ইতিহাস গড়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়, কে হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী?

ইতিহাস গড়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়, কে হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী?
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে ইতিহাস সৃষ্টি করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৬টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে নরেন্দ্র মোদি-র নেতৃত্বাধীন গেরুয়া শিবির। যেখানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮১টি আসন। রাজ্যজুড়ে এখন বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চলছে বিজয় উল্লাস।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, আজ আমরা ভারতের রাজনীতিতে আরেকটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী। বর্তমানে দেশে এমন কোনো রাজ্য নেই যেখানে কমিউনিস্ট পার্টির সরকার রয়েছে। এটি শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং মতাদর্শেরও পরিবর্তন। জোড়াফুল বনাম পদ্মফুলের এই লড়াইয়ের পর প্রায় ১৫ বছর পর বাংলায় পতন ঘটলো তৃণমূলের। পশ্চিমবঙ্গে বিজয়ের পতাকা ওড়ালো বিজেপি।

 

নিজ আসনে পরাজিত মমতা

পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর দ্বিতীয়বারের মতো নিজের আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হলেন শুভেন্দু অধিকারী-র কাছে। ভবানীপুরে বড় জয় পাওয়ার পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও জয়লাভ করেছেন শুভেন্দু। ভবানীপুর কেন্দ্রে ২০ দফা গণনা শেষে ১৫,১১৪ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান মমতা। সেখানে শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৭৩,৪৬৩ ভোট, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮,৩৪৯ ভোট।

 

অন্যদিকে, বিজেপির বিরুদ্ধে ১০০-রও বেশি আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, বিজেপি ১০০-র বেশি আসনে ভোট চুরি করেছে এবং নির্বাচন কমিশন কার্যত বিজেপির হয়ে কাজ করছে। তিনি সিইও ও মনোজ আগরওয়ালের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তার দাবি, এটি একটি অনৈতিক জয়।

 

কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী?

এখন প্রশ্ন উঠছে-পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কে দায়িত্ব নেবেন? এই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারী-কে। তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও প্রভাব উল্লেখযোগ্য। পূর্বে তৃণমূল সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন তিনি।

 

এই দৌড়ে রয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আরএসএস ভাবধারায় গড়ে ওঠা এই অভিজ্ঞ নেতা সমাজের বিভিন্ন স্তরে দলের ভিত্তি মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি রাজ্যসভার সদস্য এবং গত কয়েক বছরে রাজ্যে বিজেপির শক্তি বৃদ্ধিতে তার অবদান উল্লেখযোগ্য।

 

প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এখনও কর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয়। তার নেতৃত্বেই ২০১৯ লোকসভা ও ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়। এবারের নির্বাচনে তিনি খড়গপুর সদর থেকে লড়ছেন। এই প্রতিযোগিতায় রয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, যিনি মাথাভাঙ্গা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও, আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক ও দলের রাজ্য সহ-সভাপতি অগ্নিমিত্রা পাল-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন আন্দোলন ও প্রচারে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে তিনি নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

রাজ্যসভার প্রাক্তন সদস্য রূপা গাঙ্গুলী-ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম। শহরাঞ্চলের ভোটারদের মধ্যে তার প্রভাব রয়েছে। এবারে তিনি সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।


সম্পর্কিত নিউজ