{{ news.section.title }}
পাঁচ হাজার মুসলিম ভারত ছাড়া: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
ভারতের বিরুদ্ধে জাতিগত বাঙালি মুসলমানদের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশ সীমান্তে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই ধরনের ‘পুশব্যাক’ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এ ধরনের পদক্ষেপের শিকার হয়েছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের যথাযথ বিচারিক বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকায় মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নারী, শিশু ও পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ সময় শূন্যরেখায় আটকে থাকার ঘটনাও ঘটেছে। একটি ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় কয়েকটি পরিবার প্রায় ৭৫ ঘণ্টা ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে অবস্থান করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ বলছে, অবৈধ অভিবাসী শনাক্তকরণের নামে অনেক ক্ষেত্রে মানুষের নাগরিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও আটক করা এবং পর্যাপ্ত আইনি সহায়তা ছাড়া বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রকৃত নাগরিকরাও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, কোনো ব্যক্তিকে তার নাগরিকত্ব বা আইনগত অবস্থান যাচাই ছাড়া জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ মানবিক ও কূটনৈতিক উভয় দিক থেকেই জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সীমান্তে ‘পুশব্যাক’ কার্যক্রম বন্ধ করতে এবং যেসব মানুষ সীমান্ত এলাকায় আটকা পড়েছেন তাদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।