{{ news.section.title }}
গরমে কেন বাড়ে চুল পড়া, কীভাবে মিলবে সমাধান?
গ্রীষ্ম মৌসুমে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল পড়ার প্রবণতাও বেড়ে যায়-এমনটাই জানাচ্ছেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও হেয়ার কেয়ার বিশেষজ্ঞরা। অতিরিক্ত ঘাম, বাতাসে ধুলাবালির উপস্থিতি এবং মাথার ত্বকের আর্দ্রতার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রখর রোদে দীর্ঘসময় বাইরে থাকলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ঘামের কারণে মাথার ত্বকে আর্দ্রতা জমে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, যা সরাসরি চুল পড়ার হার বাড়িয়ে দেয়। গরমে বাইরে বের হওয়া মানেই ঘাম ও আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাব। এই পরিস্থিতিতে স্ক্যাল্পে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়, যা চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে। অনেকেই মনে করেন বর্ষাকালে চুল পড়া বেশি হয়-যা আংশিক সত্য। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র গরমেও একই ধরনের সমস্যা সমানভাবে দেখা যায়।
চুল পড়ার পেছনে যেসব কারণ কাজ করে
গবেষণা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গরমে চুল পড়ার পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করে-
- উচ্চ তাপমাত্রা: অতিরিক্ত গরম চুলের প্রাকৃতিক তেল ও আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়, ফলে চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে
- অতিরিক্ত ঘাম: স্ক্যাল্পে ঘাম জমে চুলের গোড়া নরম করে দেয় এবং চুল সহজেই পড়ে যায়
- ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ: আর্দ্র পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস দ্রুত বৃদ্ধি পায়
- পানিশূন্যতা: শরীরে পানির অভাব হলে চুল প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না
- ধুলাবালি ও দূষণ: বাইরে থেকে জমে থাকা ময়লা স্ক্যাল্পের ছিদ্র বন্ধ করে দেয়
এই সব কারণ মিলেই গ্রীষ্মকালে চুল পড়ার সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে।
প্রতিরোধে কী করতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা
চুলের ক্ষতি কমাতে কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে বের হলে ছাতা, স্কার্ফ বা টুপি ব্যবহার করলে চুল অনেকটাই সুরক্ষিত থাকে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে চুলের পুষ্টিও বজায় থাকে।
চুল পরিষ্কারের ক্ষেত্রেও সচেতনতা প্রয়োজন। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন হালকা শ্যাম্পু ব্যবহার করে স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখতে বলা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত পণ্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ এগুলো চুলকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে।
ঘুমের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা চুল পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত কাঠের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ালে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং স্ক্যাল্প সুস্থ থাকে।
ঘরোয়া যত্নেও মিলতে পারে সমাধান
মেথি ও নারিকেল তেল
মেথি সারারাত ভিজিয়ে বেটে নারিকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথায় লাগান। ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এতে থাকা প্রোটিন ও নিকোটিনিক অ্যাসিড চুলের গোড়া শক্ত করে।
পেঁয়াজের রস
পেঁয়াজের রসে থাকা সালফার চুলের পুনর্গঠনে সহায়তা করে। সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করলে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
অ্যালোভেরা জেল
অ্যালোভেরা স্ক্যাল্পের জ্বালাপোড়া কমায় এবং পিএইচ ভারসাম্য ঠিক রাখে। সরাসরি জেল ব্যবহার করে ৩০–৪০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
টকদই ও লেবুর রস
টকদই প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। এর সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করলে খুশকি কমে এবং চুলের গোড়া মজবুত হয়।
আমলকির রস
ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ আমলকি কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়। নারিকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ম্যাসাজ করলে চুল পড়া কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাহ্যিক যত্ন নিলেই হবে না-খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, ভিটামিন-সি এবং আয়রনসমৃদ্ধ খাদ্য নিয়মিত খেলে চুলের পুষ্টি নিশ্চিত হয়। ডিম, মাছ, ডাল, সবুজ শাকসবজি, ফলমূল-এসব খাবার চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমে চুল পড়া একটি স্বাভাবিক সমস্যা হলেও এটি অবহেলা করার মতো নয়। সঠিক যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই গ্রীষ্মকালে চুলের বাড়তি যত্ন নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।