শুধু থালাপতি বিজয় নন, নির্বাচনে জিতলেন তার গাড়িচালকের ছেলে!

শুধু থালাপতি বিজয় নন, নির্বাচনে জিতলেন তার গাড়িচালকের ছেলে!
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে চমক দেখিয়েছে জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় থালাপতির রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্রি কালাগাম বা টিভিকে। নিজের প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষাতেই দলটি রাজ্যের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। তবে শুধু বিজয়ের জয় নয়, এবারের নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন তার দীর্ঘদিনের সহযোগী ও ব্যক্তিগত গাড়িচালক রাজেন্দ্রনের ছেলে আর. শবরীনাথনও।

তামিলনাড়ুর ভিরুগামবাক্কাম আসনে টিভিকে প্রার্থী হিসেবে লড়ে বড় জয় পেয়েছেন শবরীনাথন। তিনি ক্ষমতাসীন ডিএমকের বিদায়ী বিধায়ক এ এম ভি প্রভাকর রাজাকে ২৭ হাজার ৮৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। নির্বাচনী ফল অনুযায়ী, শবরীনাথন পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৯২ ভোট। অন্যদিকে ডিএমকে প্রার্থী প্রভাকর রাজা পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৬ ভোট। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে নেমে ক্ষমতাসীন দলের একজন বিদায়ী বিধায়ককে এমন ব্যবধানে হারানোয় তামিল রাজনীতিতে এখন অন্যতম আলোচিত মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি।

 

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ বছর বয়সী শবরীনাথন বিজয়ের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাজেন্দ্রনের ছেলে। বিজয়ের রাজনৈতিক দল টিভিকে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে শুধু পরিচিত রাজনীতিকদের ওপর নির্ভর করেনি; বরং তার দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক, ভক্তভিত্তিক শক্তি ও ব্যক্তিগত আস্থার জায়গা থেকেও নতুন মুখ সামনে এনেছে। শবরীনাথনের জয় সেই কৌশলেরই একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

এই জয়ের পেছনে বিজয়ের ব্যাপক জনপ্রিয়তা বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চলচ্চিত্রের পর্দায় দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা, তরুণ ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে টিভিকের প্রচারণা-সব মিলিয়ে দলটি প্রথম নির্বাচনেই শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। ভিরুগামবাক্কামের মতো শহুরে আসনে শবরীনাথনের জয় দেখিয়েছে, বিজয়ের রাজনৈতিক প্রভাব শুধু তার নিজের আসনেই সীমাবদ্ধ নয়; দলীয় প্রতীক ও নেতৃত্বের প্রভাব অন্য প্রার্থীদের জয়ের ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখছে।

 

তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। এবারের নির্বাচনে বিজয়ের দল টিভিকে ১০৮টি আসনে জয় পেয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের ফলাফলে উঠে এসেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসন থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও প্রথম নির্বাচনে এমন ফলাফল তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজ্যটির রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে ঘিরে আবর্তিত হলেও এবার টিভিকে সেই পুরোনো দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

 

এবারের নির্বাচনে বিজয় নিজেও একাধিক আসনে শক্তিশালী ফল করেছেন। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তিনি পেরামবুর ও ত্রিচি ইস্ট-দুই আসনেই জয় পেয়েছেন। ত্রিচি ইস্ট আসনে তিনি ডিএমকের বিদায়ী বিধায়ক ইনিগো ইরুদয়ারাজকে ২৭ হাজার ৪১৬ ভোটে হারান। সেখানে বিজয় পেয়েছেন ৯১ হাজার ৩৮১ ভোট, আর ডিএমকে প্রার্থী পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৯৬৫ ভোট।

 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজয়ের দল তরুণ ভোটার, নিম্নআয়ের মানুষ এবং শহুরে মধ্যবিত্তের একটি অংশের সমর্থন টানতে পেরেছে। সিনেমার জনপ্রিয়তাকে রাজনৈতিক সংগঠনে রূপান্তর করা সহজ কাজ নয়, তবে টিভিকে সেই জায়গায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। বিশেষ করে শবরীনাথনের মতো তুলনামূলক নতুন মুখের জয় প্রমাণ করছে, দলীয় নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা এবং মাঠপর্যায়ের প্রচারণা একসঙ্গে কাজ করলে প্রতিষ্ঠিত প্রার্থীদেরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।

 

শবরীনাথনের জয়কে টিভিকের ‘গ্রাসরুটস কানেকশন’ বা তৃণমূলভিত্তিক সংযোগের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কারণ তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক পরিবারের কেউ নন। বরং বিজয়ের ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডল থেকে উঠে আসা একজন নতুন প্রার্থী হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের অভিজ্ঞ নেতাকে হারিয়েছেন। এই ফল তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন সামাজিক প্রতিনিধিত্বের আলোচনাও সামনে এনেছে।


সম্পর্কিত নিউজ