রথম নয়, বরং কিছুটা পরের লক্ষণ। অর্থাৎ তৃষ্ণা অনুভব করার আগেই শরীরে পানির ঘাটতি শুরু হয়ে যেতে পারে।

 

পানিশূন্যতা কেন শুধু পানি কমে যাওয়ার সমস্যা নয়

অনেকেই মনে করেন, পানিশূন্যতা মানে শুধু শরীরে পানি কমে যাওয়া। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বিষয়টি আরও জটিল।

 

ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে শুধু পানি নয়, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং ক্লোরাইডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রোলাইটও বেরিয়ে যায়। এই খনিজগুলো স্নায়ুর কার্যক্রম, পেশির সংকোচন, হৃদ্‌স্পন্দন এবং শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

যখন শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম বের হয় এবং সেই ক্ষতি পূরণ করা যায় না, তখন রক্তের পরিমাণ কমে যেতে শুরু করে। এতে রক্তচাপ কমে যেতে পারে, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, পেশিতে টান ধরা, হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিশূন্যতা দীর্ঘ সময় চলতে থাকলে কিডনির ওপরও চাপ পড়ে। কারণ তখন কিডনি শরীরের পানি ধরে রাখার চেষ্টা করে। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চললে কিডনির কার্যকারিতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হলে কী হতে পারে

সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম শরীরের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রোলাইট। এগুলো শুধু পানি নিয়ন্ত্রণই করে না, হৃদ্‌স্পন্দন, স্নায়ুর সংকেত এবং পেশির স্বাভাবিক কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে সোডিয়াম বের হয়ে গেলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, বিভ্রান্তি এবং গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি পর্যন্ত হতে পারে। আবার পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে পেশিতে টান ধরা, হৃদ্‌স্পন্দনে অনিয়ম এবং অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

 

WHO এবং বিভিন্ন স্পোর্টস মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করা ব্যক্তি, খেলোয়াড়, নির্মাণশ্রমিক, কৃষক এবং ট্রাফিক পুলিশের মতো পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।

 

তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত ইলেকট্রোলাইট পানীয়ও অপ্রয়োজনে খাওয়া উচিত নয়। সাধারণ সুস্থ মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি যথেষ্ট। তবে দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত ঘাম হলে ওরাল রিহাইড্রেশন সল্যুশন (ওআরএস) বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইলেকট্রোলাইটযুক্ত পানীয় উপকারী হতে পারে।

 

হিট স্ট্রোকের আগে শরীর কী কী সতর্ক সংকেত দেয়

চিকিৎসকদের মতে, হিট স্ট্রোক হঠাৎ করে হয় না। এর আগে শরীর সাধারণত বেশ কিছু সতর্ক সংকেত দেয়। কিন্তু অনেকেই এগুলোকে সাধারণ গরমের ক্লান্তি ভেবে গুরুত্ব দেন না।

 

প্রথমদিকে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, প্রচণ্ড ঘাম, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, পেশিতে টান ধরা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনেক সময় Heat Exhaustion বা তাপজনিত অবসাদ বলা হয়।

 

যদি এই অবস্থায় বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি, ঠান্ডা পরিবেশ এবং শরীর ঠান্ডা করার ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ধীরে ধীরে শরীরের তাপমাত্রা আরও বাড়তে থাকে। একসময় রোগী বিভ্রান্ত হয়ে যেতে পারেন, অসংলগ্ন কথা বলতে পারেন, হাঁটতে সমস্যা হতে পারে, বমি হতে পারে, এমনকি খিঁচুনি বা অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন। এটিই হিট স্ট্রোক।

 

CDC-এর মতে, হিট স্ট্রোক একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি। এই অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা না পেলে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি ও লিভারের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে এবং মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হয়।

 

কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবাই গরমে অসুস্থ হতে পারেন, তবে কিছু মানুষ অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

 

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের শরীর এখনও পুরোপুরি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে দক্ষ নয়। অন্যদিকে বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঘাম কম হয় এবং তৃষ্ণার অনুভূতিও অনেক সময় কমে যায়। ফলে তারা দ্রুত পানিশূন্যতায় ভুগতে পারেন।

 

গর্ভবতী নারী, হৃদ্‌রোগী, উচ্চ রক্তচাপের রোগী, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, কিডনি রোগী, স্থূল ব্যক্তি এবং যারা নিয়মিত ডাইইউরেটিক বা শরীর থেকে পানি বের করে দেয় এমন ওষুধ খান, তাদেরও অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।

 

একইভাবে রিকশাচালক, কৃষক, নির্মাণশ্রমিক, ট্রাফিক পুলিশ, ডেলিভারি কর্মী, কারখানার শ্রমিক এবং খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় কাজ করা মানুষদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। কারণ তারা দীর্ঘ সময় সূর্যের তাপে থাকেন এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম বের হয়।


গরমে দিনে আসলে কতটুকু পানি পান করা উচিত, সবার প্রয়োজন কি একই?

প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি শোনা পরামর্শগুলোর একটি হলো ‘বেশি বেশি পানি পান করুন’। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজন মানুষের ঠিক কতটুকু পানি প্রয়োজন? চিকিৎসকদের মতে, এর কোনো একক উত্তর নেই। কারণ পানির চাহিদা নির্ভর করে বয়স, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়ার তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং ব্যক্তি কতটা ঘামছেন-এসব বিষয়ের ওপর।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), যুক্তরাষ্ট্রের National Academies of Sciences এবং Mayo Clinic-এর তথ্য অনুযায়ী, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক মোট তরলের চাহিদা সাধারণত ২.৫ থেকে ৩.৭ লিটারের মধ্যে হতে পারে। তবে এই পরিমাণের মধ্যে শুধু পানি নয়, খাবার, ফল, দুধ, স্যুপ এবং অন্যান্য তরলও অন্তর্ভুক্ত থাকে। তীব্র তাপপ্রবাহ বা বাইরে দীর্ঘ সময় কাজ করলে প্রয়োজন আরও বাড়তে পারে।

 

চিকিৎসকদের মতে, অনেকেই তৃষ্ণা লাগার পর পানি পান করেন। কিন্তু এটি যথেষ্ট নয়। তৃষ্ণা লাগা মানে শরীরে ইতোমধ্যে কিছুটা পানিশূন্যতা শুরু হয়েছে। তাই গরমের দিনে অল্প অল্প করে নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। বিশেষ করে যারা বাইরে কাজ করেন, তারা নির্দিষ্ট বিরতিতে পানি পান করবেন, তৃষ্ণার জন্য অপেক্ষা করবেন না।

 

তবে অতিরিক্ত পানি পান করাও সব সময় নিরাপদ নয়। খুব অল্প সময়ে অতিরিক্ত পানি পান করলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়ে হাইপোন্যাট্রেমিয়া নামের জটিলতা দেখা দিতে পারে। যদিও এটি বিরল, তবুও চিকিৎসকেরা বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী ভারসাম্য বজায় রেখে পানি পান করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

 

শুধু পানি নাকি ওরস্যালাইনও প্রয়োজন?

গরমে ঘাম হওয়ার মাধ্যমে শরীর থেকে শুধু পানি নয়, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও অন্যান্য ইলেকট্রোলাইটও বেরিয়ে যায়। তাই অনেকেই মনে করেন, সারাদিন ওরস্যালাইন পান করা উচিত। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এটি সবার জন্য প্রয়োজনীয় নয়।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং CDC-এর পরামর্শ অনুযায়ী, সাধারণ সুস্থ ব্যক্তি যদি স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজ করেন এবং অতিরিক্ত ঘাম না হয়, তাহলে বিশুদ্ধ পানিই যথেষ্ট। তবে দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করা, ভারী শারীরিক পরিশ্রম, খেলাধুলা, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বা ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে শরীর থেকে লবণও বেরিয়ে যায়। তখন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওরস্যালাইন বা ইলেকট্রোলাইটযুক্ত পানীয় উপকারী হতে পারে।

 

বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা বলছেন, অনেকেই মনে করেন ওরস্যালাইন যত বেশি পান করা যায় তত ভালো। বাস্তবে প্রয়োজন ছাড়া বারবার ওরস্যালাইন পান করারও প্রয়োজন নেই। এতে শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রবেশ করতে পারে, যা কিছু রোগীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

 

বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত ওরস্যালাইন পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 

ডাবের পানি কি সত্যিই গরমে সবচেয়ে ভালো পানীয়?

বাংলাদেশে গরমের সময় সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পানীয়গুলোর একটি হলো ডাবের পানি। চিকিৎসকদের মতে, এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়ক হতে পারে।

 

ডাবের পানিতে প্রাকৃতিকভাবে পটাশিয়াম, কিছু পরিমাণ সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ উপাদান থাকে। ফলে এটি শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া এতে ক্যালোরিও তুলনামূলক কম।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডাবের পানি কোনো অলৌকিক পানীয় নয় এবং এটি সব ধরনের ইলেকট্রোলাইটের বিকল্পও নয়। যাদের কিডনি রোগ রয়েছে বা রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডাবের পানি ক্ষতিকর হতে পারে।

 

চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ মানুষের জন্য গরমে পরিমিত পরিমাণে ডাবের পানি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে এটি বিশুদ্ধ পানির বিকল্প নয়, বরং একটি পরিপূরক পানীয়।

 

লেবুর শরবত, তরমুজ, শসা ও মৌসুমি ফল কেন উপকারী

গরমের সময় শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে শুধু পানি নয়, পানি-সমৃদ্ধ ফলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

তরমুজে প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি পানি থাকে। পাশাপাশি এতে লাইকোপেন, ভিটামিন সি এবং কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করতে পারে। শসা, বাঙ্গি, কমলা, মাল্টা, আনারস এবং পাকা পেঁপেও শরীরে পানি ও কিছু প্রয়োজনীয় ভিটামিন সরবরাহ করে।

 

লেবুর শরবত অনেকের কাছে জনপ্রিয় একটি পানীয়। চিকিৎসকদের মতে, এতে ভিটামিন সি থাকলেও এর সবচেয়ে বড় উপকার হলো এটি মানুষকে বেশি তরল পান করতে উৎসাহিত করে। তবে অতিরিক্ত চিনি দিয়ে শরবত তৈরি করলে সেই উপকারিতা কমে যেতে পারে।

 

পুষ্টিবিদদের মতে, বাজারের কৃত্রিম ফ্লেভারযুক্ত শরবতের পরিবর্তে তাজা ফলের শরবত বা ঘরে তৈরি কম চিনিযুক্ত পানীয় বেশি স্বাস্থ্যকর।

 

চা, কফি, কোমল পানীয় ও এনার্জি ড্রিংক কি গরমে ক্ষতিকর?

গরমে অনেকেই ঠান্ডা কোমল পানীয় বা এনার্জি ড্রিংক পান করে স্বস্তি খোঁজেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এগুলোর অনেকগুলোই শরীরের জন্য খুব একটা উপকারী নয়।

 

কোমল পানীয়তে সাধারণত প্রচুর চিনি থাকে। অতিরিক্ত চিনি শুধু ওজন বাড়ায় না, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় তৃষ্ণা পুরোপুরি মেটাতে পারে না।

 

এনার্জি ড্রিংকে উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন এবং চিনি থাকতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন হৃদ্‌স্পন্দন বাড়াতে পারে এবং সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রক্তচাপেও প্রভাব ফেলতে পারে।

 

চা ও কফি নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। Mayo Clinic-এর তথ্য অনুযায়ী, পরিমিত পরিমাণে চা বা কফি পান অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য নিরাপদ। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই তীব্র গরমে এগুলো সীমিত পরিমাণে পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

গরমে কোন খাবার খাওয়া উচিত, কোনগুলো এড়িয়ে চলবেন

পুষ্টিবিদদের মতে, গরমের সময় শরীর এমন খাবার চায় যা সহজে হজম হয় এবং শরীরে অতিরিক্ত তাপ তৈরি করে না।

 

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ডাল, মাছ, কম চর্বিযুক্ত প্রোটিন, দই এবং পূর্ণ শস্য রাখা উপকারী। টকদই অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে এবং অনেকের ক্ষেত্রে হজমে সাহায্য করে।

 

অন্যদিকে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার, অতিভাজা খাবার, অতিরিক্ত ঝাল, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা রান্না করা খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

 

গরমে হালকা পরিমাণে বারবার খাওয়া অনেক সময় একবারে ভারী খাবার খাওয়ার চেয়ে ভালো হতে পারে। এতে হজমতন্ত্রের ওপর চাপ কম পড়ে।

 

গরমে কেন বাড়ে খাদ্যে বিষক্রিয়া ও হজমের সমস্যা

উচ্চ তাপমাত্রা এবং আর্দ্র পরিবেশ ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত অনুকূল। ফলে গরমের সময় খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় কক্ষ তাপমাত্রায় রেখে দিলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে মাংস, মাছ, দুধ, ডিম এবং ভাতজাতীয় খাবারে এই ঝুঁকি বেশি।

 

চিকিৎসকদের মতে, গরমে রাস্তার খোলা খাবার, দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা কাটা ফল এবং অপরিষ্কার পানিতে তৈরি শরবত থেকে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এর ফলে ডায়রিয়া, বমি, পেটব্যথা এবং দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।

 

তাই গরমের সময় নিরাপদ পানি পান করা, তাজা খাবার খাওয়া এবং রান্না করা খাবার দ্রুত খেয়ে ফেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

গরমে হজমশক্তি কেন কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে

তীব্র গরমে শরীর মূলত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বেশি শক্তি ব্যয় করে। ফলে অনেকের ক্ষুধা কমে যায় এবং ভারী খাবার খেলে অস্বস্তি হয়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গরমে শরীরের রক্তপ্রবাহের একটি অংশ ত্বকের দিকে চলে যায়, যাতে শরীর ঠান্ডা থাকতে পারে। এর ফলে হজমতন্ত্রের কার্যক্রম কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে ধীর হতে পারে।

 

এই কারণেই গরমে একবারে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে কয়েকবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পর্যাপ্ত পানি এবং আঁশসমৃদ্ধ খাবারও হজম ভালো রাখতে সহায়ক।

 

বিশুদ্ধ পানি কেন সবচেয়ে নিরাপদ পানীয়

বাজারে বিভিন্ন ধরনের ঠান্ডা পানীয় পাওয়া গেলেও চিকিৎসকদের মতে, বিশুদ্ধ পানির কোনো বিকল্প নেই।

 

বিশুদ্ধ পানি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, রক্ত সঞ্চালন, হজম, কিডনির কার্যক্রম এবং কোষের স্বাভাবিক কাজের জন্য অপরিহার্য। গরমের সময় পানি কম পান করলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং মনোযোগও কমে যেতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে বাইরে বের হলে সব সময় সঙ্গে নিরাপদ পানির বোতল রাখা উচিত। একই সঙ্গে শিশু ও বয়স্কদের নিয়মিত পানি পান করানোর বিষয়েও পরিবারের সদস্যদের সচেতন থাকতে হবে।


গরমে কেমন পোশাক পরবেন, কেন পোশাকও স্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ

তীব্র গরমে সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে শুধু পানি পান বা খাবারের দিকে নজর দিলেই হবে না, কী ধরনের পোশাক পরছেন সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), যুক্তরাষ্ট্রের Centers for Disease Control and Prevention (CDC) এবং বিভিন্ন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের সময় সঠিক পোশাক শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং হিট এক্সহশন ও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করে।

 

চিকিৎসকদের মতে, হালকা রঙের, ঢিলেঢালা এবং সুতি বা প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি পোশাক সবচেয়ে উপযোগী। সাদা, হালকা নীল, ক্রিম বা হালকা ধূসর রঙের কাপড় সূর্যের তাপ কম শোষণ করে। অন্যদিকে কালো, গাঢ় নীল বা গাঢ় বাদামি রঙের পোশাক বেশি তাপ শোষণ করে শরীরকে আরও গরম অনুভব করাতে পারে।

 

সুতি কাপড় ঘাম সহজে শোষণ করে এবং বাতাস চলাচলের সুযোগ দেয়। এতে শরীরের ঘাম দ্রুত শুকিয়ে তাপমাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিপরীতে, অনেক সিনথেটিক বা পলিয়েস্টার কাপড় ঘাম আটকে রাখে, ফলে শরীরে অস্বস্তি, ঘামাচি এবং ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করেন, তারা সম্ভব হলে পুরো হাতা হালকা রঙের সুতি পোশাক পরবেন। এতে সরাসরি সূর্যের অতিবেগুনি (UV) রশ্মির সংস্পর্শও কিছুটা কমে।

 

দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা কেন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়

আবহাওয়াবিদ এবং চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার সময় সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় শুধু তাপমাত্রাই নয়, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির তীব্রতাও অনেক বেশি থাকে।

 

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এবং CDC-এর তথ্য অনুযায়ী, এই সময় দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে শরীর দ্রুত অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে শরীরের স্বাভাবিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না।

 

চিকিৎসকদের মতে, সম্ভব হলে এ সময় অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। যদি বাইরে যেতেই হয়, তাহলে ঘন ঘন ছায়ায় বিশ্রাম নেওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং মাথা ঢেকে রাখা জরুরি।

 

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং হৃদ্‌রোগ বা কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এই সময় রোদে থাকার ঝুঁকি অনেক বেশি।

 

ছাতা, টুপি ও সানগ্লাস ব্যবহার কেন শুধু ফ্যাশন নয়, স্বাস্থ্য সুরক্ষাও

অনেকেই মনে করেন, ছাতা বা সানগ্লাস ব্যবহার শুধু রোদ এড়ানোর জন্য। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এগুলো গরমে স্বাস্থ্য সুরক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রশস্ত ছাতা সরাসরি সূর্যের তাপ মাথা ও শরীরে পড়া কমায়। একইভাবে প্রশস্ত কিনারাযুক্ত টুপি মুখ, কান ও ঘাড়কে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়।

 

চোখের চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত UV রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে চোখের কর্নিয়া, লেন্স এবং রেটিনার ক্ষতি হতে পারে। তাই UV-প্রটেকশনযুক্ত সানগ্লাস ব্যবহার করলে চোখের ওপর সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা কমানো যায়।

 

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, বাইরে দীর্ঘ সময় কাজ করলে শুধু মাথা নয়, ঘাড়ও ঢেকে রাখা উচিত। কারণ শরীরের এই অংশগুলো সরাসরি সূর্যের তাপে দ্রুত গরম হয়ে যায়।

 

রোদ থেকে এসে সঙ্গে সঙ্গে এসিতে বসা কি ক্ষতিকর?

বাংলাদেশে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, তীব্র রোদ থেকে ফিরে সঙ্গে সঙ্গে এসির ঠান্ডা বাতাসে বসলে অসুস্থ হওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা কিছুটা ভিন্ন।

 

Mayo Clinic এবং Cleveland Clinic-এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোদ থেকে এসে ঠান্ডা পরিবেশে যাওয়াটা নিজে কোনো রোগ সৃষ্টি করে না। তবে শরীর যদি অত্যন্ত গরম অবস্থায় থাকে, তাহলে হঠাৎ খুব ঠান্ডা পরিবেশে গেলে কিছু মানুষের অস্বস্তি, মাথা ঘোরা বা পেশিতে টান লাগতে পারে।

 

চিকিৎসকদের মতে, বাইরে থেকে ফিরে প্রথমে ছায়াযুক্ত বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পরিবেশে কয়েক মিনিট বিশ্রাম নেওয়া ভালো। এরপর ধীরে ধীরে ঠান্ডা পরিবেশে যাওয়া শরীরের জন্য আরামদায়ক হতে পারে।

 

একইভাবে অতিরিক্ত ঘামে ভেজা অবস্থায় খুব ঠান্ডা বাতাসের সামনে দীর্ঘ সময় বসে থাকলে কিছু মানুষের সর্দি-কাশির উপসর্গ বা পেশির অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। যদিও এসবের সঙ্গে ভাইরাস সংক্রমণের সরাসরি সম্পর্ক নেই।

 

ঘামাচি, হিট র‍্যাশ ও ত্বকের সংক্রমণ কেন বাড়ে

প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে সাধারণ ত্বকের সমস্যাগুলোর একটি হলো ঘামাচি বা হিট র‍্যাশ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে Miliaria বলা হয়। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঘামের কারণে ঘর্মগ্রন্থির ছিদ্র বন্ধ হয়ে গেলে ঘাম ত্বকের নিচে আটকে যায়। এর ফলে ছোট ছোট লাল দানা, চুলকানি, জ্বালাপোড়া এবং অস্বস্তি দেখা দেয়।

 

শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়। কারণ তাদের ঘর্মগ্রন্থি পুরোপুরি পরিপক্ব হয় না এবং তারা সহজেই অতিরিক্ত গরমে আক্রান্ত হয়।

 

গরমে দীর্ঘ সময় ভেজা বা ঘামে ভেজা কাপড় পরে থাকলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, ঘেমে গেলে যত দ্রুত সম্ভব শরীর মুছে শুকনো কাপড় পরা উচিত।

 

রোদে পোড়া (Sunburn) কতটা বিপজ্জনক হতে পারে

অনেকেই মনে করেন, রোদে পোড়া শুধু সাময়িক কালচে দাগের সমস্যা। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, অতিবেগুনি রশ্মি (UV Radiation) ত্বকের কোষের ডিএনএ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে থাকলে ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া, ফোসকা পড়া এবং ব্যথা হতে পারে। এটিই সানবার্ন।

 

World Health Organization-এর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন অতিবেগুনি রশ্মির অতিরিক্ত সংস্পর্শে থাকলে ত্বকের অকাল বার্ধক্য, বলিরেখা এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

 

চিকিৎসকদের মতে, বাইরে গেলে ছাতা ব্যবহার, প্রয়োজন হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে না থাকা সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।

 

শিশুরা কেন বেশি ঝুঁকিতে থাকে

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের শরীর এখনও পুরোপুরি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম নয়। ফলে তারা দ্রুত পানিশূন্যতা ও হিট এক্সহশনে আক্রান্ত হতে পারে।

 

শিশুরা অনেক সময় তৃষ্ণা পেলেও তা ঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে না। আবার খেলাধুলার সময় তারা দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকতে পারে, ফলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়।

 

চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের কখনোই রোদে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির ভেতরে রেখে যাওয়া উচিত নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যেতে পারে, এমনকি বাইরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও।

 

অভিভাবকদের শিশুদের বারবার পানি পান করানো, হালকা পোশাক পরানো এবং দুপুরের তীব্র রোদে খেলাধুলা সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

বয়স্ক মানুষ কেন অতিরিক্ত গরমে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমতে থাকে। বয়স্কদের অনেকের ঘাম কম হয় এবং তৃষ্ণার অনুভূতিও কম থাকে। ফলে তারা বুঝতেই পারেন না যে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

 

এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ, কিডনি রোগ বা ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা এবং নিয়মিত বিভিন্ন ওষুধ সেবনের কারণেও তাদের ঝুঁকি বাড়ে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারের সদস্যদের উচিত বয়স্ক ব্যক্তিরা নিয়মিত পানি পান করছেন কি না, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেছে কি না বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিচ্ছে কি না-এসব বিষয়ে খেয়াল রাখা।

 

গর্ভবতী নারী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের কেন বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে

গর্ভাবস্থায় শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম এবং রক্তের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে। ফলে অতিরিক্ত গরমে পানিশূন্যতা দ্রুত তৈরি হতে পারে। একইভাবে হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, হাঁপানি বা দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীর অতিরিক্ত তাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তুলনামূলক বেশি কষ্ট হয়।

 

চিকিৎসকদের মতে, এসব ব্যক্তিরা কখনোই তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা করবেন না। নিয়মিত পানি পান করবেন, দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলবেন এবং অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

 

খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষদের জন্য বিশেষ পরামর্শ

বাংলাদেশে কৃষক, নির্মাণশ্রমিক, রিকশাচালক, ট্রাফিক পুলিশ, ডেলিভারি কর্মী এবং বিভিন্ন কারখানার বাইরের শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি তাপঝুঁকিতে থাকেন। International Labour Organization (ILO) এবং WHO বলছে, তাপপ্রবাহের সময় কর্মস্থলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং ছায়াযুক্ত জায়গায় বিরতি দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

চিকিৎসকদের মতে, একটানা কাজ না করে নির্দিষ্ট বিরতিতে বিশ্রাম নেওয়া, মাথা ঢেকে রাখা, নিয়মিত পানি পান করা এবং অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা শুরু হলে সঙ্গে সঙ্গে কাজ বন্ধ করা উচিত।


হিট এক্সহশন ও হিট স্ট্রোক এক নয়, পার্থক্য জানা জীবন বাঁচাতে পারে

তীব্র গরমে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি তৈরি হয় হিট এক্সহশন (Heat Exhaustion) এবং হিট স্ট্রোক (Heat Stroke) নিয়ে। অনেকেই দুটি অবস্থাকে একই মনে করেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। হিট এক্সহশন সময়মতো চিকিৎসা পেলে সাধারণত রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন, কিন্তু চিকিৎসা না পেলে এটি দ্রুত হিট স্ট্রোকে রূপ নিতে পারে। আর হিট স্ট্রোক এমন একটি জরুরি চিকিৎসা অবস্থা, যেখানে কয়েক মিনিটের দেরিও প্রাণঘাতী হতে পারে।

 

CDC, WHO এবং Mayo Clinic-এর তথ্য অনুযায়ী, হিট এক্সহশনের সময় শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় এবং প্রচুর ঘামের মাধ্যমে শরীর পানি ও ইলেকট্রোলাইট হারায়। এ সময় রোগী সাধারণত প্রচণ্ড তৃষ্ণা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব, পেশিতে টান ধরা এবং ক্লান্তি অনুভব করেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি সচেতন থাকেন এবং কথা বলতে পারেন।

 

অন্যদিকে হিট স্ট্রোকে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হয়ে যায়। রোগী বিভ্রান্ত হয়ে যেতে পারেন, অসংলগ্ন কথা বলতে পারেন, আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে, খিঁচুনি হতে পারে অথবা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। এই অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা না পেলে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি এবং লিভারের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

 

চিকিৎসকদের মতে, হিট এক্সহশনকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। কারণ এটিই হিট স্ট্রোকের আগের ধাপ হতে পারে। তাই প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই বিশ্রাম, ঠান্ডা পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

 

হিট স্ট্রোকের কোন লক্ষণগুলোকে কখনোই অবহেলা করবেন না

চিকিৎসকদের মতে, কিছু লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি করা উচিত নয়। কারণ এগুলো শরীরের ভেতরে গুরুতর বিপদের ইঙ্গিত দিতে পারে।

 

হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর অত্যন্ত গরম অনুভূত হতে পারে। অনেকের ত্বক লাল ও শুষ্ক হয়ে যায়, যদিও পরিশ্রমজনিত হিট স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ঘাম থাকতেও পারে। এর সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, কথা জড়িয়ে যাওয়া, হাঁটতে অসুবিধা, আচরণে পরিবর্তন, বমি, খিঁচুনি অথবা অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক সময় পরিবারের সদস্যরা মনে করেন রোগী শুধু ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এই ভুল ধারণার কারণে হাসপাতালে নিতে দেরি হয়। অথচ হিট স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রথম ৩০ মিনিটকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

American College of Emergency Physicians-এর মতে, শরীরের তাপমাত্রা যত দ্রুত কমানো যায়, তত বেশি অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে স্থায়ী ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

 

কেউ গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে কী করবেন

হিট এক্সহশন বা হিট স্ট্রোকের সন্দেহ হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত শরীর ঠান্ডা করার ব্যবস্থা নেওয়া। শুধু অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করলে চলবে না; প্রাথমিক পদক্ষেপও একই সঙ্গে নিতে হবে। প্রথমেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে রোদ বা গরম পরিবেশ থেকে সরিয়ে ছায়াযুক্ত, ঠান্ডা এবং বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে নিয়ে যেতে হবে। সম্ভব হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে নেওয়া আরও ভালো।

 

এরপর শরীরের অতিরিক্ত বা আঁটসাঁট পোশাক ঢিলা করে দিতে হবে। ঘাড়, বগল, কুঁচকি এবং হাঁটুর পেছনের অংশে ভেজা তোয়ালে বা আইস প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। ফ্যানের বাতাস দিলে শরীরের তাপ দ্রুত কমতে সাহায্য করে।

 

CDC-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি রোগী সম্পূর্ণ সচেতন থাকেন এবং গিলতে সমস্যা না হয়, তাহলে ধীরে ধীরে ঠান্ডা (বরফ-ঠান্ডা নয়) পানি পান করানো যেতে পারে। তবে রোগী অচেতন, বিভ্রান্ত বা খিঁচুনি হলে মুখে কোনো খাবার বা পানি দেওয়া যাবে না।

 

গরমে অজ্ঞান হয়ে গেলে কী করবেন, কী করবেন না

তীব্র গরমে অনেকেই হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে অনেক সময় Heat Syncope বলা হয়। অতিরিক্ত গরমে রক্তনালি প্রসারিত হয়ে রক্তচাপ কমে গেলে এমনটি হতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেউ অজ্ঞান হয়ে গেলে প্রথমে তাকে সমতল জায়গায় শুইয়ে দিতে হবে এবং দুই পা সামান্য উঁচু করে রাখতে হবে, যাতে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়ে। এরপর শরীর ঠান্ডা করার ব্যবস্থা করতে হবে।

 

যদি রোগী দ্রুত জ্ঞান ফিরে পান এবং স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন, তাহলে অল্প অল্প করে পানি বা ওআরএস দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু অচেতন অবস্থায় মুখে পানি ঢেলে দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে পানি শ্বাসনালিতে ঢুকে শ্বাসরোধ হতে পারে।

 

চিকিৎসকদের মতে, রোগী জ্ঞান ফেরার পরও যদি বিভ্রান্ত থাকেন, বারবার বমি করেন বা আবার অজ্ঞান হয়ে যান, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

 

ওআরএস কখন উপকারী, কখন শুধু পানিই যথেষ্ট

গরমে অনেকেই প্রতিদিন একাধিকবার ওআরএস পান করেন। চিকিৎসকদের মতে, এটি সব সময় প্রয়োজন হয় না।

 

যদি কেউ স্বাভাবিক কাজ করেন এবং শুধু সাধারণ গরম অনুভব করেন, তাহলে বিশুদ্ধ পানি পান করাই যথেষ্ট। কিন্তু অতিরিক্ত ঘাম, দীর্ঘ সময় রোদে কাজ, ডায়রিয়া, বমি বা প্রচণ্ড দুর্বলতার ক্ষেত্রে শরীর থেকে ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যেতে পারে। তখন ওআরএস উপকারী হতে পারে।

 

WHO-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, ওআরএস নির্ধারিত অনুপাতে তৈরি করতে হবে। অতিরিক্ত গাঢ় বা অতিরিক্ত পাতলা করে তৈরি করলে কাঙ্ক্ষিত উপকার নাও পাওয়া যেতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি রোগ, হৃদ্‌রোগ বা যাদের শরীরে তরল নিয়ন্ত্রণে সমস্যা রয়েছে, তারা নিয়মিত ওআরএস গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

 

কখন জরুরি হাসপাতালে যেতে হবে

চিকিৎসকদের মতে, গরমে অসুস্থ হলে কিছু লক্ষণকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।

 

যদি শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি বেড়ে যায়, রোগী বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন, অজ্ঞান হন, খিঁচুনি শুরু হয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বারবার বমি করেন অথবা কথা বলতে সমস্যা হয়, তাহলে এটিকে জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

 

একইভাবে যদি প্রচণ্ড গরমের পর বুকব্যথা, অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দন, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা প্রস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া, তীব্র দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়, তাহলেও দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

 

চিকিৎসকদের মতে, অনেকেই বাড়িতে বিশ্রাম নিয়ে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে বলে অপেক্ষা করেন। এই দেরির কারণেই অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা বেড়ে যায়।

 

গরম নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা, যা বিপদ বাড়াতে পারে

বাংলাদেশে গরম নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো, ‘যত বেশি ঠান্ডা কোমল পানীয় পান করবেন, শরীর তত ঠান্ডা থাকবে।’ বাস্তবে অধিকাংশ কোমল পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী নয়।

 

আরেকটি ধারণা হলো, গরমে অসুস্থ ব্যক্তিকে সঙ্গে সঙ্গে বরফ-ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে দিতে হবে। চিকিৎসকদের মতে, এই পদ্ধতি সব ক্ষেত্রে উপযুক্ত নয় এবং বিশেষ করে বয়স্ক বা হৃদ্‌রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। বরং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপদভাবে শরীর ঠান্ডা করাই উত্তম।

 

অনেকে মনে করেন, তৃষ্ণা না লাগলে পানি পান করার দরকার নেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃষ্ণা লাগা পর্যন্ত অপেক্ষা করলে শরীরে ইতোমধ্যেই পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

 

আবার অনেকেই গরমে ক্লান্তিকে সাধারণ বিষয় মনে করে বিশ্রাম না নিয়ে কাজ চালিয়ে যান। অথচ এ ধরনের ক্লান্তিই অনেক সময় হিট এক্সহশনের প্রথম সতর্ক সংকেত হতে পারে।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কেন ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হতে হবে

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এবং Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC)-এর বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে।

 

বাংলাদেশও এই ঝুঁকির বাইরে নয়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক বছরে রেকর্ড তাপমাত্রা এবং দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ লক্ষ্য করা গেছে। এর ফলে কৃষি, শ্রম, শিক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপরও বড় প্রভাব পড়ছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের জন্য শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে নয়, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রশাসনকেও তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, ছায়াযুক্ত বিশ্রামকেন্দ্র, সচেতনতামূলক প্রচার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।


শিশু, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীরা কেন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন

তীব্র তাপপ্রবাহ সবার জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হলেও কিছু জনগোষ্ঠীর জন্য এর প্রভাব অনেক বেশি মারাত্মক হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), যুক্তরাষ্ট্রের Centers for Disease Control and Prevention (CDC) এবং যুক্তরাজ্যের National Health Service (NHS) বলছে, শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীর অতিরিক্ত তাপের সঙ্গে অন্যদের তুলনায় কম মানিয়ে নিতে পারে। ফলে তাদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা, হিট এক্সহশন, হিট স্ট্রোক এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি অনেক বেশি।

 

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের শরীর এখনও পুরোপুরি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম নয়। তারা দ্রুত ঘামলেও শরীরের তাপ ঠিকভাবে বের করতে পারে না। আবার অনেক সময় তারা তৃষ্ণা পেলেও তা বুঝিয়ে বলতে পারে না। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের নিয়মিত পানি পান করানো, হালকা সুতি পোশাক পরানো এবং দুপুরের তীব্র রোদে খেলাধুলা সীমিত রাখা অত্যন্ত জরুরি।

 

বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেকের তৃষ্ণা কম লাগে, আবার অনেকেই উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভুগে থাকেন। এসব কারণে গরমের সময় তাদের শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারের সদস্যদের উচিত বয়স্কদের নিয়মিত পানি পান, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং অস্বাভাবিক দুর্বলতার লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা।

 

গর্ভাবস্থায় নারীদের শরীরে রক্তের পরিমাণ এবং বিপাকীয় কার্যক্রম স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে। তাই অতিরিক্ত গরমে তারা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘ সময় রোদে থাকা, পর্যাপ্ত পানি না পান করা বা অতিরিক্ত পরিশ্রম গর্ভাবস্থার বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই চিকিৎসকেরা গর্ভবতী নারীদের দিনের সবচেয়ে গরম সময় বাইরে না যাওয়ার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল গ্রহণের পরামর্শ দেন।

 

ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, কিডনি রোগ ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য কেন বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন

দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা মানুষের শরীর অতিরিক্ত গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তুলনামূলকভাবে বেশি কষ্ট হয়। বিশেষ করে হৃদ্‌রোগীদের ক্ষেত্রে গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে হৃদ্‌যন্ত্রকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি কাজ করতে হয়। ফলে বুকে অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট কিংবা হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

 

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরমে শরীরে পানির ঘাটতি দ্রুত তৈরি হতে পারে। আবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর ক্ষতির কারণে অনেক রোগী গরমের প্রভাবও কম অনুভব করেন, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

 

কিডনি রোগীদের জন্য পানিশূন্যতা বিশেষভাবে বিপজ্জনক। কারণ শরীরে পানি কমে গেলে কিডনির রক্তপ্রবাহ কমে যায় এবং কিডনির কার্যকারিতা আরও খারাপ হতে পারে। তবে আবার সব কিডনি রোগীর বেশি পানি পান করাও নিরাপদ নয়। তাই তারা চিকিৎসকের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী তরল গ্রহণ করবেন।

 

উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে পানির পরিমাণ কমে গেলে রক্তচাপের ওঠানামা হতে পারে। এছাড়া কিছু রক্তচাপের ওষুধ শরীর থেকে পানি বের করে দেয়, ফলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

 

গরমে কিছু ওষুধ সেবনকারীদের কেন বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে

চিকিৎসকদের মতে, কিছু ওষুধ শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং পানির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন-ডাইইউরেটিক বা প্রস্রাব বাড়ায় এমন ওষুধ, কিছু উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, কিছু মানসিক রোগের ওষুধ, অ্যান্টিহিস্টামিন এবং নির্দিষ্ট কিছু স্নায়ুবিষয়ক ওষুধ গরমে শরীরের প্রতিক্রিয়া পরিবর্তন করতে পারে।

 

এর অর্থ এই নয় যে এসব ওষুধ বন্ধ করে দিতে হবে। বরং গরমের সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে এবং শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধের মাত্রা কমানো বা বন্ধ করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ এতে মূল রোগ আরও জটিল হয়ে যেতে পারে।

 

বাইরে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নির্দেশনা

বাংলাদেশে লাখো মানুষ প্রতিদিন খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন। কৃষক, নির্মাণশ্রমিক, রিকশাচালক, ট্রাফিক পুলিশ, ডেলিভারি কর্মী, সড়ক নির্মাণকর্মী এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার বাইরের শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি তাপঝুঁকিতে থাকেন।

 

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এবং WHO বলছে, তাপপ্রবাহের সময় কর্মক্ষেত্রে কিছু মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। যেমন-নিয়মিত বিরতির ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল এবং সম্ভব হলে দিনের সবচেয়ে গরম সময় ভারী কাজ কমিয়ে দেওয়া।

 

চিকিৎসকদের মতে, যারা দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করেন তারা একটানা কাজ না করে নির্দিষ্ট বিরতিতে বিশ্রাম নেবেন। শরীর অতিরিক্ত গরম লাগলে জোর করে কাজ চালিয়ে না গিয়ে দ্রুত ছায়াযুক্ত স্থানে চলে আসবেন। নতুন কোনো শ্রমিককে একেবারে শুরু থেকেই দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করানো উচিত নয়; ধীরে ধীরে শরীরকে গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই প্রক্রিয়াকে Heat Acclimatization বলা হয়।

 

পরিবারের সবাইকে কীভাবে নিরাপদ রাখবেন

তাপপ্রবাহের সময় শুধু নিজের নয়, পরিবারের অন্য সদস্যদের দিকেও নজর রাখা জরুরি। বিশেষ করে একা বসবাসকারী বয়স্ক ব্যক্তি, ছোট শিশু এবং অসুস্থ মানুষের খোঁজ নিয়মিত নেওয়া প্রয়োজন।

 

বাসার ভেতরে যতটা সম্ভব বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। দিনের সবচেয়ে গরম সময় জানালায় পর্দা ব্যবহার করে সরাসরি রোদ কমানো যেতে পারে। রাতে তাপমাত্রা কমে গেলে জানালা খুলে ঘরের বাতাস পরিবর্তন করা উপকারী হতে পারে।

 

পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত পানি পান করতে মনে করিয়ে দেওয়া, ফ্রিজে সংরক্ষিত নিরাপদ পানি রাখা, সহজপাচ্য খাবার খাওয়া এবং শিশুদের দীর্ঘ সময় বাইরে খেলতে না দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে পোষা প্রাণীর প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাদের জন্যও পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং দীর্ঘ সময় রোদে রাখা যাবে না।

 

তাপপ্রবাহে কী করবেন, কী করবেন না

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে কার্যকর বিষয় হলো আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া। ঘর থেকে বের হওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেওয়া, সঙ্গে পানির বোতল রাখা, হালকা পোশাক পরা এবং দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে নির্দিষ্ট বিরতিতে বিশ্রাম নেওয়া উচিত।

 

অন্যদিকে কিছু কাজ কখনোই করা উচিত নয়। তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা করা, অতিরিক্ত কোমল পানীয় বা অ্যালকোহল পান করা, দীর্ঘ সময় বন্ধ গাড়ির ভেতরে শিশু বা বয়স্ক কাউকে রেখে যাওয়া, প্রচণ্ড গরমে ভারী ব্যায়াম করা কিংবা অসুস্থ বোধ করার পরও কাজ চালিয়ে যাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

 

চিকিৎসকদের মতে, কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার লক্ষণকে অবহেলা না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

বিশেষজ্ঞদের শেষ পরামর্শ: গরমকে হালকাভাবে নেবেন না

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, CDC, WMO, Mayo Clinic, Cleveland Clinic এবং NHS-সব সংস্থাই একমত যে তাপপ্রবাহ এখন শুধু মৌসুমি অস্বস্তির বিষয় নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সংকট। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী বছরগুলোতে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এখন থেকেই ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজ-সব পর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

 

চিকিৎসকদের মতে, গরমে সুস্থ থাকার জন্য কোনো একটি ম্যাজিক সমাধান নেই। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, প্রয়োজন হলে ওআরএস গ্রহণ, দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা, হালকা সুতি পোশাক পরা, শরীর ঠান্ডা রাখা এবং অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণ চিনতে পারাই সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।

 

তারা আরও বলেন, হিট স্ট্রোকের মতো জরুরি অবস্থা প্রতিরোধযোগ্য। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত। অস্বাভাবিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, অতিরিক্ত শরীর গরম হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

 

বর্তমান সময়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বাংলাদেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত গরম শুধু অস্বস্তির কারণ নয়; এটি পানিশূন্যতা, ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা, খাদ্যে বিষক্রিয়া, ত্বকের সমস্যা, কিডনির জটিলতা, হৃদ্‌রোগ এবং হিট স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী অবস্থার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং খোলা আকাশের নিচে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকলেও সচেতনতার অভাবে যে কেউ এই বিপদের মুখোমুখি হতে পারেন।

 

তবে আশার বিষয় হলো, তাপপ্রবাহজনিত অধিকাংশ স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিয়মিত বিশুদ্ধ পানি পান করা, শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সচেতন থাকা, নিরাপদ ও হালকা খাবার খাওয়া, দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা, আরামদায়ক পোশাক পরা, পরিবারের ঝুঁকিপূর্ণ সদস্যদের প্রতি বিশেষ নজর রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে গুরুতর জটিলতা অনেকটাই এড়ানো যায়।

 

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, "তাপপ্রবাহকে অবহেলা নয়, সম্মান করতে শিখতে হবে। কারণ গরমের ক্ষতি অনেক সময় নীরবে শুরু হয়, কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে তার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।" তাই নিজের এবং পরিবারের সবার নিরাপত্তার জন্য আজ থেকেই গরম মোকাবিলার স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই হবে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।


সম্পর্কিত নিউজ